বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় গ্লোব
jugantor
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় গ্লোব
এ সুসংবাদ দেশের জন্য সম্মান ও মর্যাদার

  সম্পাদকীয়  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক তালিকাভুক্ত করার সংবাদ প্রশংসনীয়। গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত তিনটি ভ্যাকসিনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানা গেছে। এগুলো হল, ডি৬১৪জি ভিএআরআইইএনটি এমআরএনএ ভ্যাকসিন, ডিএনএ প্লাসমিড ভ্যাকসিন এবং অ্যাডিনোভাইরাস টাইপ-৫ ভেক্টর ভ্যাকসিন।

উল্লেখ্য, গ্লোব বায়োটেকই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যাদের সর্বোচ্চ তিনটি ভ্যাকসিনের নাম তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে এবং এ সংক্রমণে ‘ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্ট’ শতভাগ দায়ী বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদও (বিসিএসআইআর) আমাদের দেশে সংক্রমণের জন্য ‘ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্ট’ দায়ী বলে নিশ্চিত করেছে। গর্ব করার বিষয় হল, গ্লোব বায়োটেকের নিজস্ব প্রদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ব্যানকোভিড ভ্যাকসিনটি ‘ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্ট’-এর বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র আবিষ্কৃত টিকা, যা প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্বে এখন সব আলোচনা, কর্মযজ্ঞ, ধ্যান-জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তবে মানুষ হাল ছাড়েনি; যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ সংকট কাটিয়ে নতুন ছন্দে জীবন সাজানোর চেষ্টা করছে। এর প্রতিরোধ, প্রতিকারে দেশে-দেশে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, আরও করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তালিকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের ভ্যাকসিনসহ ১৫৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিশ্চয়ই এসবের সুফল একদিন আমরাও ভোগ করব। তবে এ নিদানকালে গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিঃসন্দেহে আমাদের কাছে আশার আলো হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান ও মর্যাদা, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।

এ মুহূর্তে করোনামুক্ত বিশ্ব পেতে চাইলে আমাদের প্রয়োজন অন্যূন ৭ বিলিয়ন কার্যকর ভ্যাকসিন। অথচ বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র দেড় বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন করা হয়েছে; তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রয়োজনের তুলনায় এটি একেবারেই অপ্রতুল।

বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র ৩ শতাংশ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যেখানে দেশে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। এ অবস্থায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক সুযোগ পেলে সর্বাগ্রে দেশবাসীর চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে, তা বলাই বাহুল্য।

এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, গ্লোব বায়োটেক প্রথম যখন করোনাভাইরাসের টিকা সম্পর্কিত গবেষণা ও এর উদ্ভাবন সম্পর্কে ঘোষণা দিল, তখন অনেকেই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়েছেন। সন্দেহবাদীদের তালিকায়ও নাম লিখিয়েছে অনেক মানুষ। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা কোনো জিনিসকে কীভাবে দেখছি, সেই দৃষ্টিভঙ্গি। গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ অথবা অর্ধেক খালি- এ বিতর্কে আমরা যদি গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ, এ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হই, তখন সবকিছুই আমাদের কাছে ইতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হবে।

একটা প্রবাদ আছে, ‘এমন কী অলৌকিক ঘটনা ঘটতেও সময় নেয়।’ গ্লোব বায়োটেক সব সমালোচনা, সন্দেহ উপেক্ষা করে নিরলস সাধনা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সুসংবাদ দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় গ্লোব

এ সুসংবাদ দেশের জন্য সম্মান ও মর্যাদার
 সম্পাদকীয় 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক তালিকাভুক্ত করার সংবাদ প্রশংসনীয়। গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত তিনটি ভ্যাকসিনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানা গেছে। এগুলো হল, ডি৬১৪জি ভিএআরআইইএনটি এমআরএনএ ভ্যাকসিন, ডিএনএ প্লাসমিড ভ্যাকসিন এবং অ্যাডিনোভাইরাস টাইপ-৫ ভেক্টর ভ্যাকসিন।

উল্লেখ্য, গ্লোব বায়োটেকই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যাদের সর্বোচ্চ তিনটি ভ্যাকসিনের নাম তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে এবং এ সংক্রমণে ‘ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্ট’ শতভাগ দায়ী বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদও (বিসিএসআইআর) আমাদের দেশে সংক্রমণের জন্য ‘ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্ট’ দায়ী বলে নিশ্চিত করেছে। গর্ব করার বিষয় হল, গ্লোব বায়োটেকের নিজস্ব প্রদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ব্যানকোভিড ভ্যাকসিনটি ‘ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্ট’-এর বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র আবিষ্কৃত টিকা, যা প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্বে এখন সব আলোচনা, কর্মযজ্ঞ, ধ্যান-জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তবে মানুষ হাল ছাড়েনি; যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ সংকট কাটিয়ে নতুন ছন্দে জীবন সাজানোর চেষ্টা করছে। এর প্রতিরোধ, প্রতিকারে দেশে-দেশে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, আরও করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তালিকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের ভ্যাকসিনসহ ১৫৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিশ্চয়ই এসবের সুফল একদিন আমরাও ভোগ করব। তবে এ নিদানকালে গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিঃসন্দেহে আমাদের কাছে আশার আলো হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান ও মর্যাদা, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।

এ মুহূর্তে করোনামুক্ত বিশ্ব পেতে চাইলে আমাদের প্রয়োজন অন্যূন ৭ বিলিয়ন কার্যকর ভ্যাকসিন। অথচ বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র দেড় বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন করা হয়েছে; তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রয়োজনের তুলনায় এটি একেবারেই অপ্রতুল।

বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র ৩ শতাংশ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যেখানে দেশে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। এ অবস্থায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক সুযোগ পেলে সর্বাগ্রে দেশবাসীর চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে, তা বলাই বাহুল্য।

এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, গ্লোব বায়োটেক প্রথম যখন করোনাভাইরাসের টিকা সম্পর্কিত গবেষণা ও এর উদ্ভাবন সম্পর্কে ঘোষণা দিল, তখন অনেকেই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়েছেন। সন্দেহবাদীদের তালিকায়ও নাম লিখিয়েছে অনেক মানুষ। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা কোনো জিনিসকে কীভাবে দেখছি, সেই দৃষ্টিভঙ্গি। গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ অথবা অর্ধেক খালি- এ বিতর্কে আমরা যদি গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ, এ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হই, তখন সবকিছুই আমাদের কাছে ইতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হবে।

একটা প্রবাদ আছে, ‘এমন কী অলৌকিক ঘটনা ঘটতেও সময় নেয়।’ গ্লোব বায়োটেক সব সমালোচনা, সন্দেহ উপেক্ষা করে নিরলস সাধনা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সুসংবাদ দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস