অসহায়দের পাশে দাঁড়ান

  ড. আবু জাফর সিদ্দিকী ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার পাশাপাশি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশ। গত এপ্রিলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান।

আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণহানি কম হলেও ফসলসহ বেশকিছু বাঁধ, বেড়িবাঁধ ভেঙে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হয় উপকূলীয় এলাকার মানুষ। এরপর দেখা দেয় বন্যা।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দেশের প্রায় সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিকে করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি, অন্যদিকে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এ বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সরকারি দলসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সামর্থ্যবানদের উচিত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা।

বন্যায় ইতোমধ্যে ব্যাপক অঞ্চল প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেক মানুষ পানিতে ভাসছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের যাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, এজন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতির আসল চিত্র ফুটে ওঠে। ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নদীভাঙন তীব্র হয়ে ওঠে। এসব ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় অবিলম্বে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে।

বন্যায় যেসব মানুষের ফসল তলিয়ে গেছে এবং যারা চাষাবাদ করতে পারেনি, তারা যাতে তাদের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে পারে সে জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। তারা যাতে পুনরায় ফসল উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে, এ ব্যাপারে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী কার্যকর উদ্যোগগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

বিশেষত উজানের ঢল ও বন্যার পানি সহজে নেমে যাওয়ার জন্য নদ-নদী ও খাল খনন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মহীন মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা যেন জনপ্রতিনিধি বা দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে চলে না যায়, তা কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। সেই সঙ্গে চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর কথা ভুলে গেলে চলবে না। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্য, দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে বহির্বিশ্বে সুখ্যাতি রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, করোনা মহামারীর কারণে তা বিঘ্নিত না হলে বন্যা মোকাবেলা কঠিন কিছু ছিল না।

প্রতিবার সরকারি সাহায্য ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে বহু লোক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা এগিয়ে আসেন বন্যাদুর্গতদের সাহায্য-সহযোগিতায়। এবার তাদের সংখ্যা খুব কম। কিন্তু এ সময় সবাই সহযোগিতার হাত না বাড়ালে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে। তাই জরুরিভাবে দরকার বন্যার্তদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। তাহলে এই দুঃসময় অতিক্রম করা সহজ হবে।

ড. আবু জাফর সিদ্দিকী : লেখক ও গবেষক; প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, চাইল্ড কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা, ঢাকা

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত