এলইডি বিলবোর্ড খাতে অনিয়ম
jugantor
এলইডি বিলবোর্ড খাতে অনিয়ম
দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এলইডি বিলবোর্ড বরাদ্দ খাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব গচ্চা দিয়েছে। জানা গেছে, প্রতি বর্গফুট বিলবোর্ডের বার্ষিক ভাড়া ২০ হাজার টাকা হলেও তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৮০০ টাকায়। রাজধানীতে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে ডিএসসিসির বরাদ্দকৃত এলইডি বিলবোর্ডের মোট আয়তন ২৪ হাজার ৩৩৭ বর্গফুট। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর এ খাতে ভাড়া আদায় হওয়ার কথা ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা; চার অর্থবছরে যার পরিমাণ হবে ১৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অথচ এ খাতে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ টাকা। এতে ডিএসসিসি তথা সরকারের গচ্চা গেছে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, ডিএসসিসির তৎকালীন প্রভাবশালী একটি চক্র বিধি ভেঙে এবং কৌশলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত অনুমোদন এড়িয়ে নিজস্ব লোকজনকে অনির্দিষ্টকালের মেয়াদে বিলবোর্ডগুলো বরাদ্দ দেয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করেছে, যা কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ভেঙে দু’ভাগ করার সময় বলা হয়েছিল, উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানই বিভাজনের মূল্য উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য পূরণ না হলেও সেখানে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ যে বেড়ে উঠেছে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। বস্তুত সিটি কর্পোরেশনদ্বয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়, রাজস্ব আদায়, বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয় এবং হাটবাজার ইজারার মাধ্যমে আয় হওয়া অর্থ ছাড়াও নানাভাবে অর্জিত আয়ের একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পকেটস্থ করে চলেছে। মূলত এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে এলইডি বিলবোর্ড বরাদ্দ খাতে চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এর ফলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রতিকার হওয়া জরুরি। আশার কথা, একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত অনিয়ম তুলে ধরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছে। এর মধ্য দিয়ে এলইডি বিলবোর্ড বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের হোতারা চিহ্নিত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই কাম্য।

এলইডি বিলবোর্ড খাতে অনিয়ম

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এলইডি বিলবোর্ড বরাদ্দ খাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব গচ্চা দিয়েছে। জানা গেছে, প্রতি বর্গফুট বিলবোর্ডের বার্ষিক ভাড়া ২০ হাজার টাকা হলেও তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৮০০ টাকায়। রাজধানীতে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে ডিএসসিসির বরাদ্দকৃত এলইডি বিলবোর্ডের মোট আয়তন ২৪ হাজার ৩৩৭ বর্গফুট। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর এ খাতে ভাড়া আদায় হওয়ার কথা ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা; চার অর্থবছরে যার পরিমাণ হবে ১৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অথচ এ খাতে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ টাকা। এতে ডিএসসিসি তথা সরকারের গচ্চা গেছে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, ডিএসসিসির তৎকালীন প্রভাবশালী একটি চক্র বিধি ভেঙে এবং কৌশলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত অনুমোদন এড়িয়ে নিজস্ব লোকজনকে অনির্দিষ্টকালের মেয়াদে বিলবোর্ডগুলো বরাদ্দ দেয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করেছে, যা কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) ভেঙে দু’ভাগ করার সময় বলা হয়েছিল, উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানই বিভাজনের মূল্য উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য পূরণ না হলেও সেখানে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ যে বেড়ে উঠেছে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। বস্তুত সিটি কর্পোরেশনদ্বয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়, রাজস্ব আদায়, বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয় এবং হাটবাজার ইজারার মাধ্যমে আয় হওয়া অর্থ ছাড়াও নানাভাবে অর্জিত আয়ের একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পকেটস্থ করে চলেছে। মূলত এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে এলইডি বিলবোর্ড বরাদ্দ খাতে চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এর ফলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রতিকার হওয়া জরুরি। আশার কথা, একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত অনিয়ম তুলে ধরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছে। এর মধ্য দিয়ে এলইডি বিলবোর্ড বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের হোতারা চিহ্নিত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই কাম্য।