সিএনএনের রিপোর্ট: নদী দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিন
jugantor
সিএনএনের রিপোর্ট: নদী দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিন

  সম্পাদকীয়  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশসহ এশিয়ার নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বর্ণ হারাচ্ছে। এর ফলে সার্কভুক্ত দেশগুলোসহ এশিয়ার অনেক দেশ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে অনলাইন সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাদের দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শিল্প-কারখানার দূষিত বর্জ্য মেশানো পানি সরাসরি নদী বা খালগুলোয় এসে পড়ে; যে পানিতে থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, ডাই, লবণ ও ভারি ধাতু। এর ফলে শুধু পরিবেশেরই ক্ষতি হচ্ছে না, একইসঙ্গে পানীয় জলের উৎস দূষিত হচ্ছে। আশার কথা, আমাদের দেশে দূষণ রোধে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ ও পরিবেশবিষয়ক আইন আধুনিক করা, দূষণকারীদের জরিমানা করা এবং পানির গুণগতমান পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন এবং বর্জ্য শোধন প্রক্রিয়া উন্নত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে সরকার।

এছাড়া নদী রক্ষা কমিশন ইতোমধ্যে দেশের ৪৯ হাজার ১৬২ জন নদী ও খাল দখলদারের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যাদের এক বছরের মধ্যে উচ্ছেদ করার কথা বলা হয়েছে। নদী রক্ষা কমিশন যদি এ কাজে সফল হয়, তাহলে দেশের নদ-নদীগুলো দখল-দূষণমুক্ত হয়ে নবজীবন লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দখল-দূষণমুক্ত নদ-নদীর ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে পুনঃদখল ও দূষণ। এটি রোধে সরকার অবশ্য নদীতীরে বনায়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা মনে করি, দখল-দূষণরোধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত।

নদী দখল ও দূষণের সঙ্গে যুক্তরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক; শাস্তি নিশ্চিত করা হলে দখল-দূষণ রোধসহ পরিবেশ রক্ষায় তা ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। একসময় জালের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল আমাদের জীবন-জীবিকা, সভ্যতা-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করলেও আজ সেগুলো জীর্ণ-শীর্ণ।

অনেক নদী ও খাল-বিল ইতোমধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়েও গেছে। এজন্য দায়ী আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড ও অদূরদর্শিতা। দেশের নদ-নদীগুলোকে দখল, দূষণ ও ভরাট হওয়া থেকে রক্ষায় অবশ্যই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের উল্লেখযোগ্য নদ-নদীর উৎস দেশের ভূ-সীমানার বাইরে। অভিন্ন নদ-নদীগুলোর গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত ও নেপালের সঙ্গে গঠনমূলক উদ্যোগ নেয়া উচিত, যাতে তা কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়। সরকার এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

সিএনএনের রিপোর্ট: নদী দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিন

 সম্পাদকীয় 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশসহ এশিয়ার নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বর্ণ হারাচ্ছে। এর ফলে সার্কভুক্ত দেশগুলোসহ এশিয়ার অনেক দেশ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে অনলাইন সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাদের দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শিল্প-কারখানার দূষিত বর্জ্য মেশানো পানি সরাসরি নদী বা খালগুলোয় এসে পড়ে; যে পানিতে থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, ডাই, লবণ ও ভারি ধাতু। এর ফলে শুধু পরিবেশেরই ক্ষতি হচ্ছে না, একইসঙ্গে পানীয় জলের উৎস দূষিত হচ্ছে। আশার কথা, আমাদের দেশে দূষণ রোধে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ ও পরিবেশবিষয়ক আইন আধুনিক করা, দূষণকারীদের জরিমানা করা এবং পানির গুণগতমান পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন এবং বর্জ্য শোধন প্রক্রিয়া উন্নত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে সরকার।

এছাড়া নদী রক্ষা কমিশন ইতোমধ্যে দেশের ৪৯ হাজার ১৬২ জন নদী ও খাল দখলদারের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যাদের এক বছরের মধ্যে উচ্ছেদ করার কথা বলা হয়েছে। নদী রক্ষা কমিশন যদি এ কাজে সফল হয়, তাহলে দেশের নদ-নদীগুলো দখল-দূষণমুক্ত হয়ে নবজীবন লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দখল-দূষণমুক্ত নদ-নদীর ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে পুনঃদখল ও দূষণ। এটি রোধে সরকার অবশ্য নদীতীরে বনায়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা মনে করি, দখল-দূষণরোধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত।

নদী দখল ও দূষণের সঙ্গে যুক্তরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক; শাস্তি নিশ্চিত করা হলে দখল-দূষণ রোধসহ পরিবেশ রক্ষায় তা ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। একসময় জালের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল আমাদের জীবন-জীবিকা, সভ্যতা-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করলেও আজ সেগুলো জীর্ণ-শীর্ণ।

অনেক নদী ও খাল-বিল ইতোমধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়েও গেছে। এজন্য দায়ী আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড ও অদূরদর্শিতা। দেশের নদ-নদীগুলোকে দখল, দূষণ ও ভরাট হওয়া থেকে রক্ষায় অবশ্যই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের উল্লেখযোগ্য নদ-নদীর উৎস দেশের ভূ-সীমানার বাইরে। অভিন্ন নদ-নদীগুলোর গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত ও নেপালের সঙ্গে গঠনমূলক উদ্যোগ নেয়া উচিত, যাতে তা কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়। সরকার এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।