ডিএনসিসির মেয়র উপনির্বাচন

সবকিছু যেন ঠিক থাকে

  সম্পাদকীয় ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএনসিসি
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) শূন্য হওয়া মেয়র পদের নির্বাচন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের সাধারণ এবং নারী কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যু হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ ডিসেম্বর থেকে মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করে। এরপর আইন অনুযায়ী ৯০ দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পদটিতে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশন ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ৯ জানুয়ারি। সেই তফসিলেই জানা যাবে বিস্তারিত। তবে এ মুহূর্তে বলা যায়, অনেক দিক থেকেই এ নির্বাচন গুরুত্ব বহন করছে। প্রথমত, নির্বাচনটি হবে নির্বাচন কমিশনের জন্য এক বড় এসিড টেস্ট। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কমিশন তার যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছে সত্য; কিন্তু ঢাকার নির্বাচন রংপুরেরটার চেয়ে নির্বাচনী এলাকার পরিধি, ভোটার সংখ্যাসহ নানা দিক থেকেই আলাদা। এখানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশনকে অধিকতর যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজধানীবাসীর মতামত যেহেতু দেশের অন্যান্য এলাকার জনমতের ওপর প্রভাব ফেলে, তাই দলগুলো চাইবে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করে এই নির্বাচনে জয়লাভ করতে। অর্থাৎ নির্বাচনটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে তা সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়তা ও সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে অবশ্যই। আমরা চাইব, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর থেকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই নির্বাচনের পারফরম্যান্সের ওপর আগামী সাধারণ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে।

দুই সিটি কর্পোরেশনেই নতুন কিছু এলাকা যুক্ত হওয়ায় সেগুলোয় নির্বাচনের ব্যাপারে আইনি জটিলতা তৈরি হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ আইনে নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদের ব্যাপারে কিছু বলা নেই। নির্বাচন কমিশন সচিব অবশ্য বলেছেন, সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং এ ধরনের কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হবে না। আমরা চাই, কোনো ধরনের আইনি জটিলতা যেন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত না করে।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর কর্পোরেশন একধরনের অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। প্রয়াত মেয়রের অনেক অসমাপ্ত কাজ শেষ করারও এক বড় প্রশ্ন রয়েছে। ফলে উত্তর সিটির মেয়র পদে নির্বিঘেœই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা- নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সর্বোপরি নির্বাচকমণ্ডলীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ঢাকা উত্তরের মানুষ তাদের পছন্দের মেয়রের নেতৃত্বে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter