বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
jugantor
বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
অনৈতিক কাজ থেকে শিশুদের দূরে থাকার শিক্ষা দিন

  সম্পাদকীয়  

২৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর সন্ত্রাসী ও দস্যু বাহিনী উপদ্রুত কয়েকটি উপজেলায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে কিশোর গ্যাং। জানা গেছে, এসব গ্যাং ছিনতাই, ধর্ষণ, লুটপাট, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, খুন, অপহরণ ও যৌন হয়রানিসহ ভয়ংকর সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ছুরি, চাপাতি, ড্যাগার, রামদা, হকিস্টিক ছাড়াও তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র।

এসব কিশোর গ্যাং ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলেছে বলেও খবর রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গ্যাংয়ের বেড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাদের হাতে নানাভাবে নিগৃহীত হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শুধু নোয়াখালী নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি শুধু অভিভাবকদের নয়, রাষ্ট্রের জন্যই চিন্তার বিষয়। যারা কিশোর বয়স থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যে একদিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর খাতায় নাম লেখাবে না, তার নিশ্চয়তা কী!

সমাজদেহে ব্যাপকভাবে এ ক্ষত বিস্তার লাভ করার আগেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করি আমরা। শিশুরা অসৎ সঙ্গ বর্জন করাসহ যে কোনো প্রকার লোভ-লালসা, প্রলোভন বা অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা জীবনের শুরুতেই যদি পরিবার থেকে পায়, তাহলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

আজকাল মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় অনেক কিশোর-কিশোরীই বিপথগামী হচ্ছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তরা কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। এসব বখাটে বা কিশোর অপরাধীর হাতে দেশের স্কুল-কলেজগামী কিশোরীদের লাঞ্ছিত, অপমানিত ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ছাড়াও স্থান বিশেষে তাদের উৎপাত ও নিপীড়নের মাত্রা কতটা প্রকট হয়- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দেলোয়ার বাহিনী কর্তৃক এক গৃহবধূর ধর্ষণের শিকার ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাই এর প্রমাণ।

কিশোর গ্যাং তথা কিশোর অপরাধ বর্তমানে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আশার কথা, কিশোর বয়সীদের মধ্যে সংবেদনশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা নিজ নিজ এলাকায় স্থাপিত এসব ক্লাবের সদস্য হতে পারবে।

এ ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবে তারাই। সমাজে বিদ্যমান নানা অসঙ্গতির ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যরা হরেকরকম খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ারও সুযোগ পাবে। প্রতিটি ক্লাবেই বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া-সরঞ্জাম সরবরাহ করা ছাড়াও বই ও পত্র-পত্রিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সবকিছু মিলিয়ে উদ্যোগটি যে প্রশংসনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সারা দেশে এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি কিশোর অপরাধ তথা কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম ও বিকাশ রোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিক ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

অনৈতিক কাজ থেকে শিশুদের দূরে থাকার শিক্ষা দিন
 সম্পাদকীয় 
২৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর সন্ত্রাসী ও দস্যু বাহিনী উপদ্রুত কয়েকটি উপজেলায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে কিশোর গ্যাং। জানা গেছে, এসব গ্যাং ছিনতাই, ধর্ষণ, লুটপাট, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, খুন, অপহরণ ও যৌন হয়রানিসহ ভয়ংকর সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ছুরি, চাপাতি, ড্যাগার, রামদা, হকিস্টিক ছাড়াও তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র।

এসব কিশোর গ্যাং ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলেছে বলেও খবর রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গ্যাংয়ের বেড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাদের হাতে নানাভাবে নিগৃহীত হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শুধু নোয়াখালী নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি শুধু অভিভাবকদের নয়, রাষ্ট্রের জন্যই চিন্তার বিষয়। যারা কিশোর বয়স থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যে একদিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর খাতায় নাম লেখাবে না, তার নিশ্চয়তা কী!

সমাজদেহে ব্যাপকভাবে এ ক্ষত বিস্তার লাভ করার আগেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করি আমরা। শিশুরা অসৎ সঙ্গ বর্জন করাসহ যে কোনো প্রকার লোভ-লালসা, প্রলোভন বা অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা জীবনের শুরুতেই যদি পরিবার থেকে পায়, তাহলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

আজকাল মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় অনেক কিশোর-কিশোরীই বিপথগামী হচ্ছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তরা কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। এসব বখাটে বা কিশোর অপরাধীর হাতে দেশের স্কুল-কলেজগামী কিশোরীদের লাঞ্ছিত, অপমানিত ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ছাড়াও স্থান বিশেষে তাদের উৎপাত ও নিপীড়নের মাত্রা কতটা প্রকট হয়- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দেলোয়ার বাহিনী কর্তৃক এক গৃহবধূর ধর্ষণের শিকার ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাই এর প্রমাণ।

কিশোর গ্যাং তথা কিশোর অপরাধ বর্তমানে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আশার কথা, কিশোর বয়সীদের মধ্যে সংবেদনশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা নিজ নিজ এলাকায় স্থাপিত এসব ক্লাবের সদস্য হতে পারবে।

এ ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবে তারাই। সমাজে বিদ্যমান নানা অসঙ্গতির ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যরা হরেকরকম খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ারও সুযোগ পাবে। প্রতিটি ক্লাবেই বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া-সরঞ্জাম সরবরাহ করা ছাড়াও বই ও পত্র-পত্রিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সবকিছু মিলিয়ে উদ্যোগটি যে প্রশংসনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সারা দেশে এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি কিশোর অপরাধ তথা কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম ও বিকাশ রোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিক ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।