২০ বছর মেয়াদি নতুন ড্যাপ
jugantor
২০ বছর মেয়াদি নতুন ড্যাপ
পেশাজীবীসহ সবার গঠনমূলক মতামত আমলে নিন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নিয়ে দেশের বিশিষ্ট নগরবিদরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়াও তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ভবিষ্যৎ ‘পথ নকশা’ ড্যাপ চূড়ান্ত করার সুপারিশ করেছেন, যা আমলে নেয়া উচিত। একইসঙ্গে ড্যাপের খসড়া মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ইতঃপূর্বে পেশাজীবী মহল থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নেরও যৌক্তিক সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন না করে নতুন ড্যাপ চূড়ান্ত করা হলে সেটি বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হবে; উপরন্তু নতুন করে আরও অনেক সমস্যার সূত্রপাত ঘটবে, যা মোটেই কাম্য নয়। অবশ্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না, সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হলে ড্যাপ নিয়ে যেসব বিতর্কের অবতারণা ঘটেছে, তার সুন্দর একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল মেয়াদি ২০ বছরের জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালে এ মাস্টারপ্ল্যান তথা নতুন ড্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন ড্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে ৬০ দিনের গণশুনানির সময় বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা চলে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গণশুনানির মেয়াদ আরও ২ মাস বাড়িয়েছে। এ সময়সীমা পুনরায় বাড়ানো না হলে জানুয়ারিতেই চূড়ান্ত হতে পারে ২০ বছর মেয়াদি এ ড্যাপ।

রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো শহরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয় একটি নীতিমালার আলোকে, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালের ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালের নীতিমালার আলোকে, যার মেয়াদকাল ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। সেই নীতিমালার আলোকে নতুন ড্যাপ প্রণয়ন করা সম্ভব নয় বলেই নতুন করে ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান (ডিএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০ বছর মেয়াদি ড্যাপের প্রণয়ন কাজ শুরুর আগে ডিএসপির খসড়া জাতীয় সেমিনারের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হলেও আজ পর্যন্ত তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। ডিএসপি চূড়ান্ত না হলে কিসের ভিত্তিতে ড্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সবচেয়ে বড় কথা, ডিএসপি চূড়ান্ত না হলে রাজউকের এ দুটি পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় রয়েছে কিনা, পেশাজীবীরা সেটা মূল্যায়ন করবেন কীভাবে? যদিও রাজউকের আইন অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করতে ডিএসপির বাধ্যবাধকতা নেই; তারপরও সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার জন্য এ ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি।

যে কোনো পরিকল্পনা শতভাগ নির্ভুল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে রাজউকের খসড়া ড্যাপও ব্যতিক্রম নয়। ২০ বছর মেয়াদি ড্যাপের খসড়ায় যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, পেশাজীবী শ্রেণিসহ সবার গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে তা সংশোধন করে ঢাকাকে বসবাসযোগ্য আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

২০ বছর মেয়াদি নতুন ড্যাপ

পেশাজীবীসহ সবার গঠনমূলক মতামত আমলে নিন
 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নিয়ে দেশের বিশিষ্ট নগরবিদরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়াও তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ভবিষ্যৎ ‘পথ নকশা’ ড্যাপ চূড়ান্ত করার সুপারিশ করেছেন, যা আমলে নেয়া উচিত। একইসঙ্গে ড্যাপের খসড়া মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ইতঃপূর্বে পেশাজীবী মহল থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নেরও যৌক্তিক সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন না করে নতুন ড্যাপ চূড়ান্ত করা হলে সেটি বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হবে; উপরন্তু নতুন করে আরও অনেক সমস্যার সূত্রপাত ঘটবে, যা মোটেই কাম্য নয়। অবশ্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না, সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হলে ড্যাপ নিয়ে যেসব বিতর্কের অবতারণা ঘটেছে, তার সুন্দর একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল মেয়াদি ২০ বছরের জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালে এ মাস্টারপ্ল্যান তথা নতুন ড্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন ড্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে ৬০ দিনের গণশুনানির সময় বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা চলে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গণশুনানির মেয়াদ আরও ২ মাস বাড়িয়েছে। এ সময়সীমা পুনরায় বাড়ানো না হলে জানুয়ারিতেই চূড়ান্ত হতে পারে ২০ বছর মেয়াদি এ ড্যাপ।

রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো শহরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয় একটি নীতিমালার আলোকে, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালের ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালের নীতিমালার আলোকে, যার মেয়াদকাল ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। সেই নীতিমালার আলোকে নতুন ড্যাপ প্রণয়ন করা সম্ভব নয় বলেই নতুন করে ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান (ডিএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০ বছর মেয়াদি ড্যাপের প্রণয়ন কাজ শুরুর আগে ডিএসপির খসড়া জাতীয় সেমিনারের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হলেও আজ পর্যন্ত তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। ডিএসপি চূড়ান্ত না হলে কিসের ভিত্তিতে ড্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সবচেয়ে বড় কথা, ডিএসপি চূড়ান্ত না হলে রাজউকের এ দুটি পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় রয়েছে কিনা, পেশাজীবীরা সেটা মূল্যায়ন করবেন কীভাবে? যদিও রাজউকের আইন অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করতে ডিএসপির বাধ্যবাধকতা নেই; তারপরও সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার জন্য এ ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি।

যে কোনো পরিকল্পনা শতভাগ নির্ভুল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে রাজউকের খসড়া ড্যাপও ব্যতিক্রম নয়। ২০ বছর মেয়াদি ড্যাপের খসড়ায় যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, পেশাজীবী শ্রেণিসহ সবার গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে তা সংশোধন করে ঢাকাকে বসবাসযোগ্য আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।