চার সমস্যায় আনসার
jugantor
চার সমস্যায় আনসার
দ্রুত সমাধান কাম্য

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের চার ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এগুলো হল: ১. দুই মাস ধরে এ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেতনভাতার ব্যবস্থা করা হয়নি; জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব স্থানীয় তহবিল থেকে ঋণের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। ২. এসব আনসার সদস্যের মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা নেই। ৩. নিরাপদ অস্ত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই।

৪. রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় তারা হোটেলের খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর এক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। চিঠিতে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আরও জানা যায়, আনসার সদস্যদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইউএনওরা কালক্ষেপণ করছেন। তারা আনসারদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

অথচ মোতায়েনকালে আনসার সদস্যদের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ইউএনওদের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অক্টোবর থেকে দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে ৪৯১টির ইউএনওকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য চারজন করে মোট ১ হাজার ৯৬৪ জন অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন করা হয়।

এ আনসার সদস্যরা মাঠপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ইউএনওদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও তাদের বেতনভাতা-সহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না করা দুঃখজনক। এতে স্বল্প বেতনভোগী আনসার সদস্যদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনার আগেই মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, মাঠপর্যায়ে সরকারের রুটিন কাজের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অনেক কাজ পরিচালনা করেন ইউএনওরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জমূলক কাজে মাঠে থাকতে হয় তাদের। এসব কাজে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ইউএনওদের।

কাজেই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই। আনসার সদস্যরা তাদের নানা সমস্যা মোকাবেলা করে এ গুরুদায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা উচিত। আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর চিঠিতে এ দায়িত্ব পালনে আনসার সদস্যদের জনবল বৃদ্ধিসহ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

চার সমস্যায় আনসার

দ্রুত সমাধান কাম্য
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের চার ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এগুলো হল: ১. দুই মাস ধরে এ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেতনভাতার ব্যবস্থা করা হয়নি; জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব স্থানীয় তহবিল থেকে ঋণের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। ২. এসব আনসার সদস্যের মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা নেই। ৩. নিরাপদ অস্ত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই।

৪. রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় তারা হোটেলের খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর এক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। চিঠিতে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আরও জানা যায়, আনসার সদস্যদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইউএনওরা কালক্ষেপণ করছেন। তারা আনসারদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

অথচ মোতায়েনকালে আনসার সদস্যদের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ইউএনওদের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অক্টোবর থেকে দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে ৪৯১টির ইউএনওকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য চারজন করে মোট ১ হাজার ৯৬৪ জন অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন করা হয়।

এ আনসার সদস্যরা মাঠপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ইউএনওদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও তাদের বেতনভাতা-সহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না করা দুঃখজনক। এতে স্বল্প বেতনভোগী আনসার সদস্যদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনার আগেই মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, মাঠপর্যায়ে সরকারের রুটিন কাজের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অনেক কাজ পরিচালনা করেন ইউএনওরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জমূলক কাজে মাঠে থাকতে হয় তাদের। এসব কাজে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ইউএনওদের।

কাজেই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই। আনসার সদস্যরা তাদের নানা সমস্যা মোকাবেলা করে এ গুরুদায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা উচিত। আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর চিঠিতে এ দায়িত্ব পালনে আনসার সদস্যদের জনবল বৃদ্ধিসহ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।