প্রতিরোধই বাঁচার উপায়
jugantor
প্রতিরোধই বাঁচার উপায়

  শহিদুল ইসলাম  

০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাইজেরীয় সঙ্গীত শিল্পী ও রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ফেলা আনিকুলাপো কুটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন এবং ব্যক্তিগত সাহসিকতার জন্য এক বিশাল ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তার ওপর রাষ্ট্রীয় জেল-জুলুম চালানো হয়। সামরিক বাহিনী তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চেয়েও পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ধরাশায়ী করে ঘাতক ব্যাধি এইডস।

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome) একটি ভয়ানক সংক্রামক রোগ। প্যারিসের পাস্তুর ইন্সটিটিউট অব হেলথের অধ্যাপক মন্টেনার ১৯৮৩ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের ড. গ্যানো ১৯৮৪ সালে এইডস ভাইরাস আবিষ্কার করেন। পরবর্তীকালে ১৯৮৫ সালে ভাইরাসটির নামকরণ করা হয় এইচআইভি (Human, Immune deficiency Virus-HIV)।

মানবদেহে জীবাণু প্রবেশ করে যাতে তাকে ধ্বংস করতে না পারে সে জন্য তার দেহের ভেতর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। রক্তের শ্বেতকণিকা বিভিন্ন রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। এ শ্বেতকণিকার মধ্যে T-4 Helper Lymphocyte শরীরের রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এইচআইভি রক্তে প্রবেশ করে T-4 Helper Lymphocyte-কে আক্রমণ করে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতে অনেক রোগ একত্রে আক্রমণ করে রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। এই ব্যাধি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। শতকরা ৯৫ ভাগ নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উন্নয়নশীল দেশে, তা আমাদের শঙ্কিত না করে পারে না। প্রতি ১০ সেকেন্ডে ২৫ বছরের কমবয়সী তরুণ-তরুণীর একজন এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে এইডস আক্রান্ত লোকের সংখ্যা কমপক্ষে সাড়ে ৩ কোটি।

এইচআইভির জীবাণু বহনকারী ব্যক্তির দেহে এইডস রোগ বাসা বাঁধতে ৮ মাস থেকে ১০ বছর সময় লাগে। এইচআইভি চার উপায়ে শরীরের ভেতর প্রবেশ করে : ১. এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের মাধ্যমে; ২. এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির রক্ত বা রক্তজাত উপাদান সুস্থ ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে; ৩. এইচআইভি সংক্রমিত ইনজেশনের সুচ, সিরিঞ্জ, দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে; ৪. এইডস আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভস্থ শিশুর দেহে এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে। এ রোগের কার্যকর চিকিৎসার ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। প্রতিরোধে করণীয়- ১. বৈধ যৌন সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে, ২. নিরাপদ রক্ত প্রদান নিশ্চিত করা, ৩. অস্ত্রোপচারে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা, ৪. ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা। দেশের তরুণ শ্রেণি এইডসে সংক্রমিত হচ্ছে বেশি।

এইডস থেকে নিজেকে এবং সমাজ ও মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। যুবক শ্রেণির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আমাদের আবাসভূমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসের উপযুক্ত করে রেখে যাব- এটা হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।

শহিদুল ইসলাম : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

[email protected]

প্রতিরোধই বাঁচার উপায়

 শহিদুল ইসলাম 
০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাইজেরীয় সঙ্গীত শিল্পী ও রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ফেলা আনিকুলাপো কুটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন এবং ব্যক্তিগত সাহসিকতার জন্য এক বিশাল ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তার ওপর রাষ্ট্রীয় জেল-জুলুম চালানো হয়। সামরিক বাহিনী তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চেয়েও পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ধরাশায়ী করে ঘাতক ব্যাধি এইডস।

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome) একটি ভয়ানক সংক্রামক রোগ। প্যারিসের পাস্তুর ইন্সটিটিউট অব হেলথের অধ্যাপক মন্টেনার ১৯৮৩ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের ড. গ্যানো ১৯৮৪ সালে এইডস ভাইরাস আবিষ্কার করেন। পরবর্তীকালে ১৯৮৫ সালে ভাইরাসটির নামকরণ করা হয় এইচআইভি (Human, Immune deficiency Virus-HIV)।

মানবদেহে জীবাণু প্রবেশ করে যাতে তাকে ধ্বংস করতে না পারে সে জন্য তার দেহের ভেতর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। রক্তের শ্বেতকণিকা বিভিন্ন রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। এ শ্বেতকণিকার মধ্যে T-4 Helper Lymphocyte শরীরের রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এইচআইভি রক্তে প্রবেশ করে T-4 Helper Lymphocyte-কে আক্রমণ করে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতে অনেক রোগ একত্রে আক্রমণ করে রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। এই ব্যাধি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। শতকরা ৯৫ ভাগ নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উন্নয়নশীল দেশে, তা আমাদের শঙ্কিত না করে পারে না। প্রতি ১০ সেকেন্ডে ২৫ বছরের কমবয়সী তরুণ-তরুণীর একজন এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে এইডস আক্রান্ত লোকের সংখ্যা কমপক্ষে সাড়ে ৩ কোটি।

এইচআইভির জীবাণু বহনকারী ব্যক্তির দেহে এইডস রোগ বাসা বাঁধতে ৮ মাস থেকে ১০ বছর সময় লাগে। এইচআইভি চার উপায়ে শরীরের ভেতর প্রবেশ করে : ১. এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের মাধ্যমে; ২. এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির রক্ত বা রক্তজাত উপাদান সুস্থ ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে; ৩. এইচআইভি সংক্রমিত ইনজেশনের সুচ, সিরিঞ্জ, দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে; ৪. এইডস আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভস্থ শিশুর দেহে এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে। এ রোগের কার্যকর চিকিৎসার ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। প্রতিরোধে করণীয়- ১. বৈধ যৌন সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে, ২. নিরাপদ রক্ত প্রদান নিশ্চিত করা, ৩. অস্ত্রোপচারে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা, ৪. ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা। দেশের তরুণ শ্রেণি এইডসে সংক্রমিত হচ্ছে বেশি।

এইডস থেকে নিজেকে এবং সমাজ ও মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। যুবক শ্রেণির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আমাদের আবাসভূমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসের উপযুক্ত করে রেখে যাব- এটা হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।

শহিদুল ইসলাম : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

[email protected]