অপরাধী চক্রের তৎপরতা
jugantor
অপরাধী চক্রের তৎপরতা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সতর্কতাই কাম্য

  সম্পাদকীয়  

২৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে জঙ্গি সংগঠন, জাল নোট কারবারি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ইত্যাদি চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ সতর্কতা কাম্য। ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা মাঠে নামার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতরের এক চিঠিতে বলা হয়েছে- গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, তথাকথিত আইএস আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণা করতে পারে। জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে পুলিশের টিম, স্থাপনা, যানবাহন, বিমানবন্দর, দূতাবাস, বিভিন্ন উপাসনালয় বা বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা না ঘটলেও জঙ্গিদের তৎপরতা বন্ধ হয়ে গেছে এমনটি মনে করার কারণ নেই। জঙ্গিরা দেশের ভেতরেই হয়তো কোথাও না কোথাও গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর শক্তি-সামর্থ্য জঙ্গিদের নেই।

এটা ঠিক, হলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গি তৎপরতা নির্মূলে কঠোর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বলা যায়, জঙ্গি দমনে বেশ সফলও হয়েছে সরকার। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের জঙ্গি হুমকি বা হামলার পরিকল্পনার তথ্যকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

ঈদ সামনে রেখে জাল নোট কারবারিরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রতি বছরই কোরবানির পশুর হাটের মৌসুমি ব্যাপারীরা জাল নোট চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হন। প্রতারিত হন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারাও। অবশ্য শুধু কোরবানির পশু কেনাবেচায় নয়, সারা বছরই জাল নোট চক্রের তৎপরতা চলে।

জানা গেছে, গত এক মাসেই প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে। কাজেই জাল নোট প্রতিরোধে কঠোর আইন ও তার প্রয়োগ জরুরি। ইতোমধ্যে অবশ্য ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন ২০২০’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত বেশি নকল মুদ্রা তৈরি বা সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার দণ্ড হবে তত বেশি। যে কোনো মূল্যের ১০০টির কম জাল মুদ্রা পাওয়া গেলে শাস্তি হবে দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

যেহেতু আইনটির বাস্তবায়ন এখনও হয়নি, সেহেতু কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও।

অপরাধী চক্রের তৎপরতা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সতর্কতাই কাম্য
 সম্পাদকীয় 
২৯ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে জঙ্গি সংগঠন, জাল নোট কারবারি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ইত্যাদি চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ সতর্কতা কাম্য। ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা মাঠে নামার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতরের এক চিঠিতে বলা হয়েছে- গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, তথাকথিত আইএস আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণা করতে পারে। জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে পুলিশের টিম, স্থাপনা, যানবাহন, বিমানবন্দর, দূতাবাস, বিভিন্ন উপাসনালয় বা বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা না ঘটলেও জঙ্গিদের তৎপরতা বন্ধ হয়ে গেছে এমনটি মনে করার কারণ নেই। জঙ্গিরা দেশের ভেতরেই হয়তো কোথাও না কোথাও গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর শক্তি-সামর্থ্য জঙ্গিদের নেই।

এটা ঠিক, হলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গি তৎপরতা নির্মূলে কঠোর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বলা যায়, জঙ্গি দমনে বেশ সফলও হয়েছে সরকার। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের জঙ্গি হুমকি বা হামলার পরিকল্পনার তথ্যকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

ঈদ সামনে রেখে জাল নোট কারবারিরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রতি বছরই কোরবানির পশুর হাটের মৌসুমি ব্যাপারীরা জাল নোট চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হন। প্রতারিত হন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারাও। অবশ্য শুধু কোরবানির পশু কেনাবেচায় নয়, সারা বছরই জাল নোট চক্রের তৎপরতা চলে।

জানা গেছে, গত এক মাসেই প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে। কাজেই জাল নোট প্রতিরোধে কঠোর আইন ও তার প্রয়োগ জরুরি। ইতোমধ্যে অবশ্য ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন ২০২০’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত বেশি নকল মুদ্রা তৈরি বা সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার দণ্ড হবে তত বেশি। যে কোনো মূল্যের ১০০টির কম জাল মুদ্রা পাওয়া গেলে শাস্তি হবে দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

যেহেতু আইনটির বাস্তবায়ন এখনও হয়নি, সেহেতু কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও।