করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি
jugantor
করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি
প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। গত সোমবার সংক্রমণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা একদিনের হিসাবে সর্বোচ্চ। বস্তুত পরীক্ষার হার যত বাড়ছে, সংক্রমণও তত বাড়ছে।

তবে করোনা উপসর্গ নিয়েও মৃত্যু হয়েছে অনেকের, যাদের করোনায় সংক্রমণ ও করোনায় মৃত্যুর হিসাবে রাখা হয়নি। ধারণা করা যায়, তারাও পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে সংক্রমণের হার আরও বেশি হতো। তাছাড়া দেশে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও সীমিত। ব্যাপক আকারে পরীক্ষা হলে সংক্রমণের হিসাব নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। মোট কথা, দেশে করোনা সংক্রমণের হার এখনও ঊর্ধ্বমুখী।

এটি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে, তা কেউ জানে না। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা যায়, সেসব দেশে প্রথমদিকে করোনা সংক্রমণের হার কম থাকলেও পরে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

কাজেই আমাদের দেশে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তা সবার জন্যই একটি সতর্কবার্তা। উদ্বেগের বিষয় হল, নমুনা পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ সময় মানুষ ব্যাপকভাবে গ্রামের বাড়ি গেলে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়বে। তাছাড়া কোরবানির পশুর হাটের কারণেও সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা ব্যাপক।

বস্তুত করোনা মোকাবেলায় প্রথমেই জোর দেয়া দরকার এর সংক্রমণ প্রতিরোধে। লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি এখন সবারই জানা।

এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। তবে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলো কতটা কার্যকর ও পর্যাপ্ত, এ বিষয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষত বাজারে প্রচুর ভেজাল ও নিম্নমানের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিক্রি হচ্ছে। এটা প্রতিরোধ করতে হবে কঠোরভাবে। এর পরে আসে করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং এ রোগে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং এ রোগে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে এখনও মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বস্তুত দেশে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা চলছে, তাতে করোনা মোকাবেলায় দ্রুত সাফল্য অর্জন কঠিন।

বর্তমানে মূলত তারাই পরীক্ষা করাতে আসছেন, যাদের করোনা উপসর্গ রয়েছে। যাদের উপসর্গ নেই, তারা পরীক্ষা করানোর কথা ভাবছেনই না। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত ৮০ শতাংশ মানুষেরই কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পরীক্ষা না করানোর কারণে এই ৮০ শতাংশ মানুষকে পৃথক করা বা চিকিৎসার আওতায় আনা হয় না। ফলে তাদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়।

করোনার চিকিৎসা প্রসঙ্গে বলতে হয়, আমাদের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা নাজুক। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বস্তুত করোনার পরীক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা পর্যন্ত কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরকে এসব সীমাবদ্ধতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সচেতনতা, সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি

প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৫ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। গত সোমবার সংক্রমণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা একদিনের হিসাবে সর্বোচ্চ। বস্তুত পরীক্ষার হার যত বাড়ছে, সংক্রমণও তত বাড়ছে।

তবে করোনা উপসর্গ নিয়েও মৃত্যু হয়েছে অনেকের, যাদের করোনায় সংক্রমণ ও করোনায় মৃত্যুর হিসাবে রাখা হয়নি। ধারণা করা যায়, তারাও পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে সংক্রমণের হার আরও বেশি হতো। তাছাড়া দেশে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও সীমিত। ব্যাপক আকারে পরীক্ষা হলে সংক্রমণের হিসাব নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। মোট কথা, দেশে করোনা সংক্রমণের হার এখনও ঊর্ধ্বমুখী।

এটি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে, তা কেউ জানে না। ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা যায়, সেসব দেশে প্রথমদিকে করোনা সংক্রমণের হার কম থাকলেও পরে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

কাজেই আমাদের দেশে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তা সবার জন্যই একটি সতর্কবার্তা। উদ্বেগের বিষয় হল, নমুনা পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ সময় মানুষ ব্যাপকভাবে গ্রামের বাড়ি গেলে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়বে। তাছাড়া কোরবানির পশুর হাটের কারণেও সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা ব্যাপক।

বস্তুত করোনা মোকাবেলায় প্রথমেই জোর দেয়া দরকার এর সংক্রমণ প্রতিরোধে। লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি এখন সবারই জানা।

এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। তবে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলো কতটা কার্যকর ও পর্যাপ্ত, এ বিষয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষত বাজারে প্রচুর ভেজাল ও নিম্নমানের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিক্রি হচ্ছে। এটা প্রতিরোধ করতে হবে কঠোরভাবে। এর পরে আসে করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং এ রোগে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং এ রোগে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে এখনও মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বস্তুত দেশে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা চলছে, তাতে করোনা মোকাবেলায় দ্রুত সাফল্য অর্জন কঠিন।

বর্তমানে মূলত তারাই পরীক্ষা করাতে আসছেন, যাদের করোনা উপসর্গ রয়েছে। যাদের উপসর্গ নেই, তারা পরীক্ষা করানোর কথা ভাবছেনই না। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত ৮০ শতাংশ মানুষেরই কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পরীক্ষা না করানোর কারণে এই ৮০ শতাংশ মানুষকে পৃথক করা বা চিকিৎসার আওতায় আনা হয় না। ফলে তাদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়।

করোনার চিকিৎসা প্রসঙ্গে বলতে হয়, আমাদের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা নাজুক। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বস্তুত করোনার পরীক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা পর্যন্ত কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরকে এসব সীমাবদ্ধতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সচেতনতা, সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস