গাড়িচালকের বিত্ত-বৈভব: স্বাস্থ্য খাত কি কোটিপতি বানানোর কারখানা?
jugantor
গাড়িচালকের বিত্ত-বৈভব: স্বাস্থ্য খাত কি কোটিপতি বানানোর কারখানা?

  সম্পাদকীয়  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘আবজাল কাহিনী’ সর্বজনবিদিত। ‘রত্ন’ আবজালের কর্মস্থল সেই একই অধিদফতরে এবার আরেক ‘রত্নের’ সন্ধান মিলেছে। আবজালের মতো পদ-পদবিতে তিনিও একজন নিম্নবেতনভুক কর্মচারী; শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাস।

কিন্তু হলে কী হবে, স্বাস্থ্য অধিদফতর বলে কথা! এখানকার অলি-গলি-ঘুপচিতে ঠিকমতো ‘পা ফেলে’ চলার এলেম আয়ত্ত করতে পারলে বিত্তবাসনার মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে কাউকেই যে তেমন বেগ পেতে হয় না- আবজালের মতো গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে হাজী আবদুল মালেকও তা প্রমাণ করেছেন।

ইতোমধ্যে নামে-বেনামে কয়েকটি ব্যাংকে গচ্ছিত অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকাসহ রাজধানীতে হাজী সাহেবের একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া গেছে।

১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে যোগদানকারী এবং বর্তমানে প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদফতরে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির এ কর্মচারী যে ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে’ খুবই ‘সিদ্ধহস্ত’; এর স্বাক্ষর তিনি রেখেছেন গত আট বছর ধরে নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে অধিদফতরের ক্যান্টিন দখল করে রাখার মধ্য দিয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, আবদুল মালেক করোনা মোকাবেলায় কোভিড হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ল্যাব সহকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিয়েছেন।

বলা হয়ে থাকে, দেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম স্বাস্থ্য খাত। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্রই চলে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা। মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কেনাকাটা, নিয়োগ, পদায়ন, বদলিসহ এমন কোনো কাজ নাকি নেই, যেখানে দুর্নীতি হয় না। এসব যে মোটেই ভিত্তিহীন নয়- সময়ে সময়ে আবজাল, আবদুল মালেকরা তার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। অনুসন্ধান করলে স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা স্বাস্থ্য খাতে এমন আরও অনেক আবজাল ও আবদুল মালেকের খোঁজ পাওয়া যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে দেখা যাচ্ছে সরকার যেভাবে চিন্তা করছে; বাস্তবে সঠিকভাবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। এর অন্যতম কারণ স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এ খাতে দুর্নীতির মাত্রা নাকি এমন স্তরে পৌঁছেছে যে, এ ব্যাপারে কারও মধ্যে কোনো ‘রাখঢাক’ নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড়ে তোলা সম্পদের পাহাড় দৃষ্টে যে প্রশ্নটি সামনে চলে আসে তা হল, স্বাস্থ্য খাত কি কোটিপতি বানানোর কারখানা? অসুখে-বিসুখে দেশের সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল স্বাস্থ্য খাত থেকে দুর্নীতি ও অনিয়মের জঞ্জাল দূর করতে সরকার কঠোর হবে, এটাই প্রত্যাশা।

গাড়িচালকের বিত্ত-বৈভব: স্বাস্থ্য খাত কি কোটিপতি বানানোর কারখানা?

 সম্পাদকীয় 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘আবজাল কাহিনী’ সর্বজনবিদিত। ‘রত্ন’ আবজালের কর্মস্থল সেই একই অধিদফতরে এবার আরেক ‘রত্নের’ সন্ধান মিলেছে। আবজালের মতো পদ-পদবিতে তিনিও একজন নিম্নবেতনভুক কর্মচারী; শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাস।

কিন্তু হলে কী হবে, স্বাস্থ্য অধিদফতর বলে কথা! এখানকার অলি-গলি-ঘুপচিতে ঠিকমতো ‘পা ফেলে’ চলার এলেম আয়ত্ত করতে পারলে বিত্তবাসনার মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে কাউকেই যে তেমন বেগ পেতে হয় না- আবজালের মতো গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে হাজী আবদুল মালেকও তা প্রমাণ করেছেন।

ইতোমধ্যে নামে-বেনামে কয়েকটি ব্যাংকে গচ্ছিত অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকাসহ রাজধানীতে হাজী সাহেবের একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া গেছে।

১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে যোগদানকারী এবং বর্তমানে প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদফতরে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির এ কর্মচারী যে ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে’ খুবই ‘সিদ্ধহস্ত’; এর স্বাক্ষর তিনি রেখেছেন গত আট বছর ধরে নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে অধিদফতরের ক্যান্টিন দখল করে রাখার মধ্য দিয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, আবদুল মালেক করোনা মোকাবেলায় কোভিড হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ল্যাব সহকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিয়েছেন।

বলা হয়ে থাকে, দেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম স্বাস্থ্য খাত। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্রই চলে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা। মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কেনাকাটা, নিয়োগ, পদায়ন, বদলিসহ এমন কোনো কাজ নাকি নেই, যেখানে দুর্নীতি হয় না। এসব যে মোটেই ভিত্তিহীন নয়- সময়ে সময়ে আবজাল, আবদুল মালেকরা তার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। অনুসন্ধান করলে স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা স্বাস্থ্য খাতে এমন আরও অনেক আবজাল ও আবদুল মালেকের খোঁজ পাওয়া যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে দেখা যাচ্ছে সরকার যেভাবে চিন্তা করছে; বাস্তবে সঠিকভাবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। এর অন্যতম কারণ স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এ খাতে দুর্নীতির মাত্রা নাকি এমন স্তরে পৌঁছেছে যে, এ ব্যাপারে কারও মধ্যে কোনো ‘রাখঢাক’ নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড়ে তোলা সম্পদের পাহাড় দৃষ্টে যে প্রশ্নটি সামনে চলে আসে তা হল, স্বাস্থ্য খাত কি কোটিপতি বানানোর কারখানা? অসুখে-বিসুখে দেশের সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল স্বাস্থ্য খাত থেকে দুর্নীতি ও অনিয়মের জঞ্জাল দূর করতে সরকার কঠোর হবে, এটাই প্রত্যাশা।