শিক্ষায় করোনার আঘাত: চাই নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতি
jugantor
শিক্ষায় করোনার আঘাত: চাই নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতি

  সম্পাদকীয়  

২৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারী কবে নাগাদ নিয়ন্ত্রণে আসবে, এ জিজ্ঞাসা এখন সবার। মহামারীর কারণে শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত থাকায় শিগগিরই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এক মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাঠের সিলেবাস পর্যালোচনার কাজ চলছে। শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রস্তুত করা হচ্ছে সিলেবাস। এক মাস পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প কী করা যায়, এসব নিয়ে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। লক্ষণীয় বিষয় হল, সরকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এ বিষয়ক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সরকার যখন নিশ্চিত হবে শিক্ষার্থীরা ঘরের বাইরে গিয়ে কোনো রকম ঝুঁকিতে পড়বে না, তখনই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে।

শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে গত কয়েক মাসের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য নানা রকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব বিষয়ে মন্তব্য করার আগে করোনার কারণে ভবিষ্যতে সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এসবও বিবেচনায় রাখতে হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে অনলাইন ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে লেখাপড়া চালু হলেও এতে শিক্ষার্থীরা কতটা উপকৃত হচ্ছে এটা এক বড় প্রশ্ন।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে। এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব। দেশে অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের পক্ষে স্মার্টফোন বা টেলিভিশন কেনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাজেই অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে কী করে যুক্ত থাকবে এটি এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। শিশু শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা দরকার। তা না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে যাবে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ধীরগতির ইন্টারনেট একটি বড় সমস্যা।

এ সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি এ বিষয়ক অন্যান্য সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রকৃত সুফল পাবে কি না, এ বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়।

শিক্ষায় করোনার আঘাত: চাই নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতি

 সম্পাদকীয় 
২৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারী কবে নাগাদ নিয়ন্ত্রণে আসবে, এ জিজ্ঞাসা এখন সবার। মহামারীর কারণে শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত থাকায় শিগগিরই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এক মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাঠের সিলেবাস পর্যালোচনার কাজ চলছে। শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রস্তুত করা হচ্ছে সিলেবাস। এক মাস পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প কী করা যায়, এসব নিয়ে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। লক্ষণীয় বিষয় হল, সরকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এ বিষয়ক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সরকার যখন নিশ্চিত হবে শিক্ষার্থীরা ঘরের বাইরে গিয়ে কোনো রকম ঝুঁকিতে পড়বে না, তখনই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে।

শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে গত কয়েক মাসের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য নানা রকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব বিষয়ে মন্তব্য করার আগে করোনার কারণে ভবিষ্যতে সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এসবও বিবেচনায় রাখতে হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে অনলাইন ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে লেখাপড়া চালু হলেও এতে শিক্ষার্থীরা কতটা উপকৃত হচ্ছে এটা এক বড় প্রশ্ন।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে। এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব। দেশে অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের পক্ষে স্মার্টফোন বা টেলিভিশন কেনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাজেই অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে কী করে যুক্ত থাকবে এটি এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। শিশু শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা দরকার। তা না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে যাবে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ধীরগতির ইন্টারনেট একটি বড় সমস্যা।

এ সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি এ বিষয়ক অন্যান্য সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রকৃত সুফল পাবে কি না, এ বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়।