তিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন: মসজিদে বিস্ফোরণের দায় এড়াতে পারে না তিতাস
jugantor
তিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন: মসজিদে বিস্ফোরণের দায় এড়াতে পারে না তিতাস

  সম্পাদকীয়  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত আলাদা তিন তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দায় এককভাবে কাউকে দেয়া যাচ্ছে না। তিতাসের পাইপলাইনে যেমন সমস্যা ছিল, তেমনি গ্রাহকেরও দায় আছে।

প্রতিবেদনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের ‘দায়’ এড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানটি দায় এড়াতে পারে না। কারণ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার অন্তরালে রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ- এ তথ্য তিতাসের প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংযোগ অবৈধ কিনা তা তদারকির দায়িত্বও ছিল তিতাসের।

তাছাড়া আবাসিক খাতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগের পেছনেও তিতাসের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ প্রেক্ষাপটে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা দরকার।

দেশে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে অনেকবারই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং এর ফলে অনেকেই হতাহত হয়েছেন। তারপরও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের টনকনড়া উচিত। নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীতে নতুন স্থাপিত গ্যাস লাইন যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ৪০ বছরের পুরনো গ্যাস লাইনও।

পুরনো এসব গ্যাস লাইন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের অভাবে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তবে ঘটছেও তাই। নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা এর বড় প্রমাণ। অথচ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। বিষয়টি দুঃখজনক।

সচেতনতা, সাবধানতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হলেও হতাশার বিষয় হল, ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা যেমন সচেতন নই; তেমনি নজরদারির ক্ষেত্রেও সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বস্তুত নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের পাশাপাশি গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তব্য হলেও গ্রাহক-সুরক্ষার ক্ষেত্রে তারা কোনোরকম ভূমিকাই রাখছে না। অথচ গ্রাহকসেবা প্রদানের নামে ঠিকই ভাগে ভাগে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তাছাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তারা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছেন। এ কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

আমরা আশা করব, নারায়ণগঞ্জ দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি তিতাস অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে বিরাজমান দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

তিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন: মসজিদে বিস্ফোরণের দায় এড়াতে পারে না তিতাস

 সম্পাদকীয় 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত আলাদা তিন তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দায় এককভাবে কাউকে দেয়া যাচ্ছে না। তিতাসের পাইপলাইনে যেমন সমস্যা ছিল, তেমনি গ্রাহকেরও দায় আছে।

প্রতিবেদনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের ‘দায়’ এড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানটি দায় এড়াতে পারে না। কারণ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার অন্তরালে রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ- এ তথ্য তিতাসের প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংযোগ অবৈধ কিনা তা তদারকির দায়িত্বও ছিল তিতাসের।

তাছাড়া আবাসিক খাতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগের পেছনেও তিতাসের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ প্রেক্ষাপটে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা দরকার।

দেশে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে অনেকবারই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং এর ফলে অনেকেই হতাহত হয়েছেন। তারপরও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের টনকনড়া উচিত। নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীতে নতুন স্থাপিত গ্যাস লাইন যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ৪০ বছরের পুরনো গ্যাস লাইনও।

পুরনো এসব গ্যাস লাইন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের অভাবে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তবে ঘটছেও তাই। নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা এর বড় প্রমাণ। অথচ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। বিষয়টি দুঃখজনক।

সচেতনতা, সাবধানতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হলেও হতাশার বিষয় হল, ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা যেমন সচেতন নই; তেমনি নজরদারির ক্ষেত্রেও সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বস্তুত নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের পাশাপাশি গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তব্য হলেও গ্রাহক-সুরক্ষার ক্ষেত্রে তারা কোনোরকম ভূমিকাই রাখছে না। অথচ গ্রাহকসেবা প্রদানের নামে ঠিকই ভাগে ভাগে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তাছাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তারা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছেন। এ কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

আমরা আশা করব, নারায়ণগঞ্জ দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি তিতাস অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে বিরাজমান দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ