হরিষে বিষাদ
jugantor
হরিষে বিষাদ
সতর্কতায় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব

  সম্পাদকীয়  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলেও ঈদের আমেজ এখনও কাটেনি। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলে এখনও অনেকে রয়েছেন উৎসবের আমেজে।
 

অনেকে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু এর মাঝেও ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। আনন্দ পরিণত হচ্ছে শোকে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী এলাকায়।
 

জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসা এবং নেত্রকোনার মদনের আরেকটি মাদ্রাসার ৪৮ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় হাওর ভ্রমণে বেরিয়েছিল। পথে আকস্মিক প্রচণ্ড বাতাস ও ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন ঘটনা খুবই মর্মান্তিক।
 

এদিকে ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীতে ১৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে গেলেও সৌভাগ্যজনকভাবে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নওগাঁর মান্দায় এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নৌকা ডুবে দুই সহোদর ও দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নৌকা ডুবে প্রাণ হারিয়েছে পিতা-পুত্র। প্রতিটি ঘটনাই মর্মান্তিক।

ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায়ও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। আমরা প্রতিবছর ঈদ শেষে সেসবের ফিরিস্তি তুলে ধরি। এবার বন্যা ও করোনার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ বাড়ি যেতে পারেননি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল তুলনামূলক কম। তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা থেমে থাকেনি। বস্তুত দেশে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়।
 

অনেকের কাছে আনন্দের ঈদযাত্রা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় শোকযাত্রায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা দেশে বছরে যত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়, তার ১৪-১৫ শতাংশ হয় দুই ঈদের আগে-পরে ১৩ থেকে ১৫ দিনে।
 

এর প্রধান কারণ এ সময়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি যাত্রী চলাচল করায় সড়কের গতি ও যানবাহনে বিশৃঙ্খলা বেড়ে যায়। আর ঈদ শেষে ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। কারণ ফেরার সময় তাড়াহুড়ো থাকে বেশি। যাত্রীদের অসতর্কতা এবং সড়ক-মহাসড়কের ত্রুটিও এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
 

তাছাড়া ঈদের সময় অবৈধ যানবাহন এবং অদক্ষ ও বেআইনি চালক বেড়ে যায়। এ সময় অনেক ফিটনেসহীন যানবাহনও পথে নামে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে যানবাহন ও সড়কের একটি আলাদা ব্যবস্থাপনা চালু করা দরকার। এ সময় যাত্রীসহ সব পক্ষকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তাড়াহুড়ো করা যাবে না। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে অনেক বেশি কার্যকর ও তৎপর থাকতে হবে।

প্রতিটি মৃত্যুই প্রিয়জনদের কাছে বেদনার। দুর্ঘটনায় মৃত্যু আরও বেশি কষ্টের। কোনো আনন্দ উৎসবে শামিল হতে গিয়ে যদি কারও মৃত্যু হয়, তাহলে মুহূর্তে তা পরিণত হয় হরিষে বিষাদে। অথচ সাধারণ মানুষ ও কর্তৃপক্ষের সতর্কতায় এ ধরনের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। আমাদের সবারই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রকেও এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এবারের ঈদের আগে-পরে যারা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারবর্গের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা।

হরিষে বিষাদ

সতর্কতায় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব
 সম্পাদকীয় 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলেও ঈদের আমেজ এখনও কাটেনি। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলে এখনও অনেকে রয়েছেন উৎসবের আমেজে।

অনেকে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু এর মাঝেও ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। আনন্দ পরিণত হচ্ছে শোকে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী এলাকায়।

জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসা এবং নেত্রকোনার মদনের আরেকটি মাদ্রাসার ৪৮ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় হাওর ভ্রমণে বেরিয়েছিল। পথে আকস্মিক প্রচণ্ড বাতাস ও ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন ঘটনা খুবই মর্মান্তিক।

এদিকে ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীতে ১৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে গেলেও সৌভাগ্যজনকভাবে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নওগাঁর মান্দায় এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নৌকা ডুবে দুই সহোদর ও দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নৌকা ডুবে প্রাণ হারিয়েছে পিতা-পুত্র। প্রতিটি ঘটনাই মর্মান্তিক।

ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায়ও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। আমরা প্রতিবছর ঈদ শেষে সেসবের ফিরিস্তি তুলে ধরি। এবার বন্যা ও করোনার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ বাড়ি যেতে পারেননি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল তুলনামূলক কম। তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা থেমে থাকেনি। বস্তুত দেশে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়।

অনেকের কাছে আনন্দের ঈদযাত্রা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় শোকযাত্রায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা দেশে বছরে যত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়, তার ১৪-১৫ শতাংশ হয় দুই ঈদের আগে-পরে ১৩ থেকে ১৫ দিনে।

এর প্রধান কারণ এ সময়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি যাত্রী চলাচল করায় সড়কের গতি ও যানবাহনে বিশৃঙ্খলা বেড়ে যায়। আর ঈদ শেষে ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। কারণ ফেরার সময় তাড়াহুড়ো থাকে বেশি। যাত্রীদের অসতর্কতা এবং সড়ক-মহাসড়কের ত্রুটিও এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

তাছাড়া ঈদের সময় অবৈধ যানবাহন এবং অদক্ষ ও বেআইনি চালক বেড়ে যায়। এ সময় অনেক ফিটনেসহীন যানবাহনও পথে নামে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে যানবাহন ও সড়কের একটি আলাদা ব্যবস্থাপনা চালু করা দরকার। এ সময় যাত্রীসহ সব পক্ষকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তাড়াহুড়ো করা যাবে না। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে অনেক বেশি কার্যকর ও তৎপর থাকতে হবে।

প্রতিটি মৃত্যুই প্রিয়জনদের কাছে বেদনার। দুর্ঘটনায় মৃত্যু আরও বেশি কষ্টের। কোনো আনন্দ উৎসবে শামিল হতে গিয়ে যদি কারও মৃত্যু হয়, তাহলে মুহূর্তে তা পরিণত হয় হরিষে বিষাদে। অথচ সাধারণ মানুষ ও কর্তৃপক্ষের সতর্কতায় এ ধরনের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। আমাদের সবারই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রকেও এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এবারের ঈদের আগে-পরে যারা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারবর্গের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা।