প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা: সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই
jugantor
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা: সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই

  সম্পাদকীয়  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, মানুষকে অবহেলার চোখে দেখবেন না বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেবেন। শুধু তাই নয়; কর্মক্ষেত্রে সবাই যেন ন্যায়বিচার পায়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: ‘আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সেবা করা।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিকালীন রীতিনীতি, দায়িত্ব, কর্তব্য, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক দিকনির্দেশনা পরিস্ফুট হয়েছে। বস্তুত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পরপরই প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দেন, তাহলে দেশ সমৃদ্ধ হবে; দেশের মানুষের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা, ন্যায়বিচার ও সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটবে না।

দুঃখজনক হল, অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ স্বৈরাচারী মনোভাব ও আচার-আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটান; পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানারকম অনিয়মের চর্চা করে থাকেন। মনে রাখা দরকার, যেসব গুণ মানবচরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও মহিমান্বিত করে; সেসবের মধ্যে শিষ্টাচারের স্থান সবার উপরে। শিষ্টাচার মার্জিত রুচিসম্পন্ন হৃদয়ের একটি স্বতঃস্ফূর্ত গুণ।

প্রকৃতপক্ষে শিষ্টাচার হচ্ছে কতগুলো মানবীয় গুণের সমাহার, যেগুলোর চর্চা ও অনুশীলন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জন্য অধিক জরুরি এ জন্য যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত। এ কথা বললে ভুল হবে না, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের মানুষ।

বছরের পর বছর দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু থাকায় জনপ্রশাসনের অবস্থা আজ সত্যিই শোচনীয়। সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবই যে এ জন্য দায়ী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের অভয়বাণী শুনিয়েছেন আমাদের।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দেশ ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে পড়ে। দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রসার ঘটলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি জনস্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষিত হয় এবং ব্যক্তিস্বার্থ সবকিছুর নিয়ামক হয়ে ওঠে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা ভীতিমুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখবেন-এটাই নিয়ম।

তবে এ নিয়ম রক্ষার দায়দায়িত্ব শুধু তাদের একার নয়; এ ক্ষেত্রে শাসক দলেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরকার যদি প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করে, তাহলে তাদের জন্য যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়ে উঠবে। সরকার দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তবে এ জন্য দরকার সৎ, পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান আমলাতন্ত্র। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের আমলাতন্ত্র নতুন দিকনির্দেশনা পাবে-এটাই প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা: সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই

 সম্পাদকীয় 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, মানুষকে অবহেলার চোখে দেখবেন না বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেবেন। শুধু তাই নয়; কর্মক্ষেত্রে সবাই যেন ন্যায়বিচার পায়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: ‘আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সেবা করা।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিকালীন রীতিনীতি, দায়িত্ব, কর্তব্য, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক দিকনির্দেশনা পরিস্ফুট হয়েছে। বস্তুত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পরপরই প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দেন, তাহলে দেশ সমৃদ্ধ হবে; দেশের মানুষের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা, ন্যায়বিচার ও সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটবে না।

দুঃখজনক হল, অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ স্বৈরাচারী মনোভাব ও আচার-আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটান; পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানারকম অনিয়মের চর্চা করে থাকেন। মনে রাখা দরকার, যেসব গুণ মানবচরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও মহিমান্বিত করে; সেসবের মধ্যে শিষ্টাচারের স্থান সবার উপরে। শিষ্টাচার মার্জিত রুচিসম্পন্ন হৃদয়ের একটি স্বতঃস্ফূর্ত গুণ।

প্রকৃতপক্ষে শিষ্টাচার হচ্ছে কতগুলো মানবীয় গুণের সমাহার, যেগুলোর চর্চা ও অনুশীলন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জন্য অধিক জরুরি এ জন্য যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত। এ কথা বললে ভুল হবে না, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের মানুষ।

বছরের পর বছর দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু থাকায় জনপ্রশাসনের অবস্থা আজ সত্যিই শোচনীয়। সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবই যে এ জন্য দায়ী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের অভয়বাণী শুনিয়েছেন আমাদের।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দেশ ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে পড়ে। দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রসার ঘটলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি জনস্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষিত হয় এবং ব্যক্তিস্বার্থ সবকিছুর নিয়ামক হয়ে ওঠে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা ভীতিমুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখবেন-এটাই নিয়ম।

তবে এ নিয়ম রক্ষার দায়দায়িত্ব শুধু তাদের একার নয়; এ ক্ষেত্রে শাসক দলেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরকার যদি প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করে, তাহলে তাদের জন্য যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়ে উঠবে। সরকার দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তবে এ জন্য দরকার সৎ, পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান আমলাতন্ত্র। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের আমলাতন্ত্র নতুন দিকনির্দেশনা পাবে-এটাই প্রত্যাশা।