বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন
jugantor
বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন
কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর কারণে দেশের মানুষ গত কয়েক মাস ধরে অর্র্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মাঝেই দফায় দফায় বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে দেশের কোনো কোনো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এবারের বন্যা আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। ইতিমধ্যে পানিবন্দি অনেক মানুষ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কাজেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। শুকনা খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট যাতে না হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

চলমান বন্যা শেষে সময়মতো কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোভিড-১৯ ও বন্যা যেহেতু একসঙ্গে এসেছে, সেহেতু একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সব মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো ভালোভাবে ও সময়মতো কার্যকর করার বিষয়ে জোর দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। বন্যাদুর্গত এলাকায় স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যবস্থা করতে, বিশেষ করে গরু-বাছুরের ভ্যাকসিনগুলো ঠিকমতো দেয়ার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার অপর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অতীতের মতো সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ভেতরে ও বাইরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। এছাড়া উজান থেকে আবারও বানের পানি নেমে এসে দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জানা গেছে, জোয়ারের কারণে সাগরে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি সাগরে নিষ্কাশন হওয়া কমে গেছে। ফলে চলতি সপ্তাহে বন্যার পানি বিভিন্ন এলাকায় সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কিছুদিন পর নদ-নদীগুলোর পানির স্তর হ্রাসের সম্ভাবনা আছে। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

বন্যার পানিতে বহু লোকের ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেক গবাদিপশু মারা গেছে। দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে বন্যা মোকাবেলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন

কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৯ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর কারণে দেশের মানুষ গত কয়েক মাস ধরে অর্র্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মাঝেই দফায় দফায় বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে দেশের কোনো কোনো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এবারের বন্যা আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। ইতিমধ্যে পানিবন্দি অনেক মানুষ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কাজেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। শুকনা খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট যাতে না হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

চলমান বন্যা শেষে সময়মতো কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোভিড-১৯ ও বন্যা যেহেতু একসঙ্গে এসেছে, সেহেতু একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সব মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো ভালোভাবে ও সময়মতো কার্যকর করার বিষয়ে জোর দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। বন্যাদুর্গত এলাকায় স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যবস্থা করতে, বিশেষ করে গরু-বাছুরের ভ্যাকসিনগুলো ঠিকমতো দেয়ার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার অপর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অতীতের মতো সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ভেতরে ও বাইরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। এছাড়া উজান থেকে আবারও বানের পানি নেমে এসে দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জানা গেছে, জোয়ারের কারণে সাগরে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি সাগরে নিষ্কাশন হওয়া কমে গেছে। ফলে চলতি সপ্তাহে বন্যার পানি বিভিন্ন এলাকায় সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কিছুদিন পর নদ-নদীগুলোর পানির স্তর হ্রাসের সম্ভাবনা আছে। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

বন্যার পানিতে বহু লোকের ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেক গবাদিপশু মারা গেছে। দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে বন্যা মোকাবেলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।