শিক্ষানবিস আইনজীবীদের বাঁচান
jugantor
শিক্ষানবিস আইনজীবীদের বাঁচান

  কে এম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক করোনা মহামারী প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবী প্রাথমিক পরীক্ষার প্রতীক্ষায় আছে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারী প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবী প্রাথমিক পরীক্ষার প্রতীক্ষায় আছে।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী ৬ মাস পরপর পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়নি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সময় নির্ধারিত হলেও কর্তৃপক্ষ সেই পরীক্ষাও গ্রহণ করতে পারেনি।

এ অবস্থায় মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সনদ প্রদান নতুবা অবিলম্বে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের সৃষ্ট সমস্যার সুরাহার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আইনের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিসহ দেশসেবায় নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আপৎকালীন সময়ে মোক্তারদেরও অ্যাডভোকেট হিসেবে উন্নীত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার হাজার শিক্ষানবিসের এ সমস্যার সমাধান করলে তিনিও ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবেন। The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order,1972 অনুসারে তিনটি ধাপের যে কোনো একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ৪০(১) ও ৪০ (২) অনুযায়ী গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা সনদ প্রদান করতে আইনি কোনো বাধা-নিষেধ নেই।

এটি আইন মন্ত্রণালয়ের রুটিন ওয়ার্ক মাত্র। ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্র্ণদের সনদ প্রদান অযৌক্তিক কিছু নয়। করোনাকালীন এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঁচাতে পারে হাজার হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীর পরিবারকে।

২০১৮ সালের মে মাসে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুসারে আইনজীবীর সংখ্যা ৪৩,৮৮৪। ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বরে ৭,৭৩২ জন আইনজীবী তালিকাভুক্ত হয়। মোট আইনজীবীর সংখ্যা ৫১,৬১৬। এর মধ্যে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৮ কোটি জনসংখ্যার এ দেশের তুলনায় আইনজীবীর এ সংখ্যা অপ্রতুল।

২০১৪ সালের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দারুল ইহসান মামলায় আপিল বিভাগ ২০১৭ সালে পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় ১২টি নির্দেশনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ছিল বার কাউন্সিলের প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। বার কাউন্সিল পরীক্ষা না নেয়ার পেছনে ব্যর্থতার যে বীজ বপিত হয়েছে, তা উপড়ে ফেলতে হবে। পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসার আবেদন জানাই।

ক্রান্তিকালীন এ পরিস্থিতির উন্নতি কবে নাগাদ হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল। ২০১৭ সালে প্রাথমিক ধাপ শেষে আড়াই মাসের লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। এছাড়াও লিখিত খাতা নিরীক্ষার কাজ যেহেতু বিচারপতিরা করে থাকেন সেহেতু তা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এমনিতেই লাখ লাখ মামলা ঝুলে আছে, সুতরাং এটি অত্যন্ত কম সময়ে নিরীক্ষিত হবে এমনটি ভেবে নেয়া অমূলক।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীকে এ সংকট থেকে রক্ষার জন্য আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর মুখপানে তাকিয়ে আছি। তিনি এ জাতির আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করি।

কে এম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু : মানবাধিকার কর্মী

[email protected]

শিক্ষানবিস আইনজীবীদের বাঁচান

 কে এম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বৈশ্বিক করোনা মহামারী প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবী প্রাথমিক পরীক্ষার প্রতীক্ষায় আছে।
ফাইল ছবি

বৈশ্বিক করোনা মহামারী প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবী প্রাথমিক পরীক্ষার প্রতীক্ষায় আছে।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী ৬ মাস পরপর পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়নি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সময় নির্ধারিত হলেও কর্তৃপক্ষ সেই পরীক্ষাও গ্রহণ করতে পারেনি।

এ অবস্থায় মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সনদ প্রদান নতুবা অবিলম্বে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের সৃষ্ট সমস্যার সুরাহার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আইনের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিসহ দেশসেবায় নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আপৎকালীন সময়ে মোক্তারদেরও অ্যাডভোকেট হিসেবে উন্নীত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার হাজার শিক্ষানবিসের এ সমস্যার সমাধান করলে তিনিও ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবেন। The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order,1972 অনুসারে তিনটি ধাপের যে কোনো একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ৪০(১) ও ৪০ (২) অনুযায়ী গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা সনদ প্রদান করতে আইনি কোনো বাধা-নিষেধ নেই।

এটি আইন মন্ত্রণালয়ের রুটিন ওয়ার্ক মাত্র। ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্র্ণদের সনদ প্রদান অযৌক্তিক কিছু নয়। করোনাকালীন এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঁচাতে পারে হাজার হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীর পরিবারকে।

২০১৮ সালের মে মাসে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুসারে আইনজীবীর সংখ্যা ৪৩,৮৮৪। ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বরে ৭,৭৩২ জন আইনজীবী তালিকাভুক্ত হয়। মোট আইনজীবীর সংখ্যা ৫১,৬১৬। এর মধ্যে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৮ কোটি জনসংখ্যার এ দেশের তুলনায় আইনজীবীর এ সংখ্যা অপ্রতুল।

২০১৪ সালের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দারুল ইহসান মামলায় আপিল বিভাগ ২০১৭ সালে পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় ১২টি নির্দেশনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ছিল বার কাউন্সিলের প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। বার কাউন্সিল পরীক্ষা না নেয়ার পেছনে ব্যর্থতার যে বীজ বপিত হয়েছে, তা উপড়ে ফেলতে হবে। পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসার আবেদন জানাই।

ক্রান্তিকালীন এ পরিস্থিতির উন্নতি কবে নাগাদ হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল। ২০১৭ সালে প্রাথমিক ধাপ শেষে আড়াই মাসের লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। এছাড়াও লিখিত খাতা নিরীক্ষার কাজ যেহেতু বিচারপতিরা করে থাকেন সেহেতু তা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এমনিতেই লাখ লাখ মামলা ঝুলে আছে, সুতরাং এটি অত্যন্ত কম সময়ে নিরীক্ষিত হবে এমনটি ভেবে নেয়া অমূলক।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবীকে এ সংকট থেকে রক্ষার জন্য আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর মুখপানে তাকিয়ে আছি। তিনি এ জাতির আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করি।

কে এম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু : মানবাধিকার কর্মী

[email protected]