অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক
jugantor
অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক
বরিশালসহ গোটা দেশে শুদ্ধি অভিযান দরকার

  সম্পাদকীয়  

২৭ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল বিভাগে ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট সাড়ে ৯শ’টির বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৩শ’ প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বাকিগুলোর কাগজপত্র হয় মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে।
ফাইল ছবি

বরিশাল বিভাগে ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট সাড়ে ৯শ’টির বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৩শ’ প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বাকিগুলোর কাগজপত্র হয় মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে।

বৈধ কাগজপত্রহীন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের সেবাপ্রাপ্তির চেয়ে হয়রানি পোহাতে হয় বেশি। আর হবেই না বা কেন, যেখানে খোদ রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতাল-ক্লিনিকের বৈধ লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র নেই; সেখানে মফস্বলে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা যে আরও বেশি খারাপ হবে তা বলাই বাহুল্য।

উদ্বেগের বিষয়, লাইসেন্স ও ভ্যালিড কাগজপত্র নেই, অন্যদিকে তারা যে ভালো সেবা দিচ্ছে তা-ও নয়। অনেক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে নেই ন্যূনতম ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। চিকিৎসা না দিয়ে যেনতেনভাবে মানুষের গলা কেটে ব্যবসা করাই যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

এজন্য ভুয়া ডাক্তার, এমনকি মৃত ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছে নানা রিপোর্ট। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলেও সম্প্রতি ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়া এবং তাদের বৈধ কাগজের ঘাটতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতন হয়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে ৭ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে; পাশাপাশি কাগজপত্র হালনাগাদের কাজও শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতের সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

কেবল বরিশালই নয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম- দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলা শহরগুলোতে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ হাসপাতাল, ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরই একই অবস্থা- হয় অনুমোদনহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজে চলছে।

অথচ সব বিভাগেই বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদ রয়েছে এবং সেখানে কর্মরত যথেষ্ট লোকবলও আছে; কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এসব রক্ষকের অনেকেই ভক্ষকের ভূমিকা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মাসোহারা নিয়ে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো চলার সুযোগ করে দেয়।

এভাবে আমরা নিজেরাই আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে রুগ্ণ করে তুলেছি, যার কুফল করোনাকালে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের শীর্ষ থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

এটা সত্য, সরকারি নিয়ন্ত্রকদের কঠোর মনোভাব ও নিয়মনীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন বেসরকারি খাতের দুর্নীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু আমাদের বাস্তবতা হচ্ছে- কেনাকাটা, টেন্ডার, সেবা, নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে কী ধরনের দুর্নীতি হয়, বিস্তারিত তুলে ধরে সেগুলো বন্ধের সুপারিশসহ দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন পাঠালেও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বস্তুত, অসমর্থ রোগীদের কষ্ট ও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া এবং সামর্থ্যবানদের সামান্য চিকিৎসার জন্যও বিদেশমুখী হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় রয়েছে। আমরা মনি করি, স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারের এখনই সময়। নিয়মনীতির আওতায় আনা দরকার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে। করোনাকালে মানুষের ভোগান্তি ও উন্মোচিত স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম থেকে এ শিক্ষা নিতেই হবে।

অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক

বরিশালসহ গোটা দেশে শুদ্ধি অভিযান দরকার
 সম্পাদকীয় 
২৭ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল বিভাগে ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট সাড়ে ৯শ’টির বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৩শ’ প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বাকিগুলোর কাগজপত্র হয় মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে।
ফাইল ছবি

বরিশাল বিভাগে ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট সাড়ে ৯শ’টির বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৩শ’ প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বাকিগুলোর কাগজপত্র হয় মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে।

বৈধ কাগজপত্রহীন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের সেবাপ্রাপ্তির চেয়ে হয়রানি পোহাতে হয় বেশি। আর হবেই না বা কেন, যেখানে খোদ রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতাল-ক্লিনিকের বৈধ লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র নেই; সেখানে মফস্বলে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা যে আরও বেশি খারাপ হবে তা বলাই বাহুল্য।

উদ্বেগের বিষয়, লাইসেন্স ও ভ্যালিড কাগজপত্র নেই, অন্যদিকে তারা যে ভালো সেবা দিচ্ছে তা-ও নয়। অনেক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে নেই ন্যূনতম ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। চিকিৎসা না দিয়ে যেনতেনভাবে মানুষের গলা কেটে ব্যবসা করাই যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

এজন্য ভুয়া ডাক্তার, এমনকি মৃত ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছে নানা রিপোর্ট। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলেও সম্প্রতি ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়া এবং তাদের বৈধ কাগজের ঘাটতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতন হয়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে ৭ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে; পাশাপাশি কাগজপত্র হালনাগাদের কাজও শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতের সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

কেবল বরিশালই নয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম- দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলা শহরগুলোতে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ হাসপাতাল, ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরই একই অবস্থা- হয় অনুমোদনহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজে চলছে।

অথচ সব বিভাগেই বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদ রয়েছে এবং সেখানে কর্মরত যথেষ্ট লোকবলও আছে; কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এসব রক্ষকের অনেকেই ভক্ষকের ভূমিকা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মাসোহারা নিয়ে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো চলার সুযোগ করে দেয়।

এভাবে আমরা নিজেরাই আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে রুগ্ণ করে তুলেছি, যার কুফল করোনাকালে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের শীর্ষ থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

এটা সত্য, সরকারি নিয়ন্ত্রকদের কঠোর মনোভাব ও নিয়মনীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন বেসরকারি খাতের দুর্নীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু আমাদের বাস্তবতা হচ্ছে- কেনাকাটা, টেন্ডার, সেবা, নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে কী ধরনের দুর্নীতি হয়, বিস্তারিত তুলে ধরে সেগুলো বন্ধের সুপারিশসহ দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন পাঠালেও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বস্তুত, অসমর্থ রোগীদের কষ্ট ও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া এবং সামর্থ্যবানদের সামান্য চিকিৎসার জন্যও বিদেশমুখী হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় রয়েছে। আমরা মনি করি, স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারের এখনই সময়। নিয়মনীতির আওতায় আনা দরকার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে। করোনাকালে মানুষের ভোগান্তি ও উন্মোচিত স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম থেকে এ শিক্ষা নিতেই হবে।