সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব
jugantor
সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব

  সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীকাল ৩১ অক্টোবর বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস। মূলত মিতব্যয়ী হওয়ার আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

এই দিনে পরিবার ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনই মিতব্যয়িতা। অন্যভাবে বলা যায়, কৃপণতা না করে প্রয়োজনমতো অথবা হিসাব করে ব্যয় করার নাম মিতব্যয়িতা।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য মিতব্যয়িতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ এ দেশের মানুষের মধ্যে অপচয়ের প্রবণতা বেশি।

মিতব্যয়িতার সঙ্গে সঞ্চয়ের একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে। কারণ কোনো মানুষ মিতব্যয়ী হলেই সেখান থেকে অর্থ বাঁচিয়ে সেটা সঞ্চয় করতে পারে। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে দেখতাম মা ভাত রান্না করার সময় প্রতিবারই একমুঠো করে চাল অন্য একটি পাতিলে জমিয়ে রাখতেন।

এভাবে সপ্তাহখানেক জমানোর পর দেখা যেত সেই জমানো চাল দিয়ে অন্য একদিনের রান্নার চাল হয়ে গেছে। অথবা সেই জমানো চাল বিক্রি করে সংসারের বিভিন্ন ছোট ছোট প্রয়োজন পূরণ হতো। এটাকে বলা হতো লক্ষ্মীর ভাড়।

মানবজীবনে মিতব্যয়িতা একটি অপরিহার্য বিষয়। মিতব্যয় প্রত্যেক মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি বয়ে আনে। ব্যক্তিজীবনে যত বেশি সঞ্চয় হবে, ততই বাড়বে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত করে।

জাতীয় উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ সম্পদ সংগ্রহের পন্থা হচ্ছে স্বেচ্ছায় সঞ্চয় এবং কর সংগ্রহের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়। স্বেচ্ছায় সঞ্চয় যত বাড়বে, কর বা রাজস্ব আদায়ের ওপর নির্ভরতা ততো কমবে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই উন্নত দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।

আয় করা যত কঠিন, ব্যয় করা ততোই সহজ। মানুষ আয়েশি জীবনযাপনের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করে, যা তার ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলকর নয়। আমরা আমাদের চারপাশে তাকালে দেখতে পাই- কেউ জীবন দিয়ে পরিশ্রম করেও দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পায় না; আবার কেউ মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও ভূমিহীন বা গৃহহীন। তাই বাংলাদেশের মতো একটি দেশের নাগরিকদের জন্য মিতব্যয়িতা অত্যাবশ্যক।

অপচয়কারীরা নিজের জন্য তো নয়ই; সমাজ, পরিবার ও জাতির জন্যও কিছু করতে পারে না। সঞ্চয়ের জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক মানুষের একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন থাকে। এই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় প্রত্যয়। দৃঢ় প্রত্যয় থেকেই গড়ে ওঠে সঞ্চয়ের প্রবণতা।

মানুষ অর্থ উপার্জনের পর তা খরচ করার তিনটি অবস্থা রয়েছে। এগুলো হল কার্পণ্য, মিতব্যয় ও অপব্যয়। সব ধর্মে মিতব্যয়কে উৎসাহিত করে কার্পণ্য ও অপব্যয়কে নিন্দা জানানো হয়েছে। এ কারণে মিতব্যয় একটি উত্তম কাজ আর কার্পণ্য ও অপব্যয় নিন্দিত কাজ। মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত করে। মিতব্যয়ীরা কখনও নিঃস্ব হয় না।

প্রতি বছর বিশ্বে কোটি কোটি টন খাদ্য নষ্ট হয়। অথচ বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায়। সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষ অপচয় করে কোটি কোটি টাকার খাবার, আর এর মাশুল দিতে হয় পথের পাশের মানুষগুলোকে। এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন মিতব্যয়।

সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র : কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব

 সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীকাল ৩১ অক্টোবর বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস। মূলত মিতব্যয়ী হওয়ার আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

এই দিনে পরিবার ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনই মিতব্যয়িতা। অন্যভাবে বলা যায়, কৃপণতা না করে প্রয়োজনমতো অথবা হিসাব করে ব্যয় করার নাম মিতব্যয়িতা।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য মিতব্যয়িতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ এ দেশের মানুষের মধ্যে অপচয়ের প্রবণতা বেশি।

মিতব্যয়িতার সঙ্গে সঞ্চয়ের একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে। কারণ কোনো মানুষ মিতব্যয়ী হলেই সেখান থেকে অর্থ বাঁচিয়ে সেটা সঞ্চয় করতে পারে। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে দেখতাম মা ভাত রান্না করার সময় প্রতিবারই একমুঠো করে চাল অন্য একটি পাতিলে জমিয়ে রাখতেন।

এভাবে সপ্তাহখানেক জমানোর পর দেখা যেত সেই জমানো চাল দিয়ে অন্য একদিনের রান্নার চাল হয়ে গেছে। অথবা সেই জমানো চাল বিক্রি করে সংসারের বিভিন্ন ছোট ছোট প্রয়োজন পূরণ হতো। এটাকে বলা হতো লক্ষ্মীর ভাড়।

মানবজীবনে মিতব্যয়িতা একটি অপরিহার্য বিষয়। মিতব্যয় প্রত্যেক মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি বয়ে আনে। ব্যক্তিজীবনে যত বেশি সঞ্চয় হবে, ততই বাড়বে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত করে।

জাতীয় উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ সম্পদ সংগ্রহের পন্থা হচ্ছে স্বেচ্ছায় সঞ্চয় এবং কর সংগ্রহের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়। স্বেচ্ছায় সঞ্চয় যত বাড়বে, কর বা রাজস্ব আদায়ের ওপর নির্ভরতা ততো কমবে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই উন্নত দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।

আয় করা যত কঠিন, ব্যয় করা ততোই সহজ। মানুষ আয়েশি জীবনযাপনের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করে, যা তার ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলকর নয়। আমরা আমাদের চারপাশে তাকালে দেখতে পাই- কেউ জীবন দিয়ে পরিশ্রম করেও দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পায় না; আবার কেউ মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও ভূমিহীন বা গৃহহীন। তাই বাংলাদেশের মতো একটি দেশের নাগরিকদের জন্য মিতব্যয়িতা অত্যাবশ্যক।

অপচয়কারীরা নিজের জন্য তো নয়ই; সমাজ, পরিবার ও জাতির জন্যও কিছু করতে পারে না। সঞ্চয়ের জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক মানুষের একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন থাকে। এই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় প্রত্যয়। দৃঢ় প্রত্যয় থেকেই গড়ে ওঠে সঞ্চয়ের প্রবণতা।

মানুষ অর্থ উপার্জনের পর তা খরচ করার তিনটি অবস্থা রয়েছে। এগুলো হল কার্পণ্য, মিতব্যয় ও অপব্যয়। সব ধর্মে মিতব্যয়কে উৎসাহিত করে কার্পণ্য ও অপব্যয়কে নিন্দা জানানো হয়েছে। এ কারণে মিতব্যয় একটি উত্তম কাজ আর কার্পণ্য ও অপব্যয় নিন্দিত কাজ। মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত করে। মিতব্যয়ীরা কখনও নিঃস্ব হয় না।

প্রতি বছর বিশ্বে কোটি কোটি টন খাদ্য নষ্ট হয়। অথচ বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায়। সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষ অপচয় করে কোটি কোটি টাকার খাবার, আর এর মাশুল দিতে হয় পথের পাশের মানুষগুলোকে। এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন মিতব্যয়।

সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র : কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]