প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে অনিয়ম
jugantor
প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে অনিয়ম

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার শেষে সরকারের ৮৬৫টি গাড়ি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা না দেয়ার বিষয়টি ধৃষ্টতার শামিল। একই সঙ্গে এটি বড় ধরনের অনিয়মও বটে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর অবশ্য সম্প্রসারণ কাজে বিভিন্ন জেলায় গাড়িগুলো নিয়োজিত আছে বলে উল্লেখ করেছে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য উত্তর নয়।

নিয়ম হল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুসারে কাজ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পের সচল যানবাহন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি যানবাহন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ৮৬৫টি গাড়ির ক্ষেত্রে এ নিয়ম পরিপালন করা হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, এসব গাড়ি এখন কোথায়, কার মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে তা রহস্যের আবরণে ঢাকা, যা জরুরি ভিত্তিতে উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। প্রকল্পের ২৬২টি বিভিন্ন মডেলের জিপ ও ৬০৩টি মোটরসাইকেল লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও দায় রয়েছে বলে মনে করি আমরা। মূলত কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণেই কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ নিয়ে এত বড় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ বা অপচয় নিঃসন্দেহে বড় ধরনের অপরাধ। এর সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

২০১৫ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পের গাড়িগুলো বিধি মোতাবেক সরকারি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা না হওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ কেন এ ব্যাপারে উদাসীন রইল, তা এক প্রশ্ন বটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সেই সঙ্গে স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এমন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। আশার বিষয় হচ্ছে, দেশের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে আগ্রহী। মানুষের এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিরাজমান দুর্নীতি নির্মূলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে অনিয়ম

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার শেষে সরকারের ৮৬৫টি গাড়ি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা না দেয়ার বিষয়টি ধৃষ্টতার শামিল। একই সঙ্গে এটি বড় ধরনের অনিয়মও বটে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর অবশ্য সম্প্রসারণ কাজে বিভিন্ন জেলায় গাড়িগুলো নিয়োজিত আছে বলে উল্লেখ করেছে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য উত্তর নয়।

নিয়ম হল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুসারে কাজ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পের সচল যানবাহন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি যানবাহন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ৮৬৫টি গাড়ির ক্ষেত্রে এ নিয়ম পরিপালন করা হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, এসব গাড়ি এখন কোথায়, কার মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে তা রহস্যের আবরণে ঢাকা, যা জরুরি ভিত্তিতে উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। প্রকল্পের ২৬২টি বিভিন্ন মডেলের জিপ ও ৬০৩টি মোটরসাইকেল লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও দায় রয়েছে বলে মনে করি আমরা। মূলত কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণেই কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ নিয়ে এত বড় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ বা অপচয় নিঃসন্দেহে বড় ধরনের অপরাধ। এর সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

২০১৫ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পের গাড়িগুলো বিধি মোতাবেক সরকারি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা না হওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ কেন এ ব্যাপারে উদাসীন রইল, তা এক প্রশ্ন বটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সেই সঙ্গে স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এমন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। আশার বিষয় হচ্ছে, দেশের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে আগ্রহী। মানুষের এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিরাজমান দুর্নীতি নির্মূলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।