পণ্যের দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস
jugantor
পণ্যের দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস
কারসাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে ভোক্তারা দিশেহারা। বস্তুত সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাগামহীন হয়ে পড়েছে বাজার। করোনার তাণ্ডবে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এ অবস্থায় সবার প্রত্যাশা ছিল এবার অন্তত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চালের পর এবার বিভিন্ন সবজির দাম এতটাই বেড়েছে যে, স্বল্প আয়ের অনেক মানুষ সবজি কিনতে গিয়ে ফিরে আসছেন। এখন সীমিত আয়ের মানুষ সঞ্চয় ভেঙে কোনোরকমে টিকে আছেন। কিন্তু যাদের সঞ্চয় নেই তাদের কী হবে?

সরকার মিল পর্যায়ে চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় বছরজুড়ে পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজি চলে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের একাধিক সংস্থা ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহ্নিত করলেও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে তারা বিভিন্ন উৎসবসহ মৌসুম ধরে একাধিক পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে।

নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের প্রধান খাবার চাল, ডাল, আলু। আলুর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। সেই পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজিই মূল কারণ। বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বলছে, আলুর দাম নজরদারি করতে অধিদফতরের টিম হিমাগার থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি করছে। তাই যদি হয়, তাহলে এই তদারকির ফলাফল কী? প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়, তাতে ভোক্তার চাহিদা মিটিয়ে আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। তাহলে আলুর এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেন? শুধু আলু নয়, বাজারে প্রতি কেজি সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। এত চড়া দামের পণ্য নিম্নআয়ের মানুষ ক্রয় করবে কিভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চলমান অস্থিরতা দূর করতে সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শুধু জরিমানা বা অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় অসাধুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, একশ্রেণির ব্যবসায়ীর দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সরকারকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতেই হবে। তা না হলে স্বল্প আয়ের মানুষের অস্বস্তি দূর হবে না।

পণ্যের দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস

কারসাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে ভোক্তারা দিশেহারা। বস্তুত সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাগামহীন হয়ে পড়েছে বাজার। করোনার তাণ্ডবে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এ অবস্থায় সবার প্রত্যাশা ছিল এবার অন্তত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চালের পর এবার বিভিন্ন সবজির দাম এতটাই বেড়েছে যে, স্বল্প আয়ের অনেক মানুষ সবজি কিনতে গিয়ে ফিরে আসছেন। এখন সীমিত আয়ের মানুষ সঞ্চয় ভেঙে কোনোরকমে টিকে আছেন। কিন্তু যাদের সঞ্চয় নেই তাদের কী হবে?

সরকার মিল পর্যায়ে চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় বছরজুড়ে পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজি চলে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের একাধিক সংস্থা ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহ্নিত করলেও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে তারা বিভিন্ন উৎসবসহ মৌসুম ধরে একাধিক পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে।

নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের প্রধান খাবার চাল, ডাল, আলু। আলুর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। সেই পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজিই মূল কারণ। বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বলছে, আলুর দাম নজরদারি করতে অধিদফতরের টিম হিমাগার থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি করছে। তাই যদি হয়, তাহলে এই তদারকির ফলাফল কী? প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়, তাতে ভোক্তার চাহিদা মিটিয়ে আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। তাহলে আলুর এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেন? শুধু আলু নয়, বাজারে প্রতি কেজি সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। এত চড়া দামের পণ্য নিম্নআয়ের মানুষ ক্রয় করবে কিভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চলমান অস্থিরতা দূর করতে সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শুধু জরিমানা বা অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় অসাধুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, একশ্রেণির ব্যবসায়ীর দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সরকারকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতেই হবে। তা না হলে স্বল্প আয়ের মানুষের অস্বস্তি দূর হবে না।