বন্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
jugantor
বন্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
মোকাবেলার প্রস্তুতি নিন

  সম্পাদকীয়  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এ বছর দফায় দফায় বন্যায় দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। এখন দেশের কোনো কোনো এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যাউপদ্রুত এলাকার মানুষ নানারকম সমস্যা মোকাবেলা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন পর দেশে আবারও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া উজানের পানির কারণে যে কোনো সময় আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অর্থাৎ আরও কয়েক সপ্তাহ বন্যা মোকাবেলা করার জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার আশঙ্কার বিষয়ে আবহাওয়া বিভাগেরও সতর্কবার্তা রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে দ্রুত তা মেরামত করতে হবে। এসব কাজ যাতে সময়মতো ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয় এ বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি রোপা আমনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতেও বলেছেন তিনি। বস্তুত রোপা আমনের উৎপাদন ঠিকভাবে হলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

বন্যা বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে। তাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। নিরাপদ পানির অভাব থেকে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া সৃষ্টি হয় যোগাযোগ সংকটও।

বন্যাউপদ্রুত এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিঘ্নিত হয়। কাজেই এসব এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। শুকনা খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ইত্যাদি প্রাণরক্ষা-সহায়ক উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ত্রাণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার। শুধু সরকারি ত্রাণ তৎপরতা নয়, প্রয়োজন বেসরকারি উদ্যোগও।

দেশে এমন এক সময় বন্যা দেখা দিয়েছে, যখন করোনা মহামারী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ প্রেরণ এবং তাদের পুনর্বাসনের বিকল্প নেই। এমনিতেই করোনার কারণে বহু মানুষের আয়-রোজগারের পথ হয়ে গেছে বন্ধ, তার ওপর বন্যার কারণে অনেকের বাসস্থান, কৃষিক্ষেত্র, গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের পাশাপাশি এনজিওগুলোরও উচিত দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ানো।

দেশে প্রতি বছরই কমবেশি বন্যা দেখা দেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। বন্যার সঙ্গে সহাবস্থান করে জীবন ধারণের কৌশলও বের করা দরকার। কেননা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আরও একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার।

দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে প্লাবনভূমির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এতে কম পানিতেই বেশি বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। এসব নদীর শাখা নদীগুলোর স্রোতপ্রবাহের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য লোপ পেয়েছে এবং এগুলোও অনেকটা প্লাবনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ছোট শাখা নদীগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নদী খননের মাধ্যমে উজান থেকে বেয়ে আসা পলি নিয়মিতভাবে ও দ্রুত অপসারণ করা না হলে ভবিষ্যতে দেশে বন্যার প্রকোপ ও ব্যাপ্তি ক্রমেই বাড়তে থাকবে। তাই অবিলম্বে এ দিকটিতে দৃষ্টি দিতে হবে।

বন্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

মোকাবেলার প্রস্তুতি নিন
 সম্পাদকীয় 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এ বছর দফায় দফায় বন্যায় দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। এখন দেশের কোনো কোনো এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যাউপদ্রুত এলাকার মানুষ নানারকম সমস্যা মোকাবেলা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন পর দেশে আবারও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া উজানের পানির কারণে যে কোনো সময় আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অর্থাৎ আরও কয়েক সপ্তাহ বন্যা মোকাবেলা করার জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার আশঙ্কার বিষয়ে আবহাওয়া বিভাগেরও সতর্কবার্তা রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে দ্রুত তা মেরামত করতে হবে। এসব কাজ যাতে সময়মতো ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয় এ বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি রোপা আমনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতেও বলেছেন তিনি। বস্তুত রোপা আমনের উৎপাদন ঠিকভাবে হলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

বন্যা বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে। তাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। নিরাপদ পানির অভাব থেকে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া সৃষ্টি হয় যোগাযোগ সংকটও।

বন্যাউপদ্রুত এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিঘ্নিত হয়। কাজেই এসব এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। শুকনা খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ইত্যাদি প্রাণরক্ষা-সহায়ক উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ত্রাণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার। শুধু সরকারি ত্রাণ তৎপরতা নয়, প্রয়োজন বেসরকারি উদ্যোগও।

দেশে এমন এক সময় বন্যা দেখা দিয়েছে, যখন করোনা মহামারী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ প্রেরণ এবং তাদের পুনর্বাসনের বিকল্প নেই। এমনিতেই করোনার কারণে বহু মানুষের আয়-রোজগারের পথ হয়ে গেছে বন্ধ, তার ওপর বন্যার কারণে অনেকের বাসস্থান, কৃষিক্ষেত্র, গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের পাশাপাশি এনজিওগুলোরও উচিত দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ানো।

দেশে প্রতি বছরই কমবেশি বন্যা দেখা দেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। বন্যার সঙ্গে সহাবস্থান করে জীবন ধারণের কৌশলও বের করা দরকার। কেননা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আরও একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার।

দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে প্লাবনভূমির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এতে কম পানিতেই বেশি বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। এসব নদীর শাখা নদীগুলোর স্রোতপ্রবাহের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য লোপ পেয়েছে এবং এগুলোও অনেকটা প্লাবনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ছোট শাখা নদীগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নদী খননের মাধ্যমে উজান থেকে বেয়ে আসা পলি নিয়মিতভাবে ও দ্রুত অপসারণ করা না হলে ভবিষ্যতে দেশে বন্যার প্রকোপ ও ব্যাপ্তি ক্রমেই বাড়তে থাকবে। তাই অবিলম্বে এ দিকটিতে দৃষ্টি দিতে হবে।