নিরাপদ সড়ক কি অলীক স্বপ্ন?

  শ্যামল শর্মা ১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা কতটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে, তা দেশের প্রতিদিনের দুর্ঘটনার চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। এটা খুবই দুঃখজনক যে, অনেক চেষ্টার পরও সড়কে নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে পারছে না সরকার। জোরালো অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন আইন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর একচেটিয়া প্রাধান্যের কারণেই এ খাতে শৃঙ্খলা আসছে না।

এ ছাড়া সরকার, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আইন আছে, কিন্তু এর প্রয়োগ করতে গেলেই বাধা আসে। এর ফলে রক্ষা হচ্ছে না যাত্রীস্বার্থ। অকাতরে প্রাণ যাচ্ছে সড়কে। অনেকে তা নিয়তি বলেই মেনে নিচ্ছেন। কিন্তু এটি যে নিছক নিয়তি নয় তা বোঝার জ্ঞান আমাদের হয় না।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ হতাহত হয়, তা দেশের সব অপরাধ কর্মকাণ্ড মিলিয়েও হয় না। সড়ক দুর্ঘটনায় আগে সর্বাধিকের তালিকায় নাম ছিল নেপালের। নেপাল সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এখন দ্বিতীয় স্থানে চলে আসায় বাংলাদেশ প্রথম স্থানে চলে এসেছে। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রতিবছর দেশের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ।

সব দেশেই সড়ক দুর্ঘটনা হয়; কিন্তু তার সংখ্যা কম। ভারতেও এর সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। এর মূল কারণ, যেসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হয় সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পর্কে অন্যান্য দেশের সরকার উদাসীন নয়। তারা এ কাজকে নিজেদের দায়িত্বের বাইরের বিষয় মনে করে না। হাজার হাজার নিরীহ লোকের মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও জীবনের সর্বনাশ একটি নীরব ব্যাপার হিসেবেই দেশে নিয়মিতভাবে ঘটে চলে। আমাদের স্মরণে রাখা উচিত- সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু ব্যক্তির জীবনহানিই ঘটে না, পারিবারিক অনিশ্চয়তারও সৃষ্টি হয়।

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকের দায়িত্বহীনতা ও অনভিজ্ঞতা। যেমন: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে বা অন্য কারও সঙ্গে কথা বলা, ট্রাফিক আইন যথাযথ অনুসরণ না করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য পরিবহন, রোড সাইন, মার্কিং ও ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে ধারণা না থাকা বা ধারণা থাকলেও সেগুলো মেনে না চলা, সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে অজ্ঞতার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারবিধি ও আইনের প্রতি উদাসীনতা ও শ্রদ্ধাবোধের অভাব, বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেক করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানো, চালকের পরিবর্তে হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না নিয়ে অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় একটানা গাড়ি চালানো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ও দৈহিক অযোগ্যতা নিয়ে গাড়ি চালানো ইত্যাদি।

এসব কারণ সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দফতর টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ চালকদের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে। এমনকি অপ্রাপ্ত বয়সের কিশোরদের হাতেও ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দেয়া হয়। সড়ক দুর্ঘটনার নৈপথ্যে মালিকপক্ষও কিছুটা দানবীয় ভূমিকা পালন করে থাকে।

যেমন: নিয়মিত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ না করা, যোগ্য ও অদক্ষ চালক নিয়োগ দেয়া এবং চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করা, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর মালিকের নিয়ন্ত্রণ না থাকা, অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক পণ্য বা যাত্রী পরিবহনের জন্য চালক ও কন্ডাক্টরকে নির্দেশ দেয়া, শ্রমিকদের দিয়ে অধিক পরিশ্রম করানো ও স্বল্প পারিশ্রমিক দেয়া, বেতনভিত্তিক চালক নিয়োগ না দিয়ে চুক্তিভিত্তিক চালক নিয়োগ দেয়া, শ্রমিকদের পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করা, লাইসেন্স প্রদানে মালিকপক্ষের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা ইত্যাদি।

আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা ও উদ্যোগই পারে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে।

শ্যামল শর্মা : সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, যশোর জেলা শাখা

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত