পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা
jugantor
পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা
কারসাজি বন্ধ করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থির হতে শুরু করেছে। পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদার বড় অংশই দেশে উৎপাদিত হয়; বাকি অংশ আমদানি করা হয়। অনেক দেশ থেকেই এ পণ্যটি আমদানি করা হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে অল্প সময়ের মধ্যেই যে কোনো দেশ থেকে এটি আমদানি করা সম্ভব।

তারপরও ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পরপর দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। বস্তুত গত কয়েকদিন ধরেই দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের বাজারে আরেক দফা দাম বেড়েছে এই নিত্যপণ্যটির। গত বছরের মতো যাতে দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয় তার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। সাধারণত স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে এবং যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, তাতে কোনো দেশ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু যেভাবে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে; এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি গত বছরের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। করোনার কারণে গত কয়েক মাসে অন্যান্য আমদানি পণ্যের মতো পেঁয়াজের আমদানিও কম হয়েছে। কাজেই পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করে চাহিদা পূরণ করার পরও আমাদের পক্ষে পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব। এ সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আমদানি নির্ভরতার ফলে কত রকম সমস্যা হতে পারে, অতীতে আমরা তা বারবার দেখেছি। পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যে কোনো পণ্যের উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

দেশে পেঁয়াজের মৌসুম আসতে এখনও প্রায় ছয় মাস বাকি। এ সময়ে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অল্প সময়ে কোন কোন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব, তা খুঁজে বের করতে হবে।

একইসঙ্গে টিসিবির পক্ষ থেকেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, টিসিবি বড় পরিসরে কাজে নামছে। সরকারের এ বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা

কারসাজি বন্ধ করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থির হতে শুরু করেছে। পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদার বড় অংশই দেশে উৎপাদিত হয়; বাকি অংশ আমদানি করা হয়। অনেক দেশ থেকেই এ পণ্যটি আমদানি করা হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে অল্প সময়ের মধ্যেই যে কোনো দেশ থেকে এটি আমদানি করা সম্ভব।

তারপরও ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পরপর দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। বস্তুত গত কয়েকদিন ধরেই দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের বাজারে আরেক দফা দাম বেড়েছে এই নিত্যপণ্যটির। গত বছরের মতো যাতে দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয় তার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। সাধারণত স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে এবং যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, তাতে কোনো দেশ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু যেভাবে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে; এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি গত বছরের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। করোনার কারণে গত কয়েক মাসে অন্যান্য আমদানি পণ্যের মতো পেঁয়াজের আমদানিও কম হয়েছে। কাজেই পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করে চাহিদা পূরণ করার পরও আমাদের পক্ষে পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব। এ সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আমদানি নির্ভরতার ফলে কত রকম সমস্যা হতে পারে, অতীতে আমরা তা বারবার দেখেছি। পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যে কোনো পণ্যের উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

দেশে পেঁয়াজের মৌসুম আসতে এখনও প্রায় ছয় মাস বাকি। এ সময়ে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অল্প সময়ে কোন কোন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব, তা খুঁজে বের করতে হবে।

একইসঙ্গে টিসিবির পক্ষ থেকেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, টিসিবি বড় পরিসরে কাজে নামছে। সরকারের এ বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।