৪২ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
jugantor
৪২ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

  আব্দুর রউফ  

২২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪২ বছরে পা রাখছে। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তে শান্তিদাঙ্গা-দুলালপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। নানা চড়াই-উতরাই পার করে এ বিশ্ববিদ্যালয় ৪১ বছর পূর্ণ করল। এ দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে যেমন অনেক প্রাপ্তি, তেমনই রয়েছে অনেক না পাওয়ার বেদনা। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও নানা সমস্যায় জর্জরিত।

বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পরিপূর্ণ আধুনিক ও সময়োপযোগী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কিছু সমস্যার সমাধান অতি জরুরি। প্রথমত, মান্ধাতার আমলের পাঠক্রম পরিবর্তন করে এর আধুনিকায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক বিভাগে ন্যূনতম ১০০ নম্বরের ব্যবহারিক কম্পিউটার কোর্স চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে হবে। চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে এবং এতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। পঞ্চমত, চলমান শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে শিক্ষাবৃত্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনতে হবে। মেধার ভিত্তিতে প্রতিটি হলে সিট বরাদ্দ করতে হবে। হলে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সান্ধ্য কোর্সের নামে শিক্ষকদের বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত কোর্সে পাঠদানে শিক্ষকদের মনোযোগী করতে হবে। কিছু বিভাগে এখনও সেশনজট আছে, যা নিরসনে বর্তমান প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) গঠনে এবং নির্বাচন আয়োজনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবহন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কৃতি, খেলাধুলা, শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রমের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যে নোংরা রাজনীতির চর্চা হয়, এর অবসান ঘটাতে হবে। কারণ এ রাজনীতির প্রভাব পড়ে পাঠদানের ওপর।

আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করে চলেছে। সেই সুনামের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সুদৃষ্টি দেবে, আমরা এ প্রত্যাশাই করি। ২৯ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির লক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

আব্দুর রউফ : সভাপতি, বাংলাদেশে ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

[email protected]

৪২ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

 আব্দুর রউফ 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪২ বছরে পা রাখছে। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তে শান্তিদাঙ্গা-দুলালপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। নানা চড়াই-উতরাই পার করে এ বিশ্ববিদ্যালয় ৪১ বছর পূর্ণ করল। এ দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে যেমন অনেক প্রাপ্তি, তেমনই রয়েছে অনেক না পাওয়ার বেদনা। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও নানা সমস্যায় জর্জরিত।

বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পরিপূর্ণ আধুনিক ও সময়োপযোগী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কিছু সমস্যার সমাধান অতি জরুরি। প্রথমত, মান্ধাতার আমলের পাঠক্রম পরিবর্তন করে এর আধুনিকায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক বিভাগে ন্যূনতম ১০০ নম্বরের ব্যবহারিক কম্পিউটার কোর্স চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে হবে। চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে এবং এতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। পঞ্চমত, চলমান শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে শিক্ষাবৃত্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনতে হবে। মেধার ভিত্তিতে প্রতিটি হলে সিট বরাদ্দ করতে হবে। হলে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সান্ধ্য কোর্সের নামে শিক্ষকদের বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত কোর্সে পাঠদানে শিক্ষকদের মনোযোগী করতে হবে। কিছু বিভাগে এখনও সেশনজট আছে, যা নিরসনে বর্তমান প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) গঠনে এবং নির্বাচন আয়োজনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবহন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কৃতি, খেলাধুলা, শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রমের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যে নোংরা রাজনীতির চর্চা হয়, এর অবসান ঘটাতে হবে। কারণ এ রাজনীতির প্রভাব পড়ে পাঠদানের ওপর।

আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করে চলেছে। সেই সুনামের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সুদৃষ্টি দেবে, আমরা এ প্রত্যাশাই করি। ২৯ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির লক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

আব্দুর রউফ : সভাপতি, বাংলাদেশে ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

[email protected]