বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট
jugantor
বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট
বেতন-ভাতাসহ সবকিছু নিয়মের আওতায় আসুক

   

০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে ঠিক কতজন বিদেশি কাজ করছেন এবং তারা নিয়মনীতি মেনে, আইনের আওতায় থেকে কাজ করছেন কি না, বেতন-ভাতা হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের কর পরিশোধ করছেন কি না; তা স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সময় ভিনদেশিদের এখানে কাজ করার বিষয়টি আলোচনায় এলেও একে কাঠামোবদ্ধ করে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসার দাবি পূরণ হয়নি। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের নানা ফন্দি বেরিয়ে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, দেশে কর্মরত বেশিরভাগ বিদেশির শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পদমর্যাদার সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিটে দেখানো বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এভাবে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিদেশি কর্মীরা অর্থ পাচারে লিপ্ত। এমন অপরাধ দমন ও বিদেশি কর্মীদের নিয়মের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেতন প্রদান ও বেতন কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক অনিয়মসহ নানা অপরাধ দূরীকরণে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই জরুরি।

সরকারের হাতে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি সংস্থা টিআইবির গবেষণা সূত্রে বলা হয়, দেশে বৈধ-অবৈধ অন্তত আড়াই লাখ বিদেশি কর্মরত রয়েছেন। আর তাদের ন্যূনতম বেতন হিসাব করলেও বছরে কমপক্ষে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। এমনকি বিদেশি কর্মীদের কর ফাঁকির ফলে সরকার বছরে অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের অলিখিত চুক্তি থাকে যে, তাদের বেতনের বড় একটি অংশ নিজেদের দেশে বা অন্য কোনো দেশে দেয়া হয়। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে পুরো বেতন দেয়া হলে ৩০ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। আর এ আয়কর ফাঁকি দেয়ার জন্য দেশের বাইরে বেতন নেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশিরা বেশি আগ্রহী। অভিজ্ঞ কর্মী ধরে রাখা ও মানসম্মত পণ্য তৈরির নিশ্চয়তার জন্য নিয়োগদাতারা এটি মেনে নেন। আবার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকাও বিদেশিদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে কম দায়ী নয়। এ ছাড়া বিদেশি কর্মীসংক্রান্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে- বিডা, বেপজা ও এনজিও ব্যুরোর তথ্যে মিল নেই। এ অবস্থায় সরকার নিয়মনীতি তৈরি করলে সেটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও পরিপালনের জন্য নজরদারির উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী।

উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত- সব দেশই নিজেদের প্রয়োজনে বিদেশি কর্মী হায়ার করে থাকে। তবে পার্থক্য, অন্যান্য দেশে এ সংক্রান্ত নিয়মনীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি থাকলেও আমাদের অবস্থা একেবারে বিপরীত। এমনিতেই বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত আমাদের মানবসম্পদ। তার ওপর করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় অনেক বিদেশিকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা একটি কাঠামোর আওতায় এনে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আমাদের বেকাররা যাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে কর্মরত বিদেশিদের স্থান পূরণ করতে পারে, সে উদ্যোগ নিতে হবে। মানসম্মত দেশি কর্মী পাওয়া গেলে বাড়তি অর্থে বিদেশি হায়ার করতে চাইবে না কোনো কোম্পানি- এটাই স্বাভাবিক।

বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট

বেতন-ভাতাসহ সবকিছু নিয়মের আওতায় আসুক
  
০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে ঠিক কতজন বিদেশি কাজ করছেন এবং তারা নিয়মনীতি মেনে, আইনের আওতায় থেকে কাজ করছেন কি না, বেতন-ভাতা হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের কর পরিশোধ করছেন কি না; তা স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সময় ভিনদেশিদের এখানে কাজ করার বিষয়টি আলোচনায় এলেও একে কাঠামোবদ্ধ করে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসার দাবি পূরণ হয়নি। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের নানা ফন্দি বেরিয়ে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, দেশে কর্মরত বেশিরভাগ বিদেশির শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পদমর্যাদার সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিটে দেখানো বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এভাবে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিদেশি কর্মীরা অর্থ পাচারে লিপ্ত। এমন অপরাধ দমন ও বিদেশি কর্মীদের নিয়মের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেতন প্রদান ও বেতন কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক অনিয়মসহ নানা অপরাধ দূরীকরণে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই জরুরি।

সরকারের হাতে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি সংস্থা টিআইবির গবেষণা সূত্রে বলা হয়, দেশে বৈধ-অবৈধ অন্তত আড়াই লাখ বিদেশি কর্মরত রয়েছেন। আর তাদের ন্যূনতম বেতন হিসাব করলেও বছরে কমপক্ষে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। এমনকি বিদেশি কর্মীদের কর ফাঁকির ফলে সরকার বছরে অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের অলিখিত চুক্তি থাকে যে, তাদের বেতনের বড় একটি অংশ নিজেদের দেশে বা অন্য কোনো দেশে দেয়া হয়। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে পুরো বেতন দেয়া হলে ৩০ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। আর এ আয়কর ফাঁকি দেয়ার জন্য দেশের বাইরে বেতন নেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশিরা বেশি আগ্রহী। অভিজ্ঞ কর্মী ধরে রাখা ও মানসম্মত পণ্য তৈরির নিশ্চয়তার জন্য নিয়োগদাতারা এটি মেনে নেন। আবার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকাও বিদেশিদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে কম দায়ী নয়। এ ছাড়া বিদেশি কর্মীসংক্রান্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে- বিডা, বেপজা ও এনজিও ব্যুরোর তথ্যে মিল নেই। এ অবস্থায় সরকার নিয়মনীতি তৈরি করলে সেটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও পরিপালনের জন্য নজরদারির উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী।

উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত- সব দেশই নিজেদের প্রয়োজনে বিদেশি কর্মী হায়ার করে থাকে। তবে পার্থক্য, অন্যান্য দেশে এ সংক্রান্ত নিয়মনীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি থাকলেও আমাদের অবস্থা একেবারে বিপরীত। এমনিতেই বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত আমাদের মানবসম্পদ। তার ওপর করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় অনেক বিদেশিকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা একটি কাঠামোর আওতায় এনে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আমাদের বেকাররা যাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে কর্মরত বিদেশিদের স্থান পূরণ করতে পারে, সে উদ্যোগ নিতে হবে। মানসম্মত দেশি কর্মী পাওয়া গেলে বাড়তি অর্থে বিদেশি হায়ার করতে চাইবে না কোনো কোম্পানি- এটাই স্বাভাবিক।