বেঁধে দেয়া দামও অকার্যকর
jugantor
বেঁধে দেয়া দামও অকার্যকর
বাজারে কবে ফিরবে স্বাভাবিক অবস্থা?

  সম্পাদকীয়  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপণ্যের বাজার এখনও অস্বাভাবিক। দেড় মাস আগে পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্যের পর অসাধু চক্র চাল, আলু ও ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি শুরু করেছে।

এই তিন পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তা কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে মিল পর্যায়ে চালের দাম নির্ধারণ করা হলেও গত এক মাস ধরে বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ওদিকে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজরে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ২২ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর সরকার ভোজ্যতেলের দাম বেঁধে দিলেও খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন লিটারপ্রতি ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে এই অস্বাভাবিকতা কেন, তার কোনো সদুত্তর নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের অসাধু চক্রের সদস্যদের

চিহ্নিত করা হলেও তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাজার তদারকির নামে যা হচ্ছে, তারও কোনো সুফল নেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, দেশের ভোক্তা শ্রেণি কি বারবার অস্বাভাবিক পণ্যমূল্যের শিকার হতেই থাকবে, এর কোনো প্রতিকার নেই?

শুধু চাল, আলু ও ভোজ্যতেল নয়, বস্তুত দেশে সক্রিয় সিন্ডিকেটগুলো পুরো নিত্যপণ্যের বাজার জিম্মি করে ফেলেছে। এই সিন্ডিকেটগুলো এতই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো সৎ সাহস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই। আসলে পুরো বিষয়টি একটি দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে গেছে।

এই চক্র ভাঙার জন্য যে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা দরকার তা অনুপস্থিত। গা-ছাড়া তদারকিতে তাই কিছুই হচ্ছে না।

নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে অবশ্যই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে এই নয় যে, এতে কোনো শৃঙ্খলা থাকবে না।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতেও সরকারের একটা নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। সবকিছু যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে সরকারের অস্তিত্ব থাকে কোথায়? এটা কোনো কথা হতে পারে না যে, সরকার একটা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেবে অথচ সেই নির্ধারিত মূল্যে পণ্যটি বিক্রি হবে না।

এটা স্পষ্ট, দেশের একশ্রেণির ব্যবসায়ীর দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মুখের কথায় বা উপদেশে তাদের চরিত্র বদল হওয়ার নয়। তাই সরকারকে নিতে হবে কঠোর অবস্থান। স্বস্তি ফেরাতে হবে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষদের।

বেঁধে দেয়া দামও অকার্যকর

বাজারে কবে ফিরবে স্বাভাবিক অবস্থা?
 সম্পাদকীয় 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপণ্যের বাজার এখনও অস্বাভাবিক। দেড় মাস আগে পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্যের পর অসাধু চক্র চাল, আলু ও ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি শুরু করেছে।

এই তিন পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তা কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে মিল পর্যায়ে চালের দাম নির্ধারণ করা হলেও গত এক মাস ধরে বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ওদিকে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজরে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ২২ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর সরকার ভোজ্যতেলের দাম বেঁধে দিলেও খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন লিটারপ্রতি ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে এই অস্বাভাবিকতা কেন, তার কোনো সদুত্তর নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের অসাধু চক্রের সদস্যদের

চিহ্নিত করা হলেও তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাজার তদারকির নামে যা হচ্ছে, তারও কোনো সুফল নেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, দেশের ভোক্তা শ্রেণি কি বারবার অস্বাভাবিক পণ্যমূল্যের শিকার হতেই থাকবে, এর কোনো প্রতিকার নেই?

শুধু চাল, আলু ও ভোজ্যতেল নয়, বস্তুত দেশে সক্রিয় সিন্ডিকেটগুলো পুরো নিত্যপণ্যের বাজার জিম্মি করে ফেলেছে। এই সিন্ডিকেটগুলো এতই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো সৎ সাহস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই। আসলে পুরো বিষয়টি একটি দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে গেছে।

এই চক্র ভাঙার জন্য যে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা দরকার তা অনুপস্থিত। গা-ছাড়া তদারকিতে তাই কিছুই হচ্ছে না।

নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে অবশ্যই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে এই নয় যে, এতে কোনো শৃঙ্খলা থাকবে না।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতেও সরকারের একটা নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। সবকিছু যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে সরকারের অস্তিত্ব থাকে কোথায়? এটা কোনো কথা হতে পারে না যে, সরকার একটা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেবে অথচ সেই নির্ধারিত মূল্যে পণ্যটি বিক্রি হবে না।

এটা স্পষ্ট, দেশের একশ্রেণির ব্যবসায়ীর দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মুখের কথায় বা উপদেশে তাদের চরিত্র বদল হওয়ার নয়। তাই সরকারকে নিতে হবে কঠোর অবস্থান। স্বস্তি ফেরাতে হবে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষদের।