নতুন মুদ্রানীতি, ঝুঁকি মোকাবেলার মাধ্যমে সুফল পেতে হবে

  সম্পাদকীয় ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সব খাতে অর্থের জোগান বাড়ানো, করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকারের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশের নিচে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের জন্য এ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা প্রায় সাড়ে ৪৪ শতাংশ।

এছাড়া ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ হার ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও রিজার্ভ মানির লক্ষ্যমাত্রা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিট ফরেন অ্যাসেট ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ও নিট অভ্যন্তরীণ অ্যাসেট ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্য ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন মুদ্রানীতিতে।

এ মুদ্রানীতির একটি বিশেষ দিক হল এতে ব্যাংক রেট কমানো হয়েছে ১ শতাংশ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কমানো হল ব্যাংক রেট।

এর ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ দেবে, যা আগে ছিল ৫ শতাংশ। অপব্যবহার রোধ ও লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারলে এটি ভালো একটি মুদ্রানীতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বৈকি।

বস্তুত, মুদ্রানীতি ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য থাকে সরকারের ঘোষিত প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা। নতুন ঘোষিত মুদ্রানীতিও এর ব্যতিক্রম নয়।

যেমন- বাজেটে বলা হয়েছে, সরকার ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে, আর মুদ্রানীতি বলছে সরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪৪ শতাংশের মতো। করোনা মহামারীর কারণে আমাদের তো বটেই, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিই বিপর্যস্ত।

এ অবস্থায় অর্থের সরবরাহের মাধ্যমে তারল্য সংকট দূর করা খুব বেশি দরকার। ঘোষিত মুদ্রানীতির কারণে তারল্য সংকট হবে না বলে আশা করা যায়।

মুদ্রানীতি বা মনিটারি পলিসিতে সব দিক ব্যালেন্স করার চেষ্টা করা হয়, বিশেষত চলমান অর্থনীতির পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠা, যা নতুন মুদ্রানীতিতেও স্পষ্ট।

আমরা আশা করব, অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা না থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেসব ঝুঁকির কথা আলোচনায় এসেছে, সেগুলো নজরদারির মাধ্যমে রোধ করে অর্থের জোগান ঠিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার ব্যবস্থা নিয়ে মুদ্রানীতিকে সার্থক করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে কর্তৃপক্ষের।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত