করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা: অবিলম্বে এ পদ্ধতির অনুমোদন দেয়া উচিত
jugantor
করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা: অবিলম্বে এ পদ্ধতির অনুমোদন দেয়া উচিত

  সম্পাদকীয়  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাফল্য পেতে নমুনা পরীক্ষায় গতি বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয়বহুল আরটি পিসিআর পরীক্ষা শেষ করতে যেখানে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা, সেখানে স্বল্প ব্যয়ের অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় মাত্র ১০-২০ মিনিটে। এটি উচ্চমাত্রায় সংবেদনশীল।

তাছাড়া সাধারণ নমুনা পরীক্ষাগারেই এ পরীক্ষা করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য খুব বেশি প্রযুক্তি জ্ঞানেরও প্রয়োজন হয় না। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিজেনভিত্তিক র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্টের বিষয়ে দেড় মাস আগেই সুপারিশ করেছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এর অনুমোদন মেলেনি আজও। জানা যায়, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বাংলাদেশকে করোনাসংক্রান্ত বিষয়ে ৩ লাখ ডলার অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থ দিয়ে দেশটিতে উৎপাদিত করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করা যাবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বে যেসব অ্যান্টিজেন কিট রয়েছে, তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদিত কিট সবচেয়ে ভালো।

তাদের অনুদানের অর্থেই এ কিট এনে আমরা পরীক্ষা চালাতে পারি। তা সত্ত্বেও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কেন অনুমোদন পাচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাহলে কি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নেপথ্যে এ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে? বর্তমানে যারা আরটি পিসিআর কিট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের কারণেই কি আটকে আছে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অনেক মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।

করোনা মোকাবেলায় দ্রুত সাফল্য পেতে প্রয়োজন ব্যাপকভিত্তিক নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা রোগীদের শনাক্ত করা। অথচ দেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার গতি অত্যন্ত মন্থর। প্রতিদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পরীক্ষা করা এখনও দেশে কঠিন কাজগুলোর একটি। বস্তুত দেশে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা চলছে, তাতে করোনা মোকাবেলায় দ্রুত সাফল্য অর্জন করা কঠিন।

বর্তমানে শুধু তারাই পরীক্ষা করাতে আসছেন, যাদের করোনা উপসর্গ রয়েছে। যাদের উপসর্গ নেই, তারা মূলত পরীক্ষা করানোর কথা ভাবছেনই না। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত বড় অংশের মানুষেরই কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পরীক্ষা না করানোর কারণে এসব মানুষকে পৃথক করা বা চিকিৎসার আওতায় আনা হয় না। ফলে তাদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়। দ্রুত করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে এ পরিস্থিতির অবসান হতো নিশ্চয়ই। কাজেই নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য আমাদের কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।

এ বাস্তবতায় দেশে অবিলম্বে অ্যান্টিজেনভিত্তিক র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট শুরু করা উচিত। বিশ্বের অনেক দেশে, এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতেও এ পদ্ধতির পরীক্ষা বহুল প্রচলিত। আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারি না। বস্তুত অনেক আগেই আমাদের এ পদ্ধতিতে যাওয়া উচিত ছিল। বিলম্বে হলেও সরকার অ্যান্টিজেনভিত্তিক করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দেবে-এটাই কাম্য।

করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা: অবিলম্বে এ পদ্ধতির অনুমোদন দেয়া উচিত

 সম্পাদকীয় 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাফল্য পেতে নমুনা পরীক্ষায় গতি বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয়বহুল আরটি পিসিআর পরীক্ষা শেষ করতে যেখানে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা, সেখানে স্বল্প ব্যয়ের অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় মাত্র ১০-২০ মিনিটে। এটি উচ্চমাত্রায় সংবেদনশীল।

তাছাড়া সাধারণ নমুনা পরীক্ষাগারেই এ পরীক্ষা করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য খুব বেশি প্রযুক্তি জ্ঞানেরও প্রয়োজন হয় না। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিজেনভিত্তিক র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্টের বিষয়ে দেড় মাস আগেই সুপারিশ করেছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এর অনুমোদন মেলেনি আজও। জানা যায়, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বাংলাদেশকে করোনাসংক্রান্ত বিষয়ে ৩ লাখ ডলার অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থ দিয়ে দেশটিতে উৎপাদিত করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করা যাবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বে যেসব অ্যান্টিজেন কিট রয়েছে, তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদিত কিট সবচেয়ে ভালো।

তাদের অনুদানের অর্থেই এ কিট এনে আমরা পরীক্ষা চালাতে পারি। তা সত্ত্বেও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কেন অনুমোদন পাচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাহলে কি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নেপথ্যে এ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে? বর্তমানে যারা আরটি পিসিআর কিট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের কারণেই কি আটকে আছে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অনেক মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।

করোনা মোকাবেলায় দ্রুত সাফল্য পেতে প্রয়োজন ব্যাপকভিত্তিক নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা রোগীদের শনাক্ত করা। অথচ দেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার গতি অত্যন্ত মন্থর। প্রতিদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পরীক্ষা করা এখনও দেশে কঠিন কাজগুলোর একটি। বস্তুত দেশে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা চলছে, তাতে করোনা মোকাবেলায় দ্রুত সাফল্য অর্জন করা কঠিন।

বর্তমানে শুধু তারাই পরীক্ষা করাতে আসছেন, যাদের করোনা উপসর্গ রয়েছে। যাদের উপসর্গ নেই, তারা মূলত পরীক্ষা করানোর কথা ভাবছেনই না। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত বড় অংশের মানুষেরই কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পরীক্ষা না করানোর কারণে এসব মানুষকে পৃথক করা বা চিকিৎসার আওতায় আনা হয় না। ফলে তাদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়। দ্রুত করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে এ পরিস্থিতির অবসান হতো নিশ্চয়ই। কাজেই নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য আমাদের কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।

এ বাস্তবতায় দেশে অবিলম্বে অ্যান্টিজেনভিত্তিক র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট শুরু করা উচিত। বিশ্বের অনেক দেশে, এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতেও এ পদ্ধতির পরীক্ষা বহুল প্রচলিত। আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারি না। বস্তুত অনেক আগেই আমাদের এ পদ্ধতিতে যাওয়া উচিত ছিল। বিলম্বে হলেও সরকার অ্যান্টিজেনভিত্তিক করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দেবে-এটাই কাম্য।