ছড়িয়ে পড়ুক গণতন্ত্রের সুফল
jugantor
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
ছড়িয়ে পড়ুক গণতন্ত্রের সুফল

  ফজলে রাব্বি ফরহাদ  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। ২০০৭ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত এবং গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য এই বিশেষ দিনটি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপর থেকেই প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়ে আসছে। এর আগে এই দিবসটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালিত হতো।

কিন্তু জাতিসংঘের ঘোষণার পর সারা বিশ্বে ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। দিনটিতে জাতিসংঘ তার সব সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ জনগণের মাঝে গণতন্ত্রের গুরুত্ব, তাৎপর্য, নীতি ও আচরণসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানায়।

১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের রাজনীতিকদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অন ডেমোক্র্যাসি’ নামের একটি প্রস্তাব আনে। এতে গণতন্ত্রের নীতি, আদর্শ, উপাদান, গণতান্ত্রিক সরকারের চর্চা এবং গণতন্ত্র সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরির বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

ফ্রান্সের এ প্রস্তাবের আগেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। ফিলিপাইনে ফার্ডিনান্ড মার্কোসের ২০ বছরের স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এই সম্মেলন হয়।

সম্মেলনটির নাম ছিল দি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নিউ অ্যান্ড রিস্টোর্ড ডেমোক্র্যাসিজ তথা আইসিএনআরডি। ২০০৬ সালে আইসিএনআরডির ষষ্ঠতম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় কাতারের রাজধানী দোহায়। কাতারের এই সম্মেলনে গণতন্ত্রের মূলনীতি, মূল্যবোধ কার্যকরকরণ ও সম্প্রসারণে একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

এর অংশ হিসেবে একটি উপদেষ্টা বোর্ডও গঠন করা হয়। বোর্ডে কাতার একটি আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রস্তাব আনে। পরবর্তীকালে কাতারের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ ও প্রস্তাব আহবান করা হয়। পরে ফ্রান্সের আইপিইউ ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাব করলে তা ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

আজ আন্তর্জাতিকভাবে গণতন্ত্র দিবস পালিত হলেও বিশ্বের কত শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রের সুফল পাচ্ছে সেই প্রশ্নই বিবেচ্য বিষয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দি ইকোনমিস্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইইইউ) সূত্রমতে, গত এক বছরে (২০১৯) বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অবনমন ঘটেছে। ২০০৬ সালের পর খারাপ অবস্থানে আছে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক অবস্থা। তবে গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগের বছর বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৫৭ স্কোর নিয়ে ৮৮তম অবস্থানে ছিল; কিন্তু এ বছর ৫ দশমিক ৮৮ স্কোর নিয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে ৮০তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের এমন উন্নতিকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ বলে মন্তব্য করেছে ইইইউ।

বিশ্বের যে দেশগুলো গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের ওপর ভিত্তি করে চলছে, সেগুলোতে কবে গণতন্ত্রের পূর্ণ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছে বিশ্ববাসী। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে সবার প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের পূর্ণ চর্চা হোক বিশ্বের প্রতিটি দেশে।

ফজলে রাব্বি ফরহাদ : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

ছড়িয়ে পড়ুক গণতন্ত্রের সুফল

 ফজলে রাব্বি ফরহাদ 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। ২০০৭ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত এবং গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য এই বিশেষ দিনটি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপর থেকেই প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়ে আসছে। এর আগে এই দিবসটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালিত হতো।

কিন্তু জাতিসংঘের ঘোষণার পর সারা বিশ্বে ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। দিনটিতে জাতিসংঘ তার সব সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ জনগণের মাঝে গণতন্ত্রের গুরুত্ব, তাৎপর্য, নীতি ও আচরণসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানায়।

১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের রাজনীতিকদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অন ডেমোক্র্যাসি’ নামের একটি প্রস্তাব আনে। এতে গণতন্ত্রের নীতি, আদর্শ, উপাদান, গণতান্ত্রিক সরকারের চর্চা এবং গণতন্ত্র সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরির বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

ফ্রান্সের এ প্রস্তাবের আগেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। ফিলিপাইনে ফার্ডিনান্ড মার্কোসের ২০ বছরের স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এই সম্মেলন হয়।

সম্মেলনটির নাম ছিল দি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নিউ অ্যান্ড রিস্টোর্ড ডেমোক্র্যাসিজ তথা আইসিএনআরডি। ২০০৬ সালে আইসিএনআরডির ষষ্ঠতম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় কাতারের রাজধানী দোহায়। কাতারের এই সম্মেলনে গণতন্ত্রের মূলনীতি, মূল্যবোধ কার্যকরকরণ ও সম্প্রসারণে একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

এর অংশ হিসেবে একটি উপদেষ্টা বোর্ডও গঠন করা হয়। বোর্ডে কাতার একটি আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রস্তাব আনে। পরবর্তীকালে কাতারের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ ও প্রস্তাব আহবান করা হয়। পরে ফ্রান্সের আইপিইউ ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাব করলে তা ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

আজ আন্তর্জাতিকভাবে গণতন্ত্র দিবস পালিত হলেও বিশ্বের কত শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রের সুফল পাচ্ছে সেই প্রশ্নই বিবেচ্য বিষয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দি ইকোনমিস্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইইইউ) সূত্রমতে, গত এক বছরে (২০১৯) বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অবনমন ঘটেছে। ২০০৬ সালের পর খারাপ অবস্থানে আছে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক অবস্থা। তবে গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগের বছর বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৫৭ স্কোর নিয়ে ৮৮তম অবস্থানে ছিল; কিন্তু এ বছর ৫ দশমিক ৮৮ স্কোর নিয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে ৮০তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের এমন উন্নতিকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ বলে মন্তব্য করেছে ইইইউ।

বিশ্বের যে দেশগুলো গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের ওপর ভিত্তি করে চলছে, সেগুলোতে কবে গণতন্ত্রের পূর্ণ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছে বিশ্ববাসী। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে সবার প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের পূর্ণ চর্চা হোক বিশ্বের প্রতিটি দেশে।

ফজলে রাব্বি ফরহাদ : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়