অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার বৃদ্ধি
jugantor
অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার বৃদ্ধি
এত অর্থ ব্যয়ের পরও পরিস্থিতির অবনতি কেন?

  সম্পাদকীয়  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আশা করা গিয়েছিল দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার কমবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ ধরনের রোগে আক্রান্তের হার ও অকালমৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের। এর জন্য নির্দিষ্ট কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) কর্মসূচির আওতায় এ সংক্রান্ত কাজ চলছে।

২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে চলমান অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ১১১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে ব্যয় হয়েছে ৪৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও মুদ্রণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। অথচ এসব পদক্ষেপের কোনো সুফল মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য হল, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতি অর্থবছরে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও কার্যত তা দেশের জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। প্রমাণ হিসেবে তারা বলেন, যেখানে মৃত্যুর হার কমার কথা সেখানে উল্টো অসংক্রামক রোগে অকাল মৃত্যুর হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ৫৭ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। এমনকি দেশে করোনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত অসংক্রামক রোগ। লক্ষ করা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার- এসব রোগে আক্রান্ত ছিল।

প্রশ্ন হল, এত অর্থ ব্যয়ের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে অবনতি হচ্ছে কেন? বরাদ্দকৃত অর্থের কোনো নয়ছয় হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে বিলাসিতার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে কিনা, এটিও একটি প্রশ্ন।

জানা গেছে, দেশের প্রতিটি বিভাগে নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে সরকারিভাবে প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও ক্যান্সার রোগীদের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে বেশ ক’টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংবলিত যে ডাটাবেজ তৈরি করার কথা; সে কাজে অগ্রগতি নেই। ক্যান্সারের মতো রোগ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। জানা গেছে, এনসিডি ম্যানেজমেন্ট মডেল অনুসারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নার থাকার কথা, যেখানে সার্বক্ষণিক একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি অসংক্রামক রোগসংক্রান্ত সেবা প্রদান করবেন।

প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই গুরুত্বপূর্ণ এনসিডি কর্নার চালু হয়নি। এ অবস্থায় কর্মসূচির টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।

অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার বৃদ্ধি

এত অর্থ ব্যয়ের পরও পরিস্থিতির অবনতি কেন?
 সম্পাদকীয় 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আশা করা গিয়েছিল দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার কমবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ ধরনের রোগে আক্রান্তের হার ও অকালমৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের। এর জন্য নির্দিষ্ট কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) কর্মসূচির আওতায় এ সংক্রান্ত কাজ চলছে।

২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে চলমান অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ১১১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে ব্যয় হয়েছে ৪৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও মুদ্রণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। অথচ এসব পদক্ষেপের কোনো সুফল মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য হল, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতি অর্থবছরে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও কার্যত তা দেশের জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। প্রমাণ হিসেবে তারা বলেন, যেখানে মৃত্যুর হার কমার কথা সেখানে উল্টো অসংক্রামক রোগে অকাল মৃত্যুর হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ৫৭ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। এমনকি দেশে করোনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত অসংক্রামক রোগ। লক্ষ করা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার- এসব রোগে আক্রান্ত ছিল।

প্রশ্ন হল, এত অর্থ ব্যয়ের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে অবনতি হচ্ছে কেন? বরাদ্দকৃত অর্থের কোনো নয়ছয় হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে বিলাসিতার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে কিনা, এটিও একটি প্রশ্ন।

জানা গেছে, দেশের প্রতিটি বিভাগে নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে সরকারিভাবে প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও ক্যান্সার রোগীদের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে বেশ ক’টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংবলিত যে ডাটাবেজ তৈরি করার কথা; সে কাজে অগ্রগতি নেই। ক্যান্সারের মতো রোগ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। জানা গেছে, এনসিডি ম্যানেজমেন্ট মডেল অনুসারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নার থাকার কথা, যেখানে সার্বক্ষণিক একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি অসংক্রামক রোগসংক্রান্ত সেবা প্রদান করবেন।

প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই গুরুত্বপূর্ণ এনসিডি কর্নার চালু হয়নি। এ অবস্থায় কর্মসূচির টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।