পদোন্নতি ছাড়াই পদায়ন: জটিলতার অবসান ঘটানো দরকার
jugantor
পদোন্নতি ছাড়াই পদায়ন: জটিলতার অবসান ঘটানো দরকার

  সম্পাদকীয়  

২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশাসনের গ্রেড-১ ধাপের বেশিরভাগ পদই চলছে পদোন্নতি ছাড়া ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে। প্রশাসনে বর্তমানে ৫১টি গ্রেড-১ পদ রয়েছে। জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব থেকে বর্তমানে গ্রেড-১ পদগুলোয় পদোন্নতি পেয়ে কাজ করছেন ১৬ জন কর্মকর্তা। কাউকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হচ্ছে, আবার কাউকে পদায়ন করা হচ্ছে পদোন্নতি ছাড়াই।

অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তাদের গ্রেড-১ দেয়া হলেও সিনিয়র ব্যাচের ক্ষেত্রে করা হচ্ছে সময়ক্ষেপণ। ফলে এ ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা কাজ করছেন মনঃকষ্ট নিয়ে। উল্লেখ্য, নীতিমালা অনুযায়ী গ্রেড-১ পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট পদ।

তাই ওই পদে কাউকে পদোন্নতি না দেয়া পর্যন্ত কেউ কর্মরত থাকলে অথবা কাউকে পদায়ন করা হলে তিনি গ্রেড-২-এর কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। সেক্ষেত্রে পদোন্নতি ছাড়া গ্রেড-১-এ পদায়ন হওয়া কর্মকর্তাদের বঞ্চনার অনুভূতি থাকাটাই স্বাভাবিক।

বস্তুত একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও মেধাবী কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত হলে তার মনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা সহজে সারে না। চাকরিতে পদোন্নতি ও পদায়ন একটি স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। পদোন্নতির ক্ষেত্রে লিখিত মানদণ্ড রয়েছে। পদায়নের ক্ষেত্রে লিখিত মানদণ্ড না থাকলেও রয়েছে সার্বজনীন অলিখিত মানদণ্ড। এই লিখিত ও অলিখিত মানদণ্ড অনুসরণ করে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হলে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে না।

গ্রেড-১ হল জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ। মূলত প্রশাসনে সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর একজন পদস্থ কর্মকর্তা গ্রেড-১-এ উন্নীত হন। আর গ্রেড-২ নির্ধারিত অতিরিক্ত সচিব/সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছরে নানা কারণে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার চাপ বাড়তে থাকে।

কিন্তু সরকার চাইলেও তাদের ৫০ শতাংশ কর্মকর্তাকেও সচিব করতে পারবে না মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাইরে সচিব করার সুযোগ না থাকায়। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে একটি জটিলতা রয়েছে। বস্তুত প্রশাসনে পদের চেয়ে বেশি পদোন্নতি দেয়ার যেমন নজির আছে, তেমনি পদোন্নতিতে সময়ক্ষেপণের অভিযোগও প্রবল।

আমরা মনে করি, একটি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে এ জটিলতার অবসান ঘটানো উচিত। একটি দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থেই যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে, এটাই কাম্য।

পদোন্নতি ছাড়াই পদায়ন: জটিলতার অবসান ঘটানো দরকার

 সম্পাদকীয় 
২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশাসনের গ্রেড-১ ধাপের বেশিরভাগ পদই চলছে পদোন্নতি ছাড়া ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে। প্রশাসনে বর্তমানে ৫১টি গ্রেড-১ পদ রয়েছে। জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব থেকে বর্তমানে গ্রেড-১ পদগুলোয় পদোন্নতি পেয়ে কাজ করছেন ১৬ জন কর্মকর্তা। কাউকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হচ্ছে, আবার কাউকে পদায়ন করা হচ্ছে পদোন্নতি ছাড়াই।

অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তাদের গ্রেড-১ দেয়া হলেও সিনিয়র ব্যাচের ক্ষেত্রে করা হচ্ছে সময়ক্ষেপণ। ফলে এ ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা কাজ করছেন মনঃকষ্ট নিয়ে। উল্লেখ্য, নীতিমালা অনুযায়ী গ্রেড-১ পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট পদ।

তাই ওই পদে কাউকে পদোন্নতি না দেয়া পর্যন্ত কেউ কর্মরত থাকলে অথবা কাউকে পদায়ন করা হলে তিনি গ্রেড-২-এর কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। সেক্ষেত্রে পদোন্নতি ছাড়া গ্রেড-১-এ পদায়ন হওয়া কর্মকর্তাদের বঞ্চনার অনুভূতি থাকাটাই স্বাভাবিক।

বস্তুত একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও মেধাবী কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত হলে তার মনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা সহজে সারে না। চাকরিতে পদোন্নতি ও পদায়ন একটি স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। পদোন্নতির ক্ষেত্রে লিখিত মানদণ্ড রয়েছে। পদায়নের ক্ষেত্রে লিখিত মানদণ্ড না থাকলেও রয়েছে সার্বজনীন অলিখিত মানদণ্ড। এই লিখিত ও অলিখিত মানদণ্ড অনুসরণ করে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হলে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে না।

গ্রেড-১ হল জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ। মূলত প্রশাসনে সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর একজন পদস্থ কর্মকর্তা গ্রেড-১-এ উন্নীত হন। আর গ্রেড-২ নির্ধারিত অতিরিক্ত সচিব/সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছরে নানা কারণে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার চাপ বাড়তে থাকে।

কিন্তু সরকার চাইলেও তাদের ৫০ শতাংশ কর্মকর্তাকেও সচিব করতে পারবে না মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাইরে সচিব করার সুযোগ না থাকায়। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে একটি জটিলতা রয়েছে। বস্তুত প্রশাসনে পদের চেয়ে বেশি পদোন্নতি দেয়ার যেমন নজির আছে, তেমনি পদোন্নতিতে সময়ক্ষেপণের অভিযোগও প্রবল।

আমরা মনে করি, একটি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে এ জটিলতার অবসান ঘটানো উচিত। একটি দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থেই যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে, এটাই কাম্য।