নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: সব ধরনের অনিয়ম রোধ করুন

  সম্পাদকীয় ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে শতাধিক যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনার ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে গত মঙ্গলবার। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট উত্তাল পদ্মা নদী আড়াআড়িভাবে পাড়ি দিতে গিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬।

দুঃখজনক হল, ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ‘সানকেন ডেকবিশিষ্ট’ (ছোট লঞ্চ, যেগুলোর ডেক সমতল থেকে নিচে থাকে) লঞ্চকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে এ ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করলেও এখনও তা কার্যকর করেনি নৌপরিবহন অধিদফতর।

জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে অন্তত ৪০০ ‘সানকেন ডেকবিশিষ্ট’ লঞ্চযাত্রী বহন করছে। সর্বশেষ বুড়িগঙ্গায় এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এমএল মর্নিং বার্ডও ‘সানকেন ডেকবিশিষ্ট’ লঞ্চ ছিল। নৌপরিবহন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১২ হাজার ৯৫৯টি বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে।

এর মধ্যে ৮৩৯টি যাত্রীবাহী নৌযান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, কাত হয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে এ লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকে গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি ডুবে যায় এবং কাঠামোগত কারণে এ লঞ্চের ভেতরে অবস্থান করা যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে না। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ে।

সাধারণত কোনো লঞ্চ দুর্ঘটনার পর তদন্ত সাপেক্ষে জারি হওয়া বিধিবিধান ও সুপারিশগুলো অল্পদিনেই বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধ ও সুপারিশ কার্যকর করার ব্যাপারে আন্তরিক থাকলে ক্রটিপূর্ণ ডিজাইনের লঞ্চগুলো নৌপথে চলাচল করতে পারত না।

১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত ৪০৪টি নৌদুর্ঘটনায় কমপক্ষে চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নৌপথে দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, মাস্টার-চালক ও ইঞ্জিন অপারেটরের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব, বায়ু প্রবাহ ব্যবস্থা না থাকাসহ আবহাওয়া আইন অমান্য করার কথা বলা হয়েছে।

সেই সঙ্গে রাত্রিকালীন চলাচলের অনুপযোগী নৌযান রাতে চলাচল করা, নকশা অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ না করা এবং যাত্রীসাধারণের অসচেতনতাকে দায়ী করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন সম্পর্কে উদাসীন থাকাকে নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নৌপথে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল নির্বিঘ্ন ও ঝুঁকিমুক্ত করতে নৌপরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সরকার এ খাতে বিদ্যমান সব ধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত