ঈদ উদযাপন

চামড়ার মূল্যহ্রাসের রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর কারণে এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। তাছাড়া দেশের বড় অংশ ভয়াবহ বন্যাকবলিত।

বলা যায়, করোনা ও বন্যা আমাদের ঈদ আনন্দকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে এবার। তারপরও সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়েছেন অনেকেই।

তবে স্বভাবতই এবার কোরবানির সংখ্যা ছিল কম। সেক্ষেত্রে কোরবানির পশুর চামড়ার চাহিদা বেশি হলে তার দামও বেশি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টোটি। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ‘পানির দরে’।

প্রকারভেদে গরুপ্রতি চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং ছাগলের চামড়া ১০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। কোথাও কোথাও ছাগলের চামড়া কেনা হয়েছে মাত্র ৫ টাকায়! চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় দেশের অন্যতম এ রফতানি পণ্যটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। উল্লেখ্য, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে গত বছরও সৃষ্টি হয়েছিল এমন পরিস্থিতি। এ প্রেক্ষাপটে সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমরা মনে করি, নির্ধারিত দামে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার ব্যাপারে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। চামড়ার মূল্যহ্রাসের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না।

চাহিদার তুলনায় দেশে চামড়ার উৎপাদন কম। চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম কোরবানির ঈদ। এ সময় মোট চামড়ার শতকরা ৮০ ভাগ সংগৃহীত হয়। ফলে এ সময়টায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি শুরু করে।

অভিযোগ আছে, শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে কয়েক বছর ধরে ঈদের আগেই কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। তারপরও দেখা যায়, সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। এ বছর নওগাঁয় কোনো কোনো ক্ষুদ্র বিক্রেতা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন স্থানে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেকে ক্রয়কৃত চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছেন বলেও খবর রয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা দেশের চামড়া শিল্পের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। কাজেই চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর হতেই হবে।

চামড়া খাতে আমাদের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তবে এর কতটুকু আমরা কাজে লাগাতে পারছি, এটাই প্রশ্ন। বিশ্ববাজারে প্রতি বছর ২২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চামড়াজাত পণ্যের বাণিজ্য হয়। বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার ইতালি। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন ও ফ্রান্স। এর বাইরে জাপান, জার্মানি, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডেও সীমিত আকারে রফতানি হয়।

এখন ভারত, নেপাল, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার পাইকারি ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য নিচ্ছেন। এর ফলে ট্যানারি মালিক এবং এ শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মোটেই কাম্য নয়।

কাঁচা চামড়ার দাম খুবই কম হওয়া সত্ত্বেও দেশে চামড়ার তৈরি জুতা, স্যান্ডেল, মানিব্যাগ, লেদারসামগ্রী ও চামড়াজাত অন্যান্য পণ্যের বাজারমূল্য চড়া। এ অবস্থার অবসানে সরকার সঠিক তদারকির পাশাপাশি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত