করোনা মোকাবেলায় কৃচ্ছ্রসাধন
jugantor
করোনা মোকাবেলায় কৃচ্ছ্রসাধন
দুর্নীতি প্রতিরোধেও দৃষ্টি দিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার অভিঘাত পড়েছে বিশ্বের সব দেশেই। মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষতি ছাড়াও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিটি দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কবে এ মহামারীর অবসান হবে তা এখনও অজানা।

এ বাস্তবতায় প্রতিটি দেশই চেষ্টা করছে নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারে না। দেশের শিল্প খাতে করোনার প্রভাব ব্যাপক। আগামীতে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের আয়ের উৎস হয়ে পড়বে সংকুচিত। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ছয় খাতে খরচ কমানো হচ্ছে। খাতগুলো হল- জ্বালানি, আইসিটি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, সরকারি মোটরযান মেরামত, আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটা।

জানা গেছে, এসব খাতে চলতি বাজেটের মোট বরাদ্দের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে। এতে ৩২৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এর আগে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয় হ্রাস, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় যানবাহন ক্রয় এবং চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ সময়োচিত।

বস্তুত শুধু সংকটকালে নয়, কোনো সময়ই সরকারি অর্থের অপচয়, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় কাম্য নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফরের কারণে জনগণের অর্থের অপচয়ের বিষয়টি সর্বজনবিদিত। অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে অথবা অন্যান্য অজুহাতে সরকারি কর্মকর্তারা হামেশাই বিদেশ সফর করেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের কোনো কাজে আসে না। আবার অনেক সময় সফরে যাওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

ইতোপূর্বে খোদ প্রধানমন্ত্রীও সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদেশ সফর নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। তাই আমরা আশা করব, শুধু কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে নয়, সব ক্ষেত্রেই সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতি রোধেও সরকারকে কঠোর হতে হবে।

বিভিন্ন খাতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কেনাকাটায় অস্বাভাবিক বেশি দাম দেখানোর ঘটনা আজকাল প্রায়ই ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে বড় অঙ্কের সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে বলে মনে করি আমরা। খরচের লাগাম টেনে ধরতে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও অর্থের অপব্যবহার রোধে দৃষ্টি দেয়া হবে, এটাই কাম্য।

করোনা মোকাবেলায় কৃচ্ছ্রসাধন

দুর্নীতি প্রতিরোধেও দৃষ্টি দিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার অভিঘাত পড়েছে বিশ্বের সব দেশেই। মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষতি ছাড়াও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিটি দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কবে এ মহামারীর অবসান হবে তা এখনও অজানা।

এ বাস্তবতায় প্রতিটি দেশই চেষ্টা করছে নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারে না। দেশের শিল্প খাতে করোনার প্রভাব ব্যাপক। আগামীতে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের আয়ের উৎস হয়ে পড়বে সংকুচিত। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ছয় খাতে খরচ কমানো হচ্ছে। খাতগুলো হল- জ্বালানি, আইসিটি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, সরকারি মোটরযান মেরামত, আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটা।

জানা গেছে, এসব খাতে চলতি বাজেটের মোট বরাদ্দের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে। এতে ৩২৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এর আগে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয় হ্রাস, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় যানবাহন ক্রয় এবং চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ সময়োচিত।

বস্তুত শুধু সংকটকালে নয়, কোনো সময়ই সরকারি অর্থের অপচয়, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় কাম্য নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফরের কারণে জনগণের অর্থের অপচয়ের বিষয়টি সর্বজনবিদিত। অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে অথবা অন্যান্য অজুহাতে সরকারি কর্মকর্তারা হামেশাই বিদেশ সফর করেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের কোনো কাজে আসে না। আবার অনেক সময় সফরে যাওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

ইতোপূর্বে খোদ প্রধানমন্ত্রীও সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদেশ সফর নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। তাই আমরা আশা করব, শুধু কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে নয়, সব ক্ষেত্রেই সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতি রোধেও সরকারকে কঠোর হতে হবে।

বিভিন্ন খাতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কেনাকাটায় অস্বাভাবিক বেশি দাম দেখানোর ঘটনা আজকাল প্রায়ই ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে বড় অঙ্কের সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে বলে মনে করি আমরা। খরচের লাগাম টেনে ধরতে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও অর্থের অপব্যবহার রোধে দৃষ্টি দেয়া হবে, এটাই কাম্য।