রক্ষা পাক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার
jugantor
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস
রক্ষা পাক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার

  শাহ মো. জিয়াউদ্দিন  

০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আমাদের দেশে দিবসটি আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তবে এসব প্রতিপাদ্যের আলোকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমানের কতটুকু উন্নতি হয়েছে, তা পরিমাপের কি কোনো সূচক আছে?

দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের জীবনের ইতিবাচক উন্নতি কতটুকু হয়েছে তাও জানার বিষয়। দেশে দেশে নানা বর্ণিল উৎসবের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। উৎসবের ঘনঘটা দেখলে মনে হয়, আদিবাসীরাই আনন্দ প্রদানের একটি উপকরণ। তাছাড়া দেখা যায়, বিশ্বের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক টানার জন্য আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে আদিবাসীদের অধিকার কতটা রক্ষিত হয় সে প্রশ্নও রয়েছে। এ বিষয়গুলোর একটি সুস্পষ্ট সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান পৃথিবীতে ৭০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ রয়েছেন, যারা আদিবাসী তথা Indigenous People হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রতিপালনে তাদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ফলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে, আর এ কারণে প্রতিবছর ঘটছে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এ ধরনের বিপর্যয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তাই তাদের অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় আদিবাসী দিবস। ১৯৫৭ সালে জাতিসত্তার আত্মপরিচয়; সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পৃথিবীর এই মানবগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কর্তৃক একটি কনভেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কনভেশনে আদিবাসী ও ট্রাইবাল জনগোষ্ঠী কনভেশন ১৯৫৭(১০৭) গৃহীত হয়। ১৯৮৯ সালে গৃহীত ধারাটি সংস্কার করে ১৯৮৯(১৬৯) করা হয়। এভাবে জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা কর্তৃক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য দুটি ধারা গ্রহণের মাধ্যমে আদিবাসীদের সমঅধিকার দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়। ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসটি ৪৯/২১৪ বিধিমালায় স্বীকৃতি পায়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন- জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৯৩ সালকে আদিবাসীবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগণের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভূমির অধিকার, অঞ্চল বা টেরিটরির অধিকার, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ও নাগরিক মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান।

পৃথিবীজুড়ে আদিবাসীদের ভূমি মালিকানার বিষয়টি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, অধিকাংশ আদিবাসীর ভূমির স্বত্ব নেই। তাছাড়া বেশিরভাগ আদিবাসীই ভূমি মালিকানায় বিশ্বাসী নন। বাংলাদেশে পার্বত্য ও সমতলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের ভূমির মালিকানা নিয়ে সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৬০ ভাগ মানুষ ভূমিহীন। পাহাড়ে সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ভূমি কমিশন গঠন করেছে; কিন্তু সমতলে তা হয়নি। তাই আদিবাসী দিবসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির মালিকানাসহ অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসা দরকার।

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন : প্রাবন্ধিক

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

রক্ষা পাক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার

 শাহ মো. জিয়াউদ্দিন 
০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আমাদের দেশে দিবসটি আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তবে এসব প্রতিপাদ্যের আলোকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমানের কতটুকু উন্নতি হয়েছে, তা পরিমাপের কি কোনো সূচক আছে?

দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের জীবনের ইতিবাচক উন্নতি কতটুকু হয়েছে তাও জানার বিষয়। দেশে দেশে নানা বর্ণিল উৎসবের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। উৎসবের ঘনঘটা দেখলে মনে হয়, আদিবাসীরাই আনন্দ প্রদানের একটি উপকরণ। তাছাড়া দেখা যায়, বিশ্বের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক টানার জন্য আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে আদিবাসীদের অধিকার কতটা রক্ষিত হয় সে প্রশ্নও রয়েছে। এ বিষয়গুলোর একটি সুস্পষ্ট সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান পৃথিবীতে ৭০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ রয়েছেন, যারা আদিবাসী তথা Indigenous People হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রতিপালনে তাদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ফলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে, আর এ কারণে প্রতিবছর ঘটছে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এ ধরনের বিপর্যয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তাই তাদের অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় আদিবাসী দিবস। ১৯৫৭ সালে জাতিসত্তার আত্মপরিচয়; সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পৃথিবীর এই মানবগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কর্তৃক একটি কনভেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কনভেশনে আদিবাসী ও ট্রাইবাল জনগোষ্ঠী কনভেশন ১৯৫৭(১০৭) গৃহীত হয়। ১৯৮৯ সালে গৃহীত ধারাটি সংস্কার করে ১৯৮৯(১৬৯) করা হয়। এভাবে জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা কর্তৃক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য দুটি ধারা গ্রহণের মাধ্যমে আদিবাসীদের সমঅধিকার দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়। ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসটি ৪৯/২১৪ বিধিমালায় স্বীকৃতি পায়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন- জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৯৩ সালকে আদিবাসীবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগণের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভূমির অধিকার, অঞ্চল বা টেরিটরির অধিকার, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ও নাগরিক মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান।

পৃথিবীজুড়ে আদিবাসীদের ভূমি মালিকানার বিষয়টি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, অধিকাংশ আদিবাসীর ভূমির স্বত্ব নেই। তাছাড়া বেশিরভাগ আদিবাসীই ভূমি মালিকানায় বিশ্বাসী নন। বাংলাদেশে পার্বত্য ও সমতলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের ভূমির মালিকানা নিয়ে সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৬০ ভাগ মানুষ ভূমিহীন। পাহাড়ে সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ভূমি কমিশন গঠন করেছে; কিন্তু সমতলে তা হয়নি। তাই আদিবাসী দিবসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির মালিকানাসহ অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসা দরকার।

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন : প্রাবন্ধিক