প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ

অপচয় বন্ধের পদক্ষেপ নিন

  সম্পাদকীয় ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্প বাস্তবায়নে খুব একটা অগ্রগতি না থাকলেও বিশ্বব্যাপী করোনা দুর্যোগের এ সময়ে ‘পুকুর ও খাল উন্নয়ন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাওয়ার ছক সাজাচ্ছেন ৪৮ কর্মকর্তা। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এক্ষেত্রে মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ২৪ জনের সংস্থান থাকলেও তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

আর এজন্য এ খাতে মূল অনুমোদিত বরাদ্দ ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটিতে বাড়ানো হচ্ছে বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যয় বাড়ছে এ খাতেও। উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার বিভাগ জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদে সারা দেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য হাতে নেয়। প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ২০০০ কিলোমিটার খাল এবং ২১০০ একর প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর বা দীঘি পুনঃখনন করে ভূ-উপরিস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি করা।

এ ছাড়াও এগুলো বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকার ও দরিদ্রদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। শুরুতে এ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বছর সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং এজন্য প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে অন্তত ৩১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা অনভিপ্রেত।

করোনার প্রভাবে রাজস্ব আদায়ের গতি শ্লথ হওয়ায় সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন সংকটের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে সরকার। অথচ দেখা যাচ্ছে, সুবিধাভোগীরা এদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের ‘ধান্ধা’ হাসিলের তালে রয়েছেন, যা রোধ করা প্রয়োজন। গত আড়াই বছরে মাত্র ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্পটির গতি বাড়ানোয় মনোযোগ না দিয়ে বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে বিদেশ সফরের নামে টাকা লুটপাটের বন্দোবস্ত নিঃসন্দেহে বড় ধরনের অপতৎপরতা। এর লাগাম দ্রুত টেনে ধরাই যুক্তিযুক্ত।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর তা নির্দিষ্ট মেয়াদকালে শেষ করা না গেলে কিংবা অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেকে গেলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও হয়রানির মাত্রাও বাড়ে। কেবল উল্লিখিত প্রকল্পটিই নয়; সরকার গৃহীত অন্য প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও সব ধরনের অপচয় বন্ধের পাশাপাশি যথাসময়ে তার শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত