আঙ্কারায় দূতাবাস ভবন উদ্বোধন
jugantor
আঙ্কারায় দূতাবাস ভবন উদ্বোধন
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক

  সম্পাদকীয়  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি (দূতাবাস) কমপ্লেক্সের ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেছেন। তিনি দু’দেশের জনগণের স্বার্থে এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

বস্তুত বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উন্নয়নে বিশ্বাসী। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাছাড়া তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। আমাদের মনে আছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হলে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগান ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এরপর তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমও ঢাকা ও কক্সবাজার সফর করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সব আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তুরস্ককে পাশে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

বস্তুত তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক বাংলাদেশের জনগণের কাছেও একজন জনপ্রিয় নেতা। আতাতুর্ক একদা গোটা মুসলিম বিশ্বে আধুনিকতা ও নবজাগরণের প্রবাদপুরুষ ছিলেন। আধুনিক তুরস্ক বিনির্মাণে তার ভূমিকা ও অবদান অপরিসীম। তুরস্ক মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও এর সংবিধান গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সর্বোপরি স্বাধীনতার পর একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়নে তুরস্কের প্রচ্ছন্ন অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তবে আরও অতীতে ১৩ শতকে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের ফলে তুরস্কের সঙ্গে এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, যে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু ১৯৭৪ সালে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধশত বছর আগে।

তুরস্কের অবস্থান এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে এবং সেই হিসেবে দেশটি ইউরোপ-এশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম সেতুবন্ধও বটে। তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে আমাদের।

জানা যায়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত মাছ, শুকনা খাবার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক পণ্য, সমুদ্রগামী জাহাজ, হালকা প্রকৌশল পণ্যের চাহিদা রয়েছে তুরস্কে। কিন্তু উচ্চ শুল্কহারের কারণে আশানুরূপ পণ্য তুরস্কে রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রত্যাশা করি আমরা।

আরও প্রত্যাশা, বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে তুরস্ক, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ যে তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়, তার প্রমাণ আঙ্কারায় এই স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স। আমাদের কূটনীতিকরা এ সুযোগ কাজে লাগাবেন, এটাই কাম্য।

আঙ্কারায় দূতাবাস ভবন উদ্বোধন

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক
 সম্পাদকীয় 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি (দূতাবাস) কমপ্লেক্সের ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেছেন। তিনি দু’দেশের জনগণের স্বার্থে এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

বস্তুত বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উন্নয়নে বিশ্বাসী। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাছাড়া তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। আমাদের মনে আছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হলে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগান ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এরপর তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমও ঢাকা ও কক্সবাজার সফর করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সব আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তুরস্ককে পাশে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

বস্তুত তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক বাংলাদেশের জনগণের কাছেও একজন জনপ্রিয় নেতা। আতাতুর্ক একদা গোটা মুসলিম বিশ্বে আধুনিকতা ও নবজাগরণের প্রবাদপুরুষ ছিলেন। আধুনিক তুরস্ক বিনির্মাণে তার ভূমিকা ও অবদান অপরিসীম। তুরস্ক মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও এর সংবিধান গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সর্বোপরি স্বাধীনতার পর একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়নে তুরস্কের প্রচ্ছন্ন অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তবে আরও অতীতে ১৩ শতকে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের ফলে তুরস্কের সঙ্গে এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, যে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু ১৯৭৪ সালে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধশত বছর আগে।

তুরস্কের অবস্থান এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে এবং সেই হিসেবে দেশটি ইউরোপ-এশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম সেতুবন্ধও বটে। তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে আমাদের।

জানা যায়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত মাছ, শুকনা খাবার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক পণ্য, সমুদ্রগামী জাহাজ, হালকা প্রকৌশল পণ্যের চাহিদা রয়েছে তুরস্কে। কিন্তু উচ্চ শুল্কহারের কারণে আশানুরূপ পণ্য তুরস্কে রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রত্যাশা করি আমরা।

আরও প্রত্যাশা, বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে তুরস্ক, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ যে তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়, তার প্রমাণ আঙ্কারায় এই স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স। আমাদের কূটনীতিকরা এ সুযোগ কাজে লাগাবেন, এটাই কাম্য।