বিনিয়োগের নতুন সুযোগ: বাধাগুলো দূর করতে হবে
jugantor
বিনিয়োগের নতুন সুযোগ: বাধাগুলো দূর করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জাপান, চীনসহ বেশকিছু দেশ থেকে বিনিয়োগ স্থানান্তর হচ্ছে। এসব বিনিয়োগের নতুন গন্তব্যস্থল হতে পারে বাংলাদেশ। দেশে অনেক দিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগে প্রায় স্থবিরতা বিরাজ করছে। করোনার ফলে সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের সেই খরা কেটে যেতে পারে।

সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণে নিতে হবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। দূর করতে হবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো। আশার কথা, এ ব্যাপারে কর্মকৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেখানে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা দাগে ১১টি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে স্থানান্তরিত বিনিয়োগ ধরতে দেশে কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ভেটিং না করে প্রকল্পের বা অন্য এজেন্সির সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর, দেশি ও বিদেশি কোম্পানির মধ্যে কর্পোরেট কর বৈষম্য, ভিন্ন বিনিয়োগ নীতি, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ঘাটতি, পিপিপিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কর ও ভ্যাট জটিলতা ইত্যাদি।

দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত প্রায় সাত মাস ধরে করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে আছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিরাজ করছে এ পরিস্থিতি। দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে কমে গেছে উৎপাদন। বহু মানুষ হারিয়েছেন কর্মসংস্থান।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে, নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে করোনার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে দ্রুত। বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের একটি ইতিবাচক দিক হল এখানে রয়েছে তুলনামূলক সস্তা শ্রম। একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর ভোগচাহিদা বা খরচ করার প্রবণতা রয়েছে দেশে।

তবে দুর্বল অবকাঠামো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ বেশকিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। এ কারণে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। এটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ঘাটতির একটি বড় কারণ। অবকাঠামো উন্নয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন সহজীকরণ, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি দিয়ে এ সূচকের উন্নতি করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নামমাত্র মূল্যে জমি প্রদান করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলও প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করা উচিত।

বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। প্রতিবন্ধকতাগুলো সময়মতো অপসারণ করা গেলে বিগত প্রায় তিন দশকের ক্রমবর্ধনশীল প্রবৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আশা করা যায় বাংলাদেশ দ্রুতই করোনা মহামারীর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে, এটাই কাম্য।

বিনিয়োগের নতুন সুযোগ: বাধাগুলো দূর করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জাপান, চীনসহ বেশকিছু দেশ থেকে বিনিয়োগ স্থানান্তর হচ্ছে। এসব বিনিয়োগের নতুন গন্তব্যস্থল হতে পারে বাংলাদেশ। দেশে অনেক দিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগে প্রায় স্থবিরতা বিরাজ করছে। করোনার ফলে সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের সেই খরা কেটে যেতে পারে।

সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণে নিতে হবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। দূর করতে হবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো। আশার কথা, এ ব্যাপারে কর্মকৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেখানে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা দাগে ১১টি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে স্থানান্তরিত বিনিয়োগ ধরতে দেশে কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ভেটিং না করে প্রকল্পের বা অন্য এজেন্সির সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর, দেশি ও বিদেশি কোম্পানির মধ্যে কর্পোরেট কর বৈষম্য, ভিন্ন বিনিয়োগ নীতি, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ঘাটতি, পিপিপিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কর ও ভ্যাট জটিলতা ইত্যাদি।

দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত প্রায় সাত মাস ধরে করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে আছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিরাজ করছে এ পরিস্থিতি। দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে কমে গেছে উৎপাদন। বহু মানুষ হারিয়েছেন কর্মসংস্থান।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে, নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে করোনার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে দ্রুত। বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের একটি ইতিবাচক দিক হল এখানে রয়েছে তুলনামূলক সস্তা শ্রম। একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর ভোগচাহিদা বা খরচ করার প্রবণতা রয়েছে দেশে।

তবে দুর্বল অবকাঠামো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ বেশকিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। এ কারণে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। এটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ঘাটতির একটি বড় কারণ। অবকাঠামো উন্নয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন সহজীকরণ, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি দিয়ে এ সূচকের উন্নতি করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নামমাত্র মূল্যে জমি প্রদান করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলও প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করা উচিত।

বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। প্রতিবন্ধকতাগুলো সময়মতো অপসারণ করা গেলে বিগত প্রায় তিন দশকের ক্রমবর্ধনশীল প্রবৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আশা করা যায় বাংলাদেশ দ্রুতই করোনা মহামারীর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে, এটাই কাম্য।