মৌসুমের পরেও ডেঙ্গু
jugantor
মৌসুমের পরেও ডেঙ্গু
মশক নিধন কার্যকর উদ্যোগ নিন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও নানা রকম কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে মশাবাহিত রোগ মোকাবেলার বিষয়টি আড়ালে চলে যাচ্ছে কিনা, গত কয়েক মাসে এ প্রশ্ন বারবার দেখা দিয়েছিল। অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের চিত্র পর্যালোচনা করলে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকে না। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালে নভেম্বর মাসের ২৮ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ শতাধিক রোগী, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ। অনেকে মনে করেন, ডেঙ্গু নিয়ে সারা বছরের যে চিত্র আমরা পাচ্ছি, তা প্রকৃত চিত্র নয়।

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। তাই ভোগান্তির আশঙ্কায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে যাননি। ফলে সেসব অসুস্থ ব্যক্তি করোনা নাকি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন। এদের মধ্যে রাজধানীতে ২৬ জন ও রাজধানীর বাইরের হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩ জন। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮৮। যার মধ্যে রাজধানীতে ৭২ জন ও রাজধানীর বাইরে ১৬ জন। ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ১৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু তথ্য পাওয়া গেলেও আইইডিসিআর ৪ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে।

লক্ষ করা যাচ্ছে, রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে অনেকেই মনে করতেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া- এসব রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা। উল্লিখিত তথ্যে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে, এডিস মশা রাজধানীর বাইরেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ বছর অক্টোবর ও নভেম্বরে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ তথ্য বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ডেঙ্গুসংক্রান্ত আমাদের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত না থাকলে মৌসুমের আগে-পরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে; যার আভাস এবার পাওয়া গেল। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র কিভাবে ধ্বংস করতে হবে, তা বহুল আলোচিত। কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুফল মিলবে।

মৌসুমের পরেও ডেঙ্গু

মশক নিধন কার্যকর উদ্যোগ নিন
 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও নানা রকম কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে মশাবাহিত রোগ মোকাবেলার বিষয়টি আড়ালে চলে যাচ্ছে কিনা, গত কয়েক মাসে এ প্রশ্ন বারবার দেখা দিয়েছিল। অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের চিত্র পর্যালোচনা করলে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকে না। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালে নভেম্বর মাসের ২৮ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ শতাধিক রোগী, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ। অনেকে মনে করেন, ডেঙ্গু নিয়ে সারা বছরের যে চিত্র আমরা পাচ্ছি, তা প্রকৃত চিত্র নয়।

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। তাই ভোগান্তির আশঙ্কায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে যাননি। ফলে সেসব অসুস্থ ব্যক্তি করোনা নাকি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন। এদের মধ্যে রাজধানীতে ২৬ জন ও রাজধানীর বাইরের হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩ জন। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮৮। যার মধ্যে রাজধানীতে ৭২ জন ও রাজধানীর বাইরে ১৬ জন। ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ১৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু তথ্য পাওয়া গেলেও আইইডিসিআর ৪ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে।

লক্ষ করা যাচ্ছে, রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে অনেকেই মনে করতেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া- এসব রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা। উল্লিখিত তথ্যে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে, এডিস মশা রাজধানীর বাইরেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ বছর অক্টোবর ও নভেম্বরে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ তথ্য বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ডেঙ্গুসংক্রান্ত আমাদের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত না থাকলে মৌসুমের আগে-পরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে; যার আভাস এবার পাওয়া গেল। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র কিভাবে ধ্বংস করতে হবে, তা বহুল আলোচিত। কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুফল মিলবে।