পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: ত্রুটি মেরামতের উপায় দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে
jugantor
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: ত্রুটি মেরামতের উপায় দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু যখন বাস্তবে রূপ নেয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর এর উপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ার কথা, তখনই এ সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে ভয়াবহ ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার তথ্য জানা গেল বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

এতে জানা যায়, মূল সেতুর দুই প্রান্তে হরাইজন্টাল ও ভার্টিক্যাল দু’দিকেই ত্রুটি ধরা পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সড়কপথের হেডরুম স্ট্যান্ডার্ড হল হরাইজন্টাল ১৫ মিটার, ভার্টিক্যাল ৫ দশমিক ৭ মিটার।

কিন্তু পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ভার্টিক্যাল রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৮ মিটার। এর ফলে সেতুর উভয় প্রান্তে হেডরুম উচ্চতা প্রায় ১ মিটার কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম উচ্চতায় রেললাইন হলে যে কোনো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এছাড়া সমুদ্রবন্দর দিয়ে আসা কোনো কনটেইনার ট্রাক কম উচ্চতায় সেতুতে উঠতে পারবে না। বিষয়টি ২০১৫ সালের চূড়ান্ত সমীক্ষায়ই মীমাংসিত হওয়ার কথা। প্রশ্ন হল, এতদিন পরে এসে এ ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে কেন? শুরুতেই কেন ত্রুটি ধরা পড়ল না?

জানা গেছে, এখন কেউ এ ত্রুটির দায় নিতে চাচ্ছে না। পদ্মা সেতু এবং পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প পরিচালকরা একে অপরের ওপর দোষারোপ করছেন। কিন্তু কেউ না কেউ এ ত্রুটি বা ডিজাইনের ভুলের জন্য দায়ী তো বটেই। অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাকে বা তাদেরও চিহ্নিত করা দরকার। এতবড় একটি প্রকল্পে ত্রুটির জন্য যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহি হওয়া জরুরি।

উদ্বেগের বিষয় হল, এ ভুলের জন্য নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে একই দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে সড়ক যানের সঙ্গে ট্রেন চলাচলের বিষয়টি পিছিয়ে যেতে পারে। ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পর রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এখন কিভাবে সেতুর চলমান নির্মাণকাজের ক্ষতি না করে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে দ্রুত। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকে এ বিষয়ে দক্ষ প্রকৌশলী এনে সমাধান করতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না, পদ্মা শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ সেতু নির্মাণে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসেছে নানা বাধা। দুর্নীতির কথিত অভিযোগ তুলে দাতা সংস্থাগুলো এ প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অদম্য ইচ্ছায় নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সাহসী পদক্ষেপ বর্তমান বিশ্বে আমাদের সক্ষমতার নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে।

এ কারণে পদ্মা সেতু আমাদের কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। তাছাড়া দেশের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাজেই নির্ধারিত সময়ে পদ্মা সেতু চালু না হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক চেষ্টায় পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হবে, এটাই প্রত্যাশা।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: ত্রুটি মেরামতের উপায় দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু যখন বাস্তবে রূপ নেয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর এর উপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ার কথা, তখনই এ সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে ভয়াবহ ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার তথ্য জানা গেল বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

এতে জানা যায়, মূল সেতুর দুই প্রান্তে হরাইজন্টাল ও ভার্টিক্যাল দু’দিকেই ত্রুটি ধরা পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সড়কপথের হেডরুম স্ট্যান্ডার্ড হল হরাইজন্টাল ১৫ মিটার, ভার্টিক্যাল ৫ দশমিক ৭ মিটার।

কিন্তু পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ভার্টিক্যাল রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৮ মিটার। এর ফলে সেতুর উভয় প্রান্তে হেডরুম উচ্চতা প্রায় ১ মিটার কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম উচ্চতায় রেললাইন হলে যে কোনো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এছাড়া সমুদ্রবন্দর দিয়ে আসা কোনো কনটেইনার ট্রাক কম উচ্চতায় সেতুতে উঠতে পারবে না। বিষয়টি ২০১৫ সালের চূড়ান্ত সমীক্ষায়ই মীমাংসিত হওয়ার কথা। প্রশ্ন হল, এতদিন পরে এসে এ ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে কেন? শুরুতেই কেন ত্রুটি ধরা পড়ল না?

জানা গেছে, এখন কেউ এ ত্রুটির দায় নিতে চাচ্ছে না। পদ্মা সেতু এবং পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প পরিচালকরা একে অপরের ওপর দোষারোপ করছেন। কিন্তু কেউ না কেউ এ ত্রুটি বা ডিজাইনের ভুলের জন্য দায়ী তো বটেই। অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাকে বা তাদেরও চিহ্নিত করা দরকার। এতবড় একটি প্রকল্পে ত্রুটির জন্য যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহি হওয়া জরুরি।

উদ্বেগের বিষয় হল, এ ভুলের জন্য নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে একই দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে সড়ক যানের সঙ্গে ট্রেন চলাচলের বিষয়টি পিছিয়ে যেতে পারে। ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পর রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এখন কিভাবে সেতুর চলমান নির্মাণকাজের ক্ষতি না করে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে দ্রুত। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকে এ বিষয়ে দক্ষ প্রকৌশলী এনে সমাধান করতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না, পদ্মা শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ সেতু নির্মাণে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসেছে নানা বাধা। দুর্নীতির কথিত অভিযোগ তুলে দাতা সংস্থাগুলো এ প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অদম্য ইচ্ছায় নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সাহসী পদক্ষেপ বর্তমান বিশ্বে আমাদের সক্ষমতার নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে।

এ কারণে পদ্মা সেতু আমাদের কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। তাছাড়া দেশের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাজেই নির্ধারিত সময়ে পদ্মা সেতু চালু না হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক চেষ্টায় পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ