বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি রক্ষা করুন
jugantor
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি রক্ষা করুন

  ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার  

২৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ৪নং বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর একটি সাধারণ গ্রাম। কিন্তু দুটি কারণে এ গ্রামটি স্থানীয় সবার কাছেই পরিচিত : স্থানটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক মরহুম আজিজার রহমান সরকারের এলাকা। আজিজার রহমান সরকার ছিলেন গাইবান্ধা জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বালুরঘাট লিবারেশন ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি গাইবান্ধা থেকে এমপিএ নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৬২, ১৯৬৭ ও ১৯৭০ সালে। আজিজার রহমান সরকার নিজ বাড়িসংলগ্ন সরকারি পতিত জায়গায় গড়ে তুলেছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, দাতব্য চিকিৎসালয়, কমিউনিটি সেন্টার এবং কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের বাসভবন। নিজ হাতে রোপণ করেছিলেন নানা ধরনের গাছপালা।

১৯৭০ সালের নির্বাচনী সফরে বঙ্গবন্ধু রংপুরে এসে কেন্দ্রীয় নেতারাসহ আজিজার রহমান সরকারের বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন। বাড়ি প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই উপস্থিতি এবং বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে গড়ে ওঠা অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের কারণে ভগবানপুর গ্রামটি পলাশবাড়ীর প্রায় সবার কাছেই পরিচিত। এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সেবা পেয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ও নিদারুণ অবহেলায় প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত।

তবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বট, পাকুর ও আমসহ অনেকগুলো গাছপালা। এ জায়গায় ইউনিয়ন পরিষদের একটি পাকা ভবন থাকা সত্ত্বেও এক অদ্ভুত কারণে ইউনিয়ন পরিষদ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অতি সম্প্রতি জায়গাটিকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে এবং এর জনগুরুত্ব বিবেচনা না করে একটি মহল তাদের পছন্দের কয়েকজন ব্যক্তির নামে (ভূমিহীনের কথা বলে) বরাদ্দ দিয়েছে।

এলাকাবাসী এ ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। তারা বুঝতে পারছেন না কী করে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংবলিত এরকম একটি ঐতিহাসিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গা কৃষিকাজের জন্য কয়েকজনকে বরাদ্দ দেয়া যায়। জায়গাটি ১৯৪০ সালের রেকর্ডে উল্লেখ আছে দেবাস্থান এবং ১৯৯৪ সালের রেকর্ডে উল্লেখ আছে ইউনিয়ন পরিষদ এবং কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের বাসভবন হিসেবে। এতদিন ধরে এতগুলো জনকল্যাণমূলক কাজে এ জায়গাটি ব্যবহৃত হলেও শুধু ১৯৬২ সালের রেকর্ডে ‘ডাঙ্গা’ কথাটি উল্লেখ আছে- এই দোহাই দিয়ে জমিটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে কয়েকজনকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু এবং তার এক সহযোগীর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি একটি মহল ধ্বংসের চেষ্টা করছে, এটি খুবই দুঃখজনক। জায়গাটি রক্ষার জন্য আমরা এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। আবেদনে সুপারিশ করেছেন মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় নেতারা। হিন্দু-মুসলিম শত শত এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে স্বাক্ষর করেছেন এই আবেদনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত ফলাফল শূন্য।

শুধু তাই নয়, এলাকাবাসী উদার মনে উপজেলা প্রশাসনকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন যে, তারা প্রয়োজনে কৃষিজমি দিতে প্রস্তুত, তবু এই বরাদ্দ দ্রুত বাতিল করে এ জায়গায় বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যেমন: হাইস্কুল, কলেজ বা কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা অথবা অন্য কোনো জনহিতকর কাজ করা হোক।

জায়গাটিতে যে কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে উপকৃত হবেন এলাকাবাসী এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উপকার করা যেতে পারে ভূমিহীনদের। কিন্তু সেবামূলক কোনো প্রতিষ্ঠান না করে এভাবে এই জনসম্পদকে কয়েকজনের নামে বরাদ্দ দিলে জায়গাটি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের বিনীত নিবেদন, অনুগ্রহপূর্বক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত জায়গাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার : ভগবানপুর, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা

 

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি রক্ষা করুন

 ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার 
২৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ৪নং বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর একটি সাধারণ গ্রাম। কিন্তু দুটি কারণে এ গ্রামটি স্থানীয় সবার কাছেই পরিচিত : স্থানটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক মরহুম আজিজার রহমান সরকারের এলাকা। আজিজার রহমান সরকার ছিলেন গাইবান্ধা জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বালুরঘাট লিবারেশন ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি গাইবান্ধা থেকে এমপিএ নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৬২, ১৯৬৭ ও ১৯৭০ সালে। আজিজার রহমান সরকার নিজ বাড়িসংলগ্ন সরকারি পতিত জায়গায় গড়ে তুলেছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, দাতব্য চিকিৎসালয়, কমিউনিটি সেন্টার এবং কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের বাসভবন। নিজ হাতে রোপণ করেছিলেন নানা ধরনের গাছপালা।

১৯৭০ সালের নির্বাচনী সফরে বঙ্গবন্ধু রংপুরে এসে কেন্দ্রীয় নেতারাসহ আজিজার রহমান সরকারের বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন। বাড়ি প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই উপস্থিতি এবং বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে গড়ে ওঠা অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের কারণে ভগবানপুর গ্রামটি পলাশবাড়ীর প্রায় সবার কাছেই পরিচিত। এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সেবা পেয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ও নিদারুণ অবহেলায় প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত।

তবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বট, পাকুর ও আমসহ অনেকগুলো গাছপালা। এ জায়গায় ইউনিয়ন পরিষদের একটি পাকা ভবন থাকা সত্ত্বেও এক অদ্ভুত কারণে ইউনিয়ন পরিষদ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অতি সম্প্রতি জায়গাটিকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে এবং এর জনগুরুত্ব বিবেচনা না করে একটি মহল তাদের পছন্দের কয়েকজন ব্যক্তির নামে (ভূমিহীনের কথা বলে) বরাদ্দ দিয়েছে।

এলাকাবাসী এ ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। তারা বুঝতে পারছেন না কী করে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংবলিত এরকম একটি ঐতিহাসিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গা কৃষিকাজের জন্য কয়েকজনকে বরাদ্দ দেয়া যায়। জায়গাটি ১৯৪০ সালের রেকর্ডে উল্লেখ আছে দেবাস্থান এবং ১৯৯৪ সালের রেকর্ডে উল্লেখ আছে ইউনিয়ন পরিষদ এবং কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের বাসভবন হিসেবে। এতদিন ধরে এতগুলো জনকল্যাণমূলক কাজে এ জায়গাটি ব্যবহৃত হলেও শুধু ১৯৬২ সালের রেকর্ডে ‘ডাঙ্গা’ কথাটি উল্লেখ আছে- এই দোহাই দিয়ে জমিটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে কয়েকজনকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু এবং তার এক সহযোগীর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি একটি মহল ধ্বংসের চেষ্টা করছে, এটি খুবই দুঃখজনক। জায়গাটি রক্ষার জন্য আমরা এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। আবেদনে সুপারিশ করেছেন মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় নেতারা। হিন্দু-মুসলিম শত শত এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে স্বাক্ষর করেছেন এই আবেদনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত ফলাফল শূন্য।

শুধু তাই নয়, এলাকাবাসী উদার মনে উপজেলা প্রশাসনকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন যে, তারা প্রয়োজনে কৃষিজমি দিতে প্রস্তুত, তবু এই বরাদ্দ দ্রুত বাতিল করে এ জায়গায় বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যেমন: হাইস্কুল, কলেজ বা কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা অথবা অন্য কোনো জনহিতকর কাজ করা হোক।

জায়গাটিতে যে কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে উপকৃত হবেন এলাকাবাসী এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উপকার করা যেতে পারে ভূমিহীনদের। কিন্তু সেবামূলক কোনো প্রতিষ্ঠান না করে এভাবে এই জনসম্পদকে কয়েকজনের নামে বরাদ্দ দিলে জায়গাটি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের বিনীত নিবেদন, অনুগ্রহপূর্বক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত জায়গাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার : ভগবানপুর, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা