চলমান মেগা প্রকল্প: নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নই কাম্য
jugantor
চলমান মেগা প্রকল্প: নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নই কাম্য

  সম্পাদকীয়  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকার টানা কয়েক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দেশে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন হবে, দেশবাসী এমনটাই আশা করছে। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ- এসব প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করা গেলে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

এক কথায় বলা যায়, চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে আমূল পরিবর্তনের ধারার সূচনা হবে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পর্যন্ত সাতটি মেগা প্রকল্পে খরচ হয়েছে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। কিন্তু বাস্তবে কাজের গড় অগ্রগতি মাত্র ৪৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে পদ্মা বহুমুখী সেতু- ৮১ শতাংশ।

সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হয়েছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের। এটির অগ্রগতি ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। লক্ষ করা যায়, দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো ও বরাদ্দ হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। করোনার কারণে সমগ্র বিশ্বের মতো আমাদের দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের আঘাত এসেছে।

এ অবস্থায় মেগা প্রকল্পগুলোতে যাতে ব্যয় বেড়ে না যায় তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো কেবল উন্নয়ন প্রকল্পই নয়, এসব প্রকল্পের সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টিও বিশেষভাবে জড়িত। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত সবাই দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

জানা গেছে, করোনার ধাক্কা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি অধিকাংশ প্রকল্প। লকডাউনের পর গতি বাড়ছে ধীরে ধীরে। বিদেশিরা এখনও পুরোপুরি কাজে যোগদান করেননি। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অর্থের কোনো সমস্যা নেই। গত জুলাই পর্যন্ত এই হিসাব দেয়া হয়েছে ফাস্টট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদনে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

দেশে করোনার তাণ্ডব শুরু হওয়ার পর প্রায় সব উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। যখন বিমান চলাচল বন্ধ ছিল তখনও রাশিয়ার কর্মীরা বিমান রিজার্ভ করে এসেছিলেন। এতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি স্পষ্ট। এ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার ছাপ অন্যান্য মেগা প্রকল্পে পড়লে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি হবে।

চলমান প্রতিটি মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও মেট্রোরেল প্রকল্পটির প্রতি দেশবাসী, বিশেষত রাজধানীবাসীর আগ্রহ স্বভাবতই বেশি। এদিকে রয়েছে সবার বিশেষ দৃষ্টি। সবাই আশা করছেন, মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহন সংকট কমবে।

বস্তুত রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার গণপরিবহন সংকটের সমাধানে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে প্রকল্পগুলোর কাজ কাঙ্ক্ষিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

চলমান মেগা প্রকল্প: নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নই কাম্য

 সম্পাদকীয় 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকার টানা কয়েক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দেশে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন হবে, দেশবাসী এমনটাই আশা করছে। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ- এসব প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করা গেলে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

এক কথায় বলা যায়, চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে আমূল পরিবর্তনের ধারার সূচনা হবে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পর্যন্ত সাতটি মেগা প্রকল্পে খরচ হয়েছে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। কিন্তু বাস্তবে কাজের গড় অগ্রগতি মাত্র ৪৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে পদ্মা বহুমুখী সেতু- ৮১ শতাংশ।

সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হয়েছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের। এটির অগ্রগতি ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। লক্ষ করা যায়, দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো ও বরাদ্দ হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। করোনার কারণে সমগ্র বিশ্বের মতো আমাদের দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের আঘাত এসেছে।

এ অবস্থায় মেগা প্রকল্পগুলোতে যাতে ব্যয় বেড়ে না যায় তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো কেবল উন্নয়ন প্রকল্পই নয়, এসব প্রকল্পের সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টিও বিশেষভাবে জড়িত। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত সবাই দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

জানা গেছে, করোনার ধাক্কা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি অধিকাংশ প্রকল্প। লকডাউনের পর গতি বাড়ছে ধীরে ধীরে। বিদেশিরা এখনও পুরোপুরি কাজে যোগদান করেননি। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অর্থের কোনো সমস্যা নেই। গত জুলাই পর্যন্ত এই হিসাব দেয়া হয়েছে ফাস্টট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদনে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

দেশে করোনার তাণ্ডব শুরু হওয়ার পর প্রায় সব উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। যখন বিমান চলাচল বন্ধ ছিল তখনও রাশিয়ার কর্মীরা বিমান রিজার্ভ করে এসেছিলেন। এতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি স্পষ্ট। এ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার ছাপ অন্যান্য মেগা প্রকল্পে পড়লে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি হবে।

চলমান প্রতিটি মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও মেট্রোরেল প্রকল্পটির প্রতি দেশবাসী, বিশেষত রাজধানীবাসীর আগ্রহ স্বভাবতই বেশি। এদিকে রয়েছে সবার বিশেষ দৃষ্টি। সবাই আশা করছেন, মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহন সংকট কমবে।

বস্তুত রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার গণপরিবহন সংকটের সমাধানে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে প্রকল্পগুলোর কাজ কাঙ্ক্ষিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।