খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার
jugantor
খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার
আর্থিক খাতের এ দুই দুষ্ট খতের নিরাময় জরুরি

  বাতায়ন  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের আর্থিক খাতের দুটি দুষ্ট খত হল খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার। এ দুটির মধ্যে আবার পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাপি ব্যাংকঋণের সিংহভাগ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অন্যভাবে বলা যায়, অর্থ পাচারের সুযোগ রয়েছে বলে খেলাপি ঋণও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এর সিংহভাগই মাত্র ২৫টি ব্যাংকের দায়। স্থিতির দিক থেকে তালিকার শীর্ষে থাকা ২৫ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ৩৫০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ৪২ হাজার ২২১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে খোয়া যাওয়া এসব টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের অর্থ আর কখনই ব্যাংকগুলো উদ্ধার করতে পারবে না। দেশের স্বার্থেই আর্থিক খাতকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা জরুরি। বন্ধ করতে হবে খেলাপি ঋণের প্রবণতা ও অর্থ পাচার উভয়ই।

দেশ থেকে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, এ তথ্য নতুন নয়। অর্থ পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চার সংস্থার রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে ভয়াবহ আকারে টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাচারের অর্থের বেশির ভাগই যায় সুনির্দিষ্ট ১০টি দেশে। এক্ষেত্রে তুলনামূলক কর কম এবং আইনের শাসন আছে এমন দেশকেই বেছে নিচ্ছে অপরাধীরা। দেশগুলো হল- সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড।

অর্থ পাচার রোধে শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। টাকা পাচারের একটি বড় কারণ দুর্নীতি।

এ দুর্নীতির মধ্যে অন্যতম ব্যাংক থেকে ঋণসহ নানা পন্থায় টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং তা পরিশোধ না করা। বস্তুত দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দুর্বল নজরদারি, আইনের শাসনের ঘাটতি ইত্যাদিও অর্থ পাচারের কারণ। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়গুলোতে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

সেই সঙ্গে যেসব উপায়ে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সেই ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে হবে। লক্ষ করা গেছে, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীরা দেশে রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী।

এ কারণে আর্থিক খাতের এ দুই দুষ্ট খত নিরাময়ে দরকার সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বস্তুত অর্থ পাচার রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এবং একই সঙ্গে দুর্নীতি কমলে অর্থ পাচার হ্রাস পাবে। তবে এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার

আর্থিক খাতের এ দুই দুষ্ট খতের নিরাময় জরুরি
 বাতায়ন 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের আর্থিক খাতের দুটি দুষ্ট খত হল খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার। এ দুটির মধ্যে আবার পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাপি ব্যাংকঋণের সিংহভাগ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অন্যভাবে বলা যায়, অর্থ পাচারের সুযোগ রয়েছে বলে খেলাপি ঋণও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এর সিংহভাগই মাত্র ২৫টি ব্যাংকের দায়। স্থিতির দিক থেকে তালিকার শীর্ষে থাকা ২৫ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ৩৫০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ৪২ হাজার ২২১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে খোয়া যাওয়া এসব টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের অর্থ আর কখনই ব্যাংকগুলো উদ্ধার করতে পারবে না। দেশের স্বার্থেই আর্থিক খাতকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা জরুরি। বন্ধ করতে হবে খেলাপি ঋণের প্রবণতা ও অর্থ পাচার উভয়ই।

দেশ থেকে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, এ তথ্য নতুন নয়। অর্থ পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চার সংস্থার রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে ভয়াবহ আকারে টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাচারের অর্থের বেশির ভাগই যায় সুনির্দিষ্ট ১০টি দেশে। এক্ষেত্রে তুলনামূলক কর কম এবং আইনের শাসন আছে এমন দেশকেই বেছে নিচ্ছে অপরাধীরা। দেশগুলো হল- সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড।

অর্থ পাচার রোধে শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। টাকা পাচারের একটি বড় কারণ দুর্নীতি।

এ দুর্নীতির মধ্যে অন্যতম ব্যাংক থেকে ঋণসহ নানা পন্থায় টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং তা পরিশোধ না করা। বস্তুত দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দুর্বল নজরদারি, আইনের শাসনের ঘাটতি ইত্যাদিও অর্থ পাচারের কারণ। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়গুলোতে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

সেই সঙ্গে যেসব উপায়ে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সেই ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে হবে। লক্ষ করা গেছে, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীরা দেশে রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী।

এ কারণে আর্থিক খাতের এ দুই দুষ্ট খত নিরাময়ে দরকার সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বস্তুত অর্থ পাচার রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এবং একই সঙ্গে দুর্নীতি কমলে অর্থ পাচার হ্রাস পাবে। তবে এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।