কৃষিশিক্ষা নৈর্বাচনিক হোক
jugantor
কৃষিশিক্ষা নৈর্বাচনিক হোক

  ফরহাদ আহাম্মেদ  

২৭ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষাপদ্ধতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

১১৫ পৃষ্ঠার এই রূপরেখা কিছু পরিমার্জন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমার মতামত হচ্ছে-

১. রূপরেখার ২.১১ অধ্যায়ে ৩০ পৃষ্ঠায় ষষ্ঠ-দশম শ্রেণিতে ১০টি বিষয় যেমন- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, জীবন ও জীবিকা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প-সংস্কৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের দেশের অবস্থার প্রেক্ষাপটে কৃষিশিক্ষা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

কারণ, কৃষিশিক্ষার জ্ঞান দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান হয়, বেকারত্ব দূর হয়, দারিদ্র্য দূর হয়, জাতীয় আয় বাড়ে, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ রাখা (বর্তমান পদ্ধতি) প্রয়োজন। অন্যথায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমস্যা হবে।

২. রূপরেখার ২.১৩. অধ্যায়ে ৮৫ পৃষ্ঠায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে নৈর্বাচনিক বিষয়ে কৃষিশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ এইচএসসি পাস করে প্রতি বছর ২-৩ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দেয়। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে কৃষিশিক্ষার জ্ঞান অর্জন কৃষি উৎপাদনে কাজে লাগতে পারে।

এতে শিক্ষার্থী ও দেশ উভয়েই উপকৃত হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই কৃষিশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। কৃষিপ্রধান এ দেশে কৃষির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কৃষিশিক্ষা ঐচ্ছিক গ্রুপে থাকায় শিক্ষার্থীরা কৃষিশিক্ষা পড়ে না। ফলে প্রতি বছর ১০-১২ লাখ শিক্ষার্থী কৃষির জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৩. রূপরেখার ২.১৬ অধ্যায়ে ৯৬ পৃষ্ঠায় মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং ব্যবস্থায় ৯ম-১০ম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ রাখা হয়েছে। সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পাবলিক পরীক্ষা/প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ নম্বর রাখা প্রয়োজন। শিখনকালীন মূল্যায়ন রাখা যাবে না। কারণ, এতে শিক্ষার্থীরা মোটেও লেখাপড়া করবে না। তারা শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। অসৎ শিক্ষকরা নম্বর বেশি দেয়ার কথা বলে আর্থিক ও যৌন হয়রানি করবে। সৎ শিক্ষকরা বিভিন্ন মানুষের চাপে শিক্ষার্থীদের নম্বর দিতে বাধ্য হবে। এতে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

রূপরেখার ৯৭ ও ৯৮ পৃষ্ঠায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষার প্রায়োগিক বা ঐচ্ছিক একটি বিষয়ে হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিখনকালীন মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীই লেখাপড়া করে না। পরীক্ষা ছাড়া নম্বর দিলে শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বেশকিছু বিষয় আছে যেগুলোর পরীক্ষা নেয়ার নিয়ম নেই। এ বিষয়গুলোতে শিক্ষকরা স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, সুপারিশের কারণে বা প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেয়। অথচ শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো ক্লাস না করে এবং না পড়ে পূর্ণ নম্বর পায়।

বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ : বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক

কৃষিশিক্ষা নৈর্বাচনিক হোক

 ফরহাদ আহাম্মেদ 
২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষাপদ্ধতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

১১৫ পৃষ্ঠার এই রূপরেখা কিছু পরিমার্জন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমার মতামত হচ্ছে-

১. রূপরেখার ২.১১ অধ্যায়ে ৩০ পৃষ্ঠায় ষষ্ঠ-দশম শ্রেণিতে ১০টি বিষয় যেমন- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, জীবন ও জীবিকা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প-সংস্কৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের দেশের অবস্থার প্রেক্ষাপটে কৃষিশিক্ষা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

কারণ, কৃষিশিক্ষার জ্ঞান দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান হয়, বেকারত্ব দূর হয়, দারিদ্র্য দূর হয়, জাতীয় আয় বাড়ে, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ রাখা (বর্তমান পদ্ধতি) প্রয়োজন। অন্যথায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমস্যা হবে।

২. রূপরেখার ২.১৩. অধ্যায়ে ৮৫ পৃষ্ঠায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে নৈর্বাচনিক বিষয়ে কৃষিশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ এইচএসসি পাস করে প্রতি বছর ২-৩ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দেয়। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে কৃষিশিক্ষার জ্ঞান অর্জন কৃষি উৎপাদনে কাজে লাগতে পারে।

এতে শিক্ষার্থী ও দেশ উভয়েই উপকৃত হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই কৃষিশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। কৃষিপ্রধান এ দেশে কৃষির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কৃষিশিক্ষা ঐচ্ছিক গ্রুপে থাকায় শিক্ষার্থীরা কৃষিশিক্ষা পড়ে না। ফলে প্রতি বছর ১০-১২ লাখ শিক্ষার্থী কৃষির জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৩. রূপরেখার ২.১৬ অধ্যায়ে ৯৬ পৃষ্ঠায় মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং ব্যবস্থায় ৯ম-১০ম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ রাখা হয়েছে। সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পাবলিক পরীক্ষা/প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ নম্বর রাখা প্রয়োজন। শিখনকালীন মূল্যায়ন রাখা যাবে না। কারণ, এতে শিক্ষার্থীরা মোটেও লেখাপড়া করবে না। তারা শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। অসৎ শিক্ষকরা নম্বর বেশি দেয়ার কথা বলে আর্থিক ও যৌন হয়রানি করবে। সৎ শিক্ষকরা বিভিন্ন মানুষের চাপে শিক্ষার্থীদের নম্বর দিতে বাধ্য হবে। এতে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

রূপরেখার ৯৭ ও ৯৮ পৃষ্ঠায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষার প্রায়োগিক বা ঐচ্ছিক একটি বিষয়ে হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিখনকালীন মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীই লেখাপড়া করে না। পরীক্ষা ছাড়া নম্বর দিলে শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বেশকিছু বিষয় আছে যেগুলোর পরীক্ষা নেয়ার নিয়ম নেই। এ বিষয়গুলোতে শিক্ষকরা স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, সুপারিশের কারণে বা প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেয়। অথচ শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো ক্লাস না করে এবং না পড়ে পূর্ণ নম্বর পায়।

বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ : বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক