মুদ্রণ সংকটে বিনামূল্যের পাঠ্যবই
jugantor
মুদ্রণ সংকটে বিনামূল্যের পাঠ্যবই
নির্দিষ্ট সময়েই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের শুরুতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যের বই বিতরণের বিষয়টিকে সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।

এবার নানা জটিলতায় আটকে গেছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রকল্প। খবরটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। জানা গেছে, মূল তিন কারণে তৈরি হয়েছে সংকট।

প্রথমত, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বই মুদ্রণের ছাড়পত্র। দ্বিতীয়ত, ছাপা হওয়ার পরে বই সরবরাহের অনুমতি পেতে পার হতে হচ্ছে দীর্ঘ আমলতান্ত্রিক জটিলতার পথ। তৃতীয়ত, বইয়ের কাভারের ভেতরের অংশে জাতীয় ব্যক্তিত্বদের ছবি সংযুক্ত করায় মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় নেমে এসেছে ধীরগতি।

এসব সংকটের কারণে এবারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের বই পৌঁছানোর যে প্রথা চালু আছে, তার ব্যত্যয় ঘটতে চলেছে এবার। এ সময়ের মধ্যে সর্বসাকুল্যে ৬০ শতাংশ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত বুধবার পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক- এ দুই স্তরের মাত্র ২৪ শতাংশ বই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনামূল্যের বই সরবরাহ করা না গেলে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রতি বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অপেক্ষায় থাকেন এ বই পাওয়ার জন্য। এবার নির্দিষ্ট সময়ে বই সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

তবে এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক) অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান যুগান্তরকে বলেছেন, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ ভালোই চলছে। অবশ্য ‘কাজ ভালোই চলছে’ মানে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছানো সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট হয়নি।

আমরা মনে করি, যে তিন সংকটের কারণে বিনামূল্যের বই ছাপানোর কাজ আটকে আছে, তা নিরসন করা খুব কঠিন কাজ নয়। মুদ্রাকর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিক হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেয়া সম্ভব হবে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে।

প্রাথমিকের বই হয়তো শেষ পর্যন্ত ছাপানো সম্ভব হবে; কিন্তু মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি হওয়ায় এ স্তরের বই নিয়ে ঝামেলা বেশি হচ্ছে। এ ঝামেলা কাটিয়ে উঠতে হবে অবশ্যই।

মুদ্রণ সংকটে বিনামূল্যের পাঠ্যবই

নির্দিষ্ট সময়েই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের শুরুতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যের বই বিতরণের বিষয়টিকে সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।

এবার নানা জটিলতায় আটকে গেছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রকল্প। খবরটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। জানা গেছে, মূল তিন কারণে তৈরি হয়েছে সংকট।

প্রথমত, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বই মুদ্রণের ছাড়পত্র। দ্বিতীয়ত, ছাপা হওয়ার পরে বই সরবরাহের অনুমতি পেতে পার হতে হচ্ছে দীর্ঘ আমলতান্ত্রিক জটিলতার পথ। তৃতীয়ত, বইয়ের কাভারের ভেতরের অংশে জাতীয় ব্যক্তিত্বদের ছবি সংযুক্ত করায় মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় নেমে এসেছে ধীরগতি।

এসব সংকটের কারণে এবারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের বই পৌঁছানোর যে প্রথা চালু আছে, তার ব্যত্যয় ঘটতে চলেছে এবার। এ সময়ের মধ্যে সর্বসাকুল্যে ৬০ শতাংশ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত বুধবার পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক- এ দুই স্তরের মাত্র ২৪ শতাংশ বই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনামূল্যের বই সরবরাহ করা না গেলে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রতি বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অপেক্ষায় থাকেন এ বই পাওয়ার জন্য। এবার নির্দিষ্ট সময়ে বই সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

তবে এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক) অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান যুগান্তরকে বলেছেন, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ ভালোই চলছে। অবশ্য ‘কাজ ভালোই চলছে’ মানে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছানো সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট হয়নি।

আমরা মনে করি, যে তিন সংকটের কারণে বিনামূল্যের বই ছাপানোর কাজ আটকে আছে, তা নিরসন করা খুব কঠিন কাজ নয়। মুদ্রাকর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিক হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেয়া সম্ভব হবে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে।

প্রাথমিকের বই হয়তো শেষ পর্যন্ত ছাপানো সম্ভব হবে; কিন্তু মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি হওয়ায় এ স্তরের বই নিয়ে ঝামেলা বেশি হচ্ছে। এ ঝামেলা কাটিয়ে উঠতে হবে অবশ্যই।