করোনার নমুনা সংগ্রহ: বুথ কমালে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে
jugantor
করোনার নমুনা সংগ্রহ: বুথ কমালে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে

  সম্পাদকীয়  

০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ সতর্কতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার বিষয়ক বড় ধরনের কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলায় অসতর্কতা এবং কোনো রকম শৈথিল্য দেখালে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন, সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করতে হলে বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। কাজেই নমুনা পরীক্ষা আরও বেশি না হলে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। অথচ সব খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হওয়া জরুরি।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের বুথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৯৭টি বুথ বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে ব্র্যাক। এতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা এ সংক্রান্ত কাজ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিতর্কিত জেকেজির সাতটি বুথও এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় নমুনার অভাবে আরও সীমিত হয়ে আসতে পারে করোনার পরীক্ষা। ফলে সংক্রমণের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি পরীক্ষা ছাড়াই চলাফেরা করে তাদের অজান্তেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেবেন অনেকের দেহে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সারা দেশের মানুষ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে ১১টি ভ্রাম্যমাণ দল রাজধানীতে বাসায় নমুনা সংগ্রহ করছে। তাও শুধু বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই সেবা প্রযোজ্য। এছাড়া জেলা, উপজেলা পর্যায়েও সীমিত আকারে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ঢাকায় ৩৮টি সাধারণ বুথ এবং ২০টি বিদেশগামীদের নমুনা সংগ্রহের বুথ রয়েছে। বাকিগুলো রয়েছে কুমিল্লা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে বিদেশগামীদের।

লক্ষ করা গেছে, ফি নির্ধারণের পর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। যেখানে আগে ২০ হাজারের বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হতো, সেখানে ধীরে ধীরে এটি ১১ থেকে ১৩ হাজারে নেমে এসেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে আরও কমে গেছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কিছুদিন পর দেশে করোনা সংক্রমণের একটি ধাক্কা আসতে পারে। তখন রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার।

এ পরিস্থিতিতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। করোনা পরীক্ষায় যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাতিল করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কাজেই এখন কোনোভাবেই নমুনা পরীক্ষা কমানো ঠিক হবে না।

পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো না হলে শনাক্তের সংখ্যা বোঝা যাবে না, দেশে সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতিও বোঝা যাবে না। কাজেই সফলভাবে করোনা মোকাবেলার লক্ষ্যে নমুনা সংগ্রহের বিদ্যমান বুথগুলো চালু রাখার পাশাপাশি আরও নতুন বুথ চালু করতে হবে।

করোনার নমুনা সংগ্রহ: বুথ কমালে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে

 সম্পাদকীয় 
০৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ সতর্কতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার বিষয়ক বড় ধরনের কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলায় অসতর্কতা এবং কোনো রকম শৈথিল্য দেখালে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন, সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করতে হলে বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। কাজেই নমুনা পরীক্ষা আরও বেশি না হলে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। অথচ সব খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হওয়া জরুরি।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের বুথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৯৭টি বুথ বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে ব্র্যাক। এতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা এ সংক্রান্ত কাজ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিতর্কিত জেকেজির সাতটি বুথও এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় নমুনার অভাবে আরও সীমিত হয়ে আসতে পারে করোনার পরীক্ষা। ফলে সংক্রমণের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি পরীক্ষা ছাড়াই চলাফেরা করে তাদের অজান্তেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেবেন অনেকের দেহে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সারা দেশের মানুষ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে ১১টি ভ্রাম্যমাণ দল রাজধানীতে বাসায় নমুনা সংগ্রহ করছে। তাও শুধু বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই সেবা প্রযোজ্য। এছাড়া জেলা, উপজেলা পর্যায়েও সীমিত আকারে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ঢাকায় ৩৮টি সাধারণ বুথ এবং ২০টি বিদেশগামীদের নমুনা সংগ্রহের বুথ রয়েছে। বাকিগুলো রয়েছে কুমিল্লা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে বিদেশগামীদের।

লক্ষ করা গেছে, ফি নির্ধারণের পর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। যেখানে আগে ২০ হাজারের বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হতো, সেখানে ধীরে ধীরে এটি ১১ থেকে ১৩ হাজারে নেমে এসেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে আরও কমে গেছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কিছুদিন পর দেশে করোনা সংক্রমণের একটি ধাক্কা আসতে পারে। তখন রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার।

এ পরিস্থিতিতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। করোনা পরীক্ষায় যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাতিল করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কাজেই এখন কোনোভাবেই নমুনা পরীক্ষা কমানো ঠিক হবে না।

পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো না হলে শনাক্তের সংখ্যা বোঝা যাবে না, দেশে সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতিও বোঝা যাবে না। কাজেই সফলভাবে করোনা মোকাবেলার লক্ষ্যে নমুনা সংগ্রহের বিদ্যমান বুথগুলো চালু রাখার পাশাপাশি আরও নতুন বুথ চালু করতে হবে।