ফসলি জমিতে ইটভাটা নয়

  নাসির উদ্দিন সামি ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফসলি জমিতে ইটভাটা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, প্রাকৃতিক পরিবেশ সবকিছুই কৃষিনির্ভর। তাই প্রাচীনকাল থেকে এ দেশ কৃষিপ্রধান। এ দেশের মাটি, পানি, বায়ু সবই কৃষির অনুকূলে। কৃষি আমাদের প্রধান পেশা, দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষির সাফল্যে কমেছে খাদ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা। কৃষিজাত পণ্য রফতানিও করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উদ্বেগের বিষয় হল, দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন ফসলি কৃষি জমি ধ্বংস এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। ফলে দিন দিন কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-তে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ইটভাটায় ফসলি জমির উপরের মাটি ব্যবহার করলে তার শাস্তি দু’বছর কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা। ওই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে শাস্তি ২-১০ বছরের জেল এবং ২-১০ লাখ টাকা জরিমানা। অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটা স্থাপন করলে শাস্তি ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। আইনে আরও বলা আছে, আবাসিক, জনবসতি, সংরক্ষিত এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, বনভূমি, জলাভূমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

গত ২২ ডিসেম্বর কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটার মালিকপক্ষের হামলায় চারজন কৃষক আহত হয়েছে। আহতরা জানান, ২০১৭ সালে তিন ফসলি জমিতে কোনোরকম লাইসেন্স এবং কৃষি অধিদফতর ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটা প্রস্তুত করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। যারা নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অক্লান্ত পরিশ্রম করে নীরবে সবার জন্য খাদ্যের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন, অবৈধভাবে ফসলি জমিতে গড়ে তোলা ইটভাটার মালিকদের হাতে তাদের মার খেতে হচ্ছে! ওই ঘটনায় স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, প্রশাসনের উদাসীনতা, ক্ষমতাসীনদের সমর্থকদের দাপট না থাকলে একজন সাধারণ কৃষকের তিন ফসলি জমি রক্ষা করতে হাইকোর্টে রিট করার প্রয়োজন হতো না।

ইটভাটার কারণে সবচেয়ে বেশি দূষিত হয় বাতাস। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে গাছ, ফলমূল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মানুষ সর্দি-কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ইট পোড়ানো কয়লা থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর কার্বন-মনোক্সাইড নির্গত হয়। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। আবার ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও বেশি লাভের আশায় কয়লার পরিবর্তে অবৈধভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। নিধন করা হচ্ছে গাছপালা।

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং খাদ্য ঘাটতি সত্ত্বেও প্রশাসনের যোগসাজশে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার একর ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এতে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, ক্ষতি হচ্ছে দেশ, জাতি, জীববৈচিত্র্যসহ পরিবেশের। এ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে যত্রতত্র ইটভাটা তৈরি রোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা কাম্য।

নাসির উদ্দিন সামি : প্রাবন্ধিক, [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter