সিলেট কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতি
jugantor
সিলেট কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতি
অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

  সম্পাদকীয়  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতি

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাবার পরিবেশন ও রক্ষীদের রেশন বণ্টনে বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। দুঃখজনক হল, সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ উত্থাপন করলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়ীদের কেবল সতর্ক করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য। উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাবার ও রক্ষীদের রেশনে ব্যাপক দুর্নীতি সম্পর্কিত তথ্যবহুল একটি সংবাদ যুগান্তরে প্রকাশিত হলে ওইদিনই কারা অধিদফতর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে স্রেফ ‘সতর্ক’ করার ঘটনাটি ঘটেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির শাস্তি কোনোভাবেই সতর্কবাণী উচ্চারণ হতে পারে না বলে মনে করি আমরা। এক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ‘নাটের গুরু’দের চিহ্নিত করা খুব কঠিন কাজ নয়। তবে শুধু সিলেট কারাগার নয়, দেশের কারাগারগুলোয় বিরাজমান বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অসঙ্গতি ও স্বেচ্ছাচার বন্ধ করতে হলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের অন্য কারাগারগুলোয় বিচারাধীন নারী-পুরুষের পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরাও রয়েছে। কারাগারে থাকা অপরাধীরা কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে এসে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের চর্চা করে সংশোধিত হওয়ার পথ বেছে নেবে, এটাই প্রত্যাশিত। অথচ বাস্তবে কারাগারগুলোয় সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা কাম্য নয়। একদিকে কারাগারে আগত নতুন বন্দিদের নিলামে বিক্রি, টাকার বিনিময়ে বন্দির সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ পাইয়ে দেয়া, জামিনপ্রাপ্ত বা সাজা খেটে বের হওয়া বন্দিদের কারা ফটকে পুনরায় গ্রেফতারের হুমকি, কারাগারের ক্যান্টিন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কারা হাসপাতালে অসুস্থ হিসেবে বন্দিদের সুবিধা পাইয়ে দেয়ার পাশাপাশি বন্দিদের নিুমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া; অন্যদিকে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

সাধারণত বলা হয়, কারাগার হল একটি সংশোধনাগার। এখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। তবে ‘রাখিব নিরাপদ- দেখাব আলোর পথ’ এ অঙ্গীকার কর্তৃপক্ষ কারাফটকে লিখে রাখলেও বাস্তব অবস্থার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কারাভ্যন্তরে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘূর্ণাবর্তে সাধারণ বন্দি, এমন কী কারারক্ষীরাও কতটা অসহায়, যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদে ইতঃপূর্বে তা পরিস্ফুট হয়েছে। আমরা আশা করব, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাবার পরিবেশন ও রক্ষীদের রেশন বণ্টনে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত ও শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কারাগারে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসানকল্পে ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সিলেট কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতি

অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করুন
 সম্পাদকীয় 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতি
ফাইল ছবি

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাবার পরিবেশন ও রক্ষীদের রেশন বণ্টনে বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। দুঃখজনক হল, সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ উত্থাপন করলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়ীদের কেবল সতর্ক করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য। উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাবার ও রক্ষীদের রেশনে ব্যাপক দুর্নীতি সম্পর্কিত তথ্যবহুল একটি সংবাদ যুগান্তরে প্রকাশিত হলে ওইদিনই কারা অধিদফতর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে স্রেফ ‘সতর্ক’ করার ঘটনাটি ঘটেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির শাস্তি কোনোভাবেই সতর্কবাণী উচ্চারণ হতে পারে না বলে মনে করি আমরা। এক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ‘নাটের গুরু’দের চিহ্নিত করা খুব কঠিন কাজ নয়। তবে শুধু সিলেট কারাগার নয়, দেশের কারাগারগুলোয় বিরাজমান বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অসঙ্গতি ও স্বেচ্ছাচার বন্ধ করতে হলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের অন্য কারাগারগুলোয় বিচারাধীন নারী-পুরুষের পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরাও রয়েছে। কারাগারে থাকা অপরাধীরা কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে এসে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের চর্চা করে সংশোধিত হওয়ার পথ বেছে নেবে, এটাই প্রত্যাশিত। অথচ বাস্তবে কারাগারগুলোয় সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা কাম্য নয়। একদিকে কারাগারে আগত নতুন বন্দিদের নিলামে বিক্রি, টাকার বিনিময়ে বন্দির সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ পাইয়ে দেয়া, জামিনপ্রাপ্ত বা সাজা খেটে বের হওয়া বন্দিদের কারা ফটকে পুনরায় গ্রেফতারের হুমকি, কারাগারের ক্যান্টিন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কারা হাসপাতালে অসুস্থ হিসেবে বন্দিদের সুবিধা পাইয়ে দেয়ার পাশাপাশি বন্দিদের নিুমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া; অন্যদিকে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

সাধারণত বলা হয়, কারাগার হল একটি সংশোধনাগার। এখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। তবে ‘রাখিব নিরাপদ- দেখাব আলোর পথ’ এ অঙ্গীকার কর্তৃপক্ষ কারাফটকে লিখে রাখলেও বাস্তব অবস্থার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কারাভ্যন্তরে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘূর্ণাবর্তে সাধারণ বন্দি, এমন কী কারারক্ষীরাও কতটা অসহায়, যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদে ইতঃপূর্বে তা পরিস্ফুট হয়েছে। আমরা আশা করব, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাবার পরিবেশন ও রক্ষীদের রেশন বণ্টনে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত ও শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কারাগারে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসানকল্পে ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া হবে।